Bangladesh Durga Puja: দুর্গাপুজোয় ৫ দিনের ছুটি! ১টি বিরাট চমক দিলেন তারেক
Bangladesh Durga Puja: শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষে উৎসবের মেজাজ এবার প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশেও। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন জয় করতে এবং তাদের আবেগ মেরামতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল বর্তমান বিএনপি সরকার। দুর্গাপুজো উপলক্ষে বাংলাদেশে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শুধু ছুটি ঘোষণাতেই থেমে থাকেনি সরকার, হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য সরকারি অনুদানের পরিমাণও প্রত্যাশার চেয়ে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত দিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া নানা বঞ্চনার অভিযোগ মুছে ফেলে নতুন করে তাদের আস্থা অর্জন করতেই এই ধরনের উদার নীতি গ্রহণ করেছে বর্তমান প্রশাসন। দুর্গাপুজো এবং অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব যাতে সম্পূর্ণ শান্তি ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, তার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওপার বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এক নতুন উৎসাহ এবং উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে, যা আসন্ন শারদোৎসবকে আরও বেশি প্রাণবন্ত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বছরের সরকারি ছুটির তালিকা এবং প্রশাসনের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপুজো উপলক্ষে টানা পাঁচ দিন ছুটির আনন্দে মাতবেন বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীরা। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহা নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশজুড়ে থাকবে সাধারণ সরকারি ছুটি। এর পরের দিন অর্থাৎ ২২ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত অফিস-আদালত খোলা থাকার কথা ছিল। কিন্তু সরকারি কর্মচারীদের উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ করতে প্রধানমন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করে ২২ অক্টোবরকেও সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ার কারণে তা সাপ্তাহিক ছুটির আওতায় পড়ছে। সব মিলিয়ে আগামী ২০ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। ছুটির এই দীর্ঘ মেয়াদ শুধু সরকারি কর্মীদেরই নয়, সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদেরও উৎসব উদযাপনের অনেক বড় সুযোগ করে দেবে।

আরও পড়ুনঃ Srijit Mukherji: সৃজিতের হাত ধরে পর্দায় ‘শাকচুন্নি’! ১টি বিরাট চমক দিলেন পরিচালক।
টানা পাঁচ দিনের এই দীর্ঘ সরকারি ছুটির সময়ে দেশের অন্যান্য পরিষেবা কীভাবে চলবে, তা নিয়েও একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। সাধারণত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের সমস্ত ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। তবে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো রকম আর্থিক লেনদেনে অসুবিধা না হয়, তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শাখা বা বিশেষ জরুরি পরিষেবা চালু রাখা হতে পারে। এর পাশাপাশি এটিএম (ATM) পরিষেবা, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মতো আধুনিক ডিজিটাল লেনদেনের পরিষেবাগুলি ছুটির দিনগুলোতেও সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকবে। তবে উৎসবের দিনগুলিতে যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জল সরবরাহের মতো অত্যন্ত জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবায় নিযুক্ত কর্মীদের ছুটির দিনেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম-সহ অত্যাবশ্যকীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এই ছুটির মধ্যে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আবেগ মেরামতে ছুটির পাশাপাশি আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রেও এবার বিশেষ উদারতা দেখিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রতি বছর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে দেশের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সরকারিভাবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবার সেই বরাদ্দের পরিমাণ এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, এবারের দুর্গাপুজোর সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চার কোটি টাকার অনুদান চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় এবং নিজস্ব উদ্যোগে সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়েও অতিরিক্ত এক কোটি টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে। সরকারের এই অপ্রত্যাশিত আর্থিক সাহায্য দেশের অসংখ্য পুজো মণ্ডপের আয়োজকদের অনেক বেশি স্বস্তি দেবে এবং উৎসবের জাঁকজমক বৃদ্ধি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়, দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রেও একইভাবে উদার আর্থিক নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব, যা ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত। এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ‘কঠিন চীবর দান’ অনুষ্ঠানের জন্যও সরকারি তহবিল থেকে বিশেষ আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট তাদের এই পবিত্র অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য সরকারের কাছে দুই কোটি টাকা অনুদান চেয়ে আবেদন করেছিল। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মতোই তাদের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। দুই কোটি টাকার বদলে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তিন কোটি টাকার অনুদান। সব মিলিয়ে সংখ্যালঘু এই দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে বাড়তি আর্থিক সাহায্য প্রদান করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্তরে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও সম্প্রীতির বার্তা দিতে চাইছে বিএনপি সরকার। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে সরকারের প্রতি নতুন করে ভরসা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।




