Gyanesh Kumar: আইআইটি থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার! বিতর্কে মোড়া জ্ঞানেশের অজানা যাত্রাপথ
NEW DELHI: Gyanesh Kumar বর্তমানে দেশের অন্যতম চর্চিত এবং বিতর্কিত আমলা হিসেবে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। গত কয়েক দিন ধরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের শীর্ষপদে বসে তাঁর নেওয়া একাধিক মেগা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র আপত্তি তোলা হয়েছে। বিশেষ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে চরম কটাক্ষ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের মামলা। গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যখন তিনি ভারতের ছাব্বিশতম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন অনেকেই তাঁর বর্ণময় অতীত কেরিয়ার নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। কিন্তু মাত্র উনিশ মাসের মাথাতেই তিনি তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশজুড়ে বিরোধী দলগুলি একযোগে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মেগা সরব হয়েছে।

দেশের এই শীর্ষ আমলার অতীত জীবন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অত্যন্ত চমকপ্রদ। বাষট্টি বছর বয়সী এই দুঁদে আইএএস অফিসারের জন্ম উত্তরপ্রদেশের আগ্রায়। তিনি আইআইটি কানপুর থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হওয়ার পর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশগত অর্থনীতি নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৯৮৮ সালের কেরল ক্যাডারের এই আইএএস অফিসার কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেরল রাজ্য প্রশাসনে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে মেগা সাফল্য আসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে দায়িত্ব পালনের সময়। ঐতিহাসিক ৩৭০ ধারা বাতিলের মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সুপ্রিম কোর্টের মেগা রায়ের পর অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট গঠনের জটিল প্রক্রিয়ায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও প্রতিরক্ষা ও সমবায় মন্ত্রকের শীর্ষপদে তাঁর কাজের ট্র্যাক রেকর্ড যথেষ্ট ঈর্ষণীয় ছিল।

আরও পড়ুন: Baba Vanga Rashifal: বাবা ভাঙ্গার মেগা ভবিষ্যৎবাণী! আজ কোন রাশির চরম সৌভাগ্য আর কাদের পদে পদে বিপদ?
নির্বাচন কমিশনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিতর্ক দানা বাঁধে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য যে ‘স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল, তা ঘিরেই মূলত মেগা বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় তেরো কোটিরও বেশি সাধারণ ভোটারের নাম বাদ পড়ে গিয়েছে। সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কমিশনের বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী নাকি তাঁর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মেগা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত দশ মাসে অন্তত চোদ্দো বার ওই দুই কমিশনার লিখিতভাবে কমিশনের নামে নেওয়া বিভিন্ন নির্দেশ নিয়ে চরম আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি জ্ঞানেশ এককভাবে গ্রহণ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিরোধী শিবির প্রথম থেকেই চরম আপত্তি জানিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের অধীনে তাঁকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই মেগা পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। ওই বিতর্কিত আইনে নির্বাচন প্যানেল থেকে খোদ ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার ফলে সরকার পক্ষের পাল্লাই ভারী হয়ে দাঁড়ায়। প্যানেলের একমাত্র বিরোধী সদস্য হিসেবে রাহুল গান্ধী সেই সময় এই নিয়োগ স্থগিত রাখার মেগা দাবি তুলেছিলেন। সম্প্রতি সেই রাহুল গান্ধীই যখন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগ তোলেন, তখন জ্ঞানেশ পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তাঁকে প্রমাণ দেওয়ার কথা বলেন। বর্তমানে তাঁর নিয়োগের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।

আরও পড়ুন: Sushant Singh Rajput: পা ভাঙা, শরীরে বন্দুকের ক্ষতচিহ্ন! ময়নাতদন্ত নিয়ে মেগা বোমা সুশান্তের দিদির
শুধু তিনি নিজেই নন, বর্তমানে তাঁর কন্যা তথা উত্তরপ্রদেশের নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমও এক বিরাট আইনি এবং প্রশাসনিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। চলতি বছরে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় বঙ্গতনয়া আকৃতি চৌধুরী নামের এক স্নাতক স্তরের ছাত্রীর বিরুদ্ধে মেধার নির্দেশে অত্যন্ত কড়া জাতীয় নিরাপত্তা আইন বা এনএসএ (NSA) প্রয়োগ করা হয়েছিল। টানা পাঁচ মাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই মেগা নির্দেশ বাতিল করে দেয় এবং জেলাশাসকের ভূমিকাকে ‘উপহাসের যোগ্য’ বলে কড়া ভর্ৎসনা করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শুধুমাত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করার তাগিদে এমন আইন প্রয়োগ করা যায় না। ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেধা এবং অন্যান্য আধিকারিকদের বেতন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার মেগা নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মেধা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও, বাবা এবং মেয়ের এই জোড়া বিতর্ক কুমার পরিবারকে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।




