Sushant Singh Rajput: পা ভাঙা, বন্দুকের ক্ষত! ময়নাতদন্ত নিয়ে বোমা দিদির
Sushant Singh Rajput বা বলিউডের উজ্জ্বল ও প্রতিভাবান এই প্রয়াত অভিনেতার রহস্যজনক মৃ*ত্যু নিয়ে দীর্ঘ সময় পর ফের এক ভয়ংকর এবং রোমহর্ষক তথ্য জনসমক্ষে চলে এল। প্রায় চার বছর আগে মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর গোটা দেশজুড়ে যে সুবিশাল আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল, সময়ের সাথে সাথে তা কিছুটা স্তিমিত হলেও এই ঘটনার নেপথ্যের রহস্য কিন্তু আজও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। তবে এবার অভিনেতার নিজের দিদি শ্বেতা সিং কীর্তি একটি প্রকাশ্য ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সরাসরি ভাইয়ের ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর গোপন তথ্য ফাঁস করে গোটা বিনোদন দুনিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এক তীব্র ভূকম্পন সৃষ্টি করেছেন। ভাইয়ের নিথর দেহের ময়নাতদন্তের সাথে সরাসরি যুক্ত এক ব্যক্তির চাঞ্চল্যকর বয়ানকে সামনে এনে তিনি দাবি করেছেন যে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, বরং সুশান্তের নিথর শরীরে স্পষ্ট ছিল চরম পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন। এই মেগা দাবির পর নতুন করে সুশান্তের রহস্য মৃ*ত্যু নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই অত্যন্ত আবেগঘন ভিডিও বার্তায় শ্বেতা সিং কীর্তি স্পষ্ট জানান যে, সম্প্রতি তাঁরা এমন এক ব্যক্তির মারফত নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছেন যিনি ঘটনার দিন সরাসরি সুশান্তের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর বয়ান অনুযায়ী শ্বেতা দাবি করেন যে, অভিনেতার একটি পা আগে থেকেই ভাঙা অবস্থায় ছিল এবং তাঁর সারা শরীরে চরম বলপ্রয়োগের মারাত্মক নিদর্শন লক্ষ করা গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, অভিনেতার সংবেদনশীল চোখের ওপরেও ছিল গভীর কালশিটে আ*ঘাতের দাগ। সবথেকে শিরদাঁড়া হিম করা দাবিটি করে শ্বেতা জানান, ময়নাতদন্তকারী ব্যক্তি তাঁদের জানিয়েছেন যে সুশান্তের শরীরে স্পষ্ট বন্দুক ঠেকিয়ে নির্যাতন করার মতো গোল ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। যদিও এই চাঞ্চল্যকর দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো লিখিত বা ফরেনসিক নথি তিনি ভিডিওতে প্রকাশ করেননি, তবুও তাঁর এই দাবি এক লহমায় ফের সেই পুরনো বিতর্ককে এক ধাক্কায় জাগিয়ে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ Swara Bhasker: বিয়ের আগেই বেনামি শুক্রাণু দিয়ে মা হওয়ার চেষ্টা! বোমা ফাটিয়ে মেগা বিতর্কে স্বরা।
ভাইয়ের মর্মান্তিক প্রয়াণের পর দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া শ্বেতা সম্প্রতি আটলান্টা থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন। নিজের দেশে পা রাখার পর তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেই কথাও তিনি ভিডিওতে অত্যন্ত আবেগভরা কণ্ঠে ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানান, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় শত শত সাধারণ মানুষ এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সুশান্তের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। বহু অচেনা মানুষ তাঁকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে চোখের জল ফেলে জানিয়েছেন যে, সুশান্তের সাথে যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক ছিল না এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁদের হৃদয় আজও কাঁদছে। সাধারণ মানুষের এই অফুরন্ত ভালোবাসা এবং সমর্থন দেখেই শ্বেতা উপলব্ধি করেছেন যে, সরকারি ফাইলবন্দি তদন্ত যাই বলুক না কেন, কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে সুশান্ত সিং রাজপুত আজও এক জীবন্ত প্রশ্নচিহ্ন হয়ে রয়েছেন।

তবে নিজের পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া এত বড় অপূরণীয় ক্ষতি এবং অকথ্য যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে শ্বেতা কোনো অন্ধ আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটাননি। তিনি অত্যন্ত পরিণত ভাষায় জানান যে, নিজের সবচেয়ে আদরের অনুজকে এভাবে হারিয়ে ফেলা এবং তাঁর ওপর চলা নারকীয় অত্যাচারের খবর জানার পর অভিযুক্তদের ক্ষমা করা পৃথিবীর যেকোনো মানুষের পক্ষেই কার্যত অসম্ভব একটি বিষয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি নিজের মনকে কখনোই ব্যক্তিগত ঘৃণা, পরশ্রীকাতরতা কিংবা অন্ধ প্রতিশোধস্পৃহার বিষবাষ্পে ডুবিয়ে রাখতে চান না। শ্বেতা দৃঢ়তার সাথে জানান যে, তাঁর জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভালোবাসা, ঈশ্বরভক্তি, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং পরম সত্যের পাশে অবিচল থাকা। পৃথিবীর বুকে কোটি কোটি খারাপ বা অশুভ শক্তির উপস্থিতি সত্ত্বেও ভালো মানুষ যেন কোনো অবস্থাতেই পরম করুণাময়ের ওপর থেকে নিজের বিশ্বাস এবং আস্থা হারিয়ে না ফেলেন, সেই মানবিক বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ Deepak Bapari: দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে এনআইএ-র হাতে গ্রে*প্তার ইউটিউবার!
২০২০ সালের ১৪ জুন মুম্বইয়ের বান্দ্রায় নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছিল এই প্রতিভাবান অভিনেতার ঝুলন্ত দেহ। মুম্বই পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনাটিকে আত্মহ*ত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার মেগা চেষ্টা করা হলেও, সুশান্তের অগণিত ভক্ত এবং পরিবারের জোরালো প্রতিবাদের মুখে জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে সিবিআই, ইডি এবং এনসিবি-র মতো একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থাকে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির চূড়ান্ত চার্জশিট এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা। সেই চরম অনিশ্চয়তার আবহে শ্বেতার এই ময়নাতদন্তকারী ব্যক্তির বয়ান তুলে ধরে করা বিস্ফোরক দাবিটি মামলার মোড় সম্পূর্ণ নতুন দিকে ঘুরিয়ে দিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সুশান্তের অনুরাগীরা এখন নতুন করে দাবি তুলছেন, এই নতুন দাবির ভিত্তিতে অবিলম্বে পুরনো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্যকে প্রকাশ করতে হবে।




