Hindustan Motors: হিন্দমোটরে ফের শিল্পের সম্ভাবনা! বন্ধ কারখানার জমিতেই তৈরি হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি
KOLKATA: Hindustan Motors বা একসময়ের গর্বের হিন্দুস্থান মোটরসের বন্ধ কারখানার জমিতে ফের একবার শিল্পের নতুন জোয়ার আসার এক অভাবনীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে যে বিশাল কারখানা চত্বর কার্যত শ্মশানের নিস্তব্ধতায় ডুবে ছিল, সেখানে ফের আধুনিক প্রযুক্তির সাইরেন বাজার মেগা আশা দেখছেন হুগলি শিল্পাঞ্চলের মানুষ। বিভিন্ন সূত্রের খবর এবং সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, উত্তরপাড়ার এই ঐতিহ্যবাহী পরিত্যক্ত জমিতে এবার অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) বা বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির এক কারখানার প্রস্তাব সামনে এসেছে। খোদ হিন্দুস্থান মোটরস কর্তৃপক্ষ এই বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হবে।

হুগলি জেলার শিল্প মানচিত্রে উত্তরপাড়ার এই সুবিশাল কারখানা একসময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। প্রায় ৭০০ একর বিশাল জমির ওপর দেশের প্রথম গাড়ি কারখানা হিসেবে বিড়লা গোষ্ঠীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল এই হিন্দুস্থান মোটরস। এই কারখানাকে কেন্দ্র করেই হাজার হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছিল, এমনকি এই কারখানার নাম অনুসারেই উত্তরপাড়া এবং কোন্নগরের মাঝে ‘হিন্দমোটর’ নামে একটি আস্ত ব্যস্ত রেলওয়ে স্টেশনও গড়ে উঠেছিল। কিন্তু বিগত বছরগুলিতে ডানলপ বা হিন্দুস্থান মোটরসের মতো একের পর এক বড় শিল্পের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হুগলির শিল্পাঞ্চল কার্যত ধুঁকতে শুরু করেছিল।
আরও পড়ুন: Hindustan Motors: হিন্দমোটরে ফের শিল্পের সম্ভাবনা! বন্ধ কারখানার জমিতেই তৈরি হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি
একটা সময় ছিল যখন এই কারখানায় তৈরি হওয়া বিখ্যাত ‘অ্যাম্বাসাডর’ (Ambassador) গাড়ি দেশ থেকে বিদেশ—সর্বত্র প্রবল সমাদৃত ছিল। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভিআইপি, আমলা বা তাবড় নেতা-মন্ত্রীদের প্রথম পছন্দের গাড়িই ছিল এই ঐতিহ্যবাহী অ্যাম্বাসাডর। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কড়া চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অ্যাম্বাসাডর গাড়ির প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, অন্যান্য আধুনিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ক্রমশ পিছিয়ে পড়তে শুরু করে এই সংস্থা। দীর্ঘ আর্থিক সংকট এবং লোকসানের জেরে অবশেষে ২০১৪ সালে হিন্দুস্থান মোটরস কারখানার ঝাঁপ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শুধুমাত্র যে হাজার হাজার শ্রমিক রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন তা নয়, কারখানাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতি এবং ছোটবড় ব্যবসাবাণিজ্যেও এক চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে কারখানার সেই বিশাল পরিমাণ জমি কিন্তু পুরোপুরি ফেলে রাখা হয়নি। প্রশাসন ও অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই মোট জমির মধ্যে প্রায় ৩০০ একর জমি একটি বেসরকারি আবাসন প্রকল্প নির্মাণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া, টিটাগড় ওয়াগন কারখানার মেগা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আরও ৪০ একর জমি তাদের প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: SRFTI: ক্যাম্পাসে বহিরাগত তাণ্ডব! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ঋত্বিক, টলিউডের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ঊষসীর
বর্তমানে এই সমস্ত হস্তান্তরের পর হিন্দুস্থান মোটরস কারখানার যে অবশিষ্ট জমি পড়ে রয়েছে, সেখানেই এই নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকেল তৈরির মেগা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ রোধে এবং আধুনিকায়নের স্বার্থে সারা বিশ্বেই বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা তুঙ্গে। সেই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে যদি এই কারখানায় ফের উৎপাদন শুরু হয়, তবে হুগলি জেলার অর্থনৈতিক চেহারাই আমূল বদলে যাবে। এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী দিনে এই অঞ্চলে ফের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে গভীর আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রাক্তন শ্রমিকরা।




