Rahul Gandhi Viral Post: বর্তমান যুগে সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া রাজনৈতিক প্রচার এবং বিতর্কের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন অসংখ্য ছবি, ভিডিও এবং মতামত ভাইরাল হচ্ছে ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। আর এই ভাইরাল ট্রেন্ডের নবতম সংযোজন হলো একটি অত্যন্ত বিতর্কিত পোস্ট, যা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ঝড়ের সৃষ্টি করেছে। প্রাক্তন এক বায়ুসেনা আধিকারিক তাঁর ব্যক্তিগত এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি কোলাজ ছবি পোস্ট করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাল ছবিতে লোকসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছাব্বিশে নভেম্বরের মুম্বই পরিস্থিতির অন্যতম দোষী সাব্যস্ত অপরাধী আজমল কাসাবের সরাসরি তুলনা টানা হয়েছে। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় এবং সাংবিধানিক পদে থাকা জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন একজন দাগী অপরাধীর ছবি পাশাপাশি রেখে মন্তব্য করায় কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই Rahul Gandhi Viral Post কেবল রাজনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে এবং অনেকেই এই ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

আরও পড়ুনঃ Srijit Mukherji: সৃজিতের হাত ধরে পর্দায় ‘শাকচুন্নি’! ১টি বিরাট চমক দিলেন পরিচালক।
ভাইরাল হওয়া ওই বিতর্কিত পোস্টটির নেপথ্যে রয়েছেন অনুপ বর্মা নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় বায়ুসেনা আধিকারিক। তিনি তাঁর সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে একটি গ্রাফিক্যাল কোলাজ শেয়ার করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, একদিকে রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং ঠিক তাঁর পাশেই রাখা হয়েছে আজমল কাসাবের ছবি। একটি বিশেষ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই তুলনা টানা হয়েছে, আর তা হলো দুজনের হাতেই থাকা একটি ব্যাগ। ছবির বাঁ দিকে থাকা কংগ্রেস নেতার হাতে একটি ব্যাগ রয়েছে এবং ডানদিকে থাকা ওই অপরাধীর হাতেও একটি ব্যাগ দেখা যাচ্ছে। ছবিটি পোস্ট করার পাশাপাশি অনুপ বর্মা একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ক্যাপশন জুড়ে দেন। তিনি সেখানে লেখেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন ছবির বাঁ দিকে থাকা ব্যক্তিটি অর্থাৎ কংগ্রেস নেতা দেশের জন্য অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই একটি মাত্র বাক্যই আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই ভাইরাল দুনিয়ায় সস্তা প্রচার পাওয়ার জন্য এমন কুরুচিকর তুলনার আশ্রয় নেওয়া গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

আরও পড়ুনঃ Bigg Boss Bangla: জীতু না দুর্নিবার? বিগ বসের ভোটে চরম উত্তেজনা, রইল ৫টি আপডেট।
এই Rahul Gandhi Viral Post ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চরম প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে কংগ্রেস শিবির। দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এমন চরম অবমাননা মেনে নিতে পারেনি কংগ্রেস সেবা দল। কালবিলম্ব না করে তারা সরাসরি আইনি পদক্ষেপের রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কংগ্রেস সেবা দলের সাইবার সেল এবং লিগ্যাল সেলের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ওই অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিকের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক মতবিরোধ বা গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা সবসময় স্বাগত জানায়, কিন্তু এই ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কংগ্রেস নেতাদের মানহানি করার জন্য যারা সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের সাইবার আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবিধানের দেওয়া বাকস্বাধীনতার অধিকারের কথা মনে করিয়ে দিয়েও কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে যে, স্বাধীনতারও একটি সীমারেখা থাকে এবং সেই সীমা লঙ্ঘন করলে আইনি পথে তার মোকাবিলা করা হবে।

এই ভাইরাল পোস্টের জেরে শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতারাই নন, প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং আধিকারিকরাও চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। সামরিক বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে অনুপ বর্মার এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনা আধিকারিক সার্জেন্ট কর্মবীর সিংহ। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, একজন দোষী সাব্যস্ত অপরাধীর সঙ্গে দেশের একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির তুলনা করা কখনোই সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ হতে পারে না। এটি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমস্ত শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, সেনাবাহিনীতে বা বায়ুসেনায় কাজ করার গৌরবময় অভিজ্ঞতা কাউকে সমাজমাধ্যমে একজন সাধারণ রাজনৈতিক ট্রোলের মতো আচরণ করার ছাড়পত্র দেয় না। গণতন্ত্রে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার সবার রয়েছে, কিন্তু তার জন্য পারস্পরিক সম্মান ও ন্যূনতম শিষ্টাচার বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। একজন প্রবীণ সেনাকর্মীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন পোস্ট সেনবাহিনীর ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যে অপরাধীর সঙ্গে এই Rahul Gandhi Viral Post-এ তুলনা টানা হয়েছে, তার অতীত ইতিহাস দেশের বুকে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছিল। দু’হাজার আট সালের ছাব্বিশে নভেম্বর থেকে শুরু করে ঊনত্রিশে নভেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনায় একশো ছেষট্টি জন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং দুশো আটত্রিশ জন গুরুতর আহত হন। সেই সময় যে দশজন অপরাধী এই ঘটনা ঘটিয়েছিল, তাদের মধ্যে একমাত্র আজমল কাসাবই জীবিত অবস্থায় ধরা পড়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত তাকে সর্বোচ্চ সাজা শোনায় এবং পরবর্তীতে বম্বে হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। দু’হাজার বারো সালের একুশে নভেম্বর পুনের ইয়েরওয়াড়া জেলে তার জীবনের চূড়ান্ত অবসান ঘটানো হয়। দেশের ইতিহাসের এমন একজন কলঙ্কিত অপরাধীর সঙ্গে বর্তমান বিরোধী দলনেতার ছবি কোলাজ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা আসলে ভাইরাল হওয়ার এক বিকৃত মানসিকতাকেই তুলে ধরেছে। আপাতত সাইবার আইনের জালে এই ঘটনার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।




