Bigg Boss Bangla: জীতু না দুর্নিবার? বিগ বসের ভোটে চরম উত্তেজনা, রইল ৫টি আপডেট
Bigg Boss Bangla-এর অন্দরমহলে এখন পুরোদস্তুর ভোটের হাওয়া। বাংলার রাজ্য রাজনীতির মতোই রিয়্যালিটি শো-এর এই সিজনে প্রতিযোগীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ। এবারের লাক্সারি বাজেট টাস্ক হিসেবে বিগ বস প্রতিযোগীদের একটি আস্ত রাজনৈতিক খেলার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন, যা ঘিরে গোটা বাড়িতে শুরু হয়েছে ধুন্ধুমার কাণ্ড। প্রতিযোগীদের মূলত দুটি পৃথক রাজনৈতিক দলে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। একদিকে রয়েছে ‘আগুনপাখি’ দল, যার ক্যারিশম্যাটিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন গায়ক দুর্নিবার। তাঁর এই শক্তিশালী দলের অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঝিলম, তনুশ্রী এবং অনুষ্কা। অন্যদিকে, তাঁদের কড়া টক্কর দিতে তৈরি হয়েছে ‘নীল হরিণ’ দল, যার যোগ্য নেতা হিসেবে রণকৌশল সাজাচ্ছেন অভিনেতা জীতু। তাঁর দলের হয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছেন রাজবীর, মনামী এবং নন্দিনী। তবে এই খেলার সবচেয়ে বড় চমক হলো সাধারণ জনতা এবং নির্বাচন কমিশন। জনতা হিসেবে এই টাস্কে ভোটদানের অধিকার পেয়েছেন দীপেন্দু, সোনামণি, নিরঞ্জন এবং সৃজলা। আর এই গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ দেখভাল করার জন্য নির্বাচন কমিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা ভরত কলকে।
যেকোনো রাজনৈতিক খেলার মূল আকর্ষণই হলো ময়দানে নেমে প্রচার পর্ব, আর Bigg Boss Bangla-এর ঘরেও তার কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। টাস্ক শুরু হতেই দুই দল নিজেদের মতো করে ভোটের অঙ্ক কষতে শুরু করে দেয়। স্লোগান, দেওয়াল লিখন এবং সাধারণ জনতার মন জয়ের জন্য জোরদার প্রচার শুরু করে দুই পক্ষ। কিন্তু আসল নাটকীয়তার সূত্রপাত হয় তখন, যখন জীতুর নেতৃত্বাধীন ‘নীল হরিণ’ দল সাধারণ জনতার কাছে নিজেদের হয়ে প্রচার করতে যায়। জনতার দলে থাকা সৃজলা আচমকাই প্রচারের জন্য একটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং কঠিন শর্ত চাপিয়ে দেন। তিনি নীল হরিণ দলের সদস্যদের নির্দেশ দেন যে, তাঁদের কাঁচা লঙ্কা চিবিয়ে চিবিয়ে নিজেদের ভোটের প্রচার সংক্রান্ত কথা জনতার সামনে বলতে হবে। সৃজলার এই অভাবনীয় দাবি শুনেই কার্যত মাথায় হাত পড়ে যায় নীল হরিণ দলের সদস্যদের। এই আজব দাবি শুনে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানাতে শুরু করেন রাজবীর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নিছক একটি খেলার জন্য এমন অমানবিক শর্ত মেনে কোনোভাবেই প্রচার করা সম্ভব নয়। রাজবীরের কথায় সুর মিলিয়ে মনামীও এই শর্তের বিরুদ্ধে সরব হন এবং জানান যে, ভোটের প্রচারের নামে এমন কষ্টদায়ক শর্ত কোনোভাবেই চাপিয়ে দেওয়া যায় না।

কাঁচা লঙ্কা খাওয়ার এই শর্তকে কেন্দ্র করেই Bigg Boss Bangla-এর অন্দরমহলের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে চরম আকার ধারণ করে। রাজবীর এবং সৃজলার মধ্যে শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা। রাজবীর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে সৃজলাকে আক্রমণ করে বলেন যে, আপনারা সাধারণ জনতা হয়ে আসলে আমাদের এই খেলায় টিঁকে থাকতেই দিতে চাইছেন না, এটা সম্পূর্ণ একটা চক্রান্ত। রাজবীরের এই মারাত্মক অভিযোগ শুনে আসরে নামেন জনতার দলে থাকা সোনামণি। তিনি সৃজলার পক্ষ নিয়ে রাজবীরকে পালটা জবাব দিয়ে বলেন যে, নীল হরিণ দল মানসিকভাবে কতটা শক্তিশালী এবং তাঁদের ধৈর্য ঠিক কতটা, শুধুমাত্র সেটাই পরীক্ষা করে দেখতে চাইছে জনতা। কিন্তু সোনামণির এই যুক্তিতে চিঁড়ে ভেজেনি। সৃজলা অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান যে, কেউ চাইলে এই চ্যালেঞ্জ নাও নিতে পারেন, অন্য দলকেও এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই কথা কাটাকাটি অচিরেই এক মারাত্মক ঝগড়ায় পরিণত হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে জীতু হাতজোড় করে দুপক্ষকেই থামানোর মরিয়া চেষ্টা করেন। কিন্তু সৃজলা যখন বলেন যে, আগের সপ্তাহে কোনো কাজটা ঠিক হয়েছিল, তখন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সৃজলা রাজবীরকে স্পোর্টিংলি খেলার পরামর্শ দিয়ে বলেন যে তিনি নিজের আসল চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছেন, যা শুনে রাজবীর আরও বেশি রেগে যান। নিরঞ্জন সৃজলার শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তাঁকে বারবার শান্ত করার চেষ্টা করলেও, সৃজলা শান্ত হননি।
ভোটের এই কথার লড়াই খুব দ্রুত শারীরিক আক্রোশ এবং ভাঙচুরে গিয়ে পৌঁছয়, যা Bigg Boss Bangla-এর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রাজবীর বিপক্ষ দল অর্থাৎ আগুনপাখির প্রতীকের পতাকা তুলে ফেলে দেন। রাজবীরের এই আগ্রাসী আচরণ দেখে চুপ করে বসে থাকেননি বিপক্ষ দলের সদস্যরাও। রাজবীর পতাকা ফেলে দেওয়ার পালটা হিসেবে অনুষ্কা সরাসরি নীল হরিণ দলের পতাকা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দেন। পতাকার এই অবমাননা এবং ধ্বংসলীলা দেখে গোটা বাড়ি কার্যত রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। নিজের দলের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার চরম প্রতিবাদ জানিয়ে রাজবীরের সঙ্গে ব্যাপক হাতাহাতি ও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তনুশ্রী এবং অনুষ্কা। দুই দলের সদস্যদের মধ্যে চলতে থাকা এই চরম বিশৃঙ্খলা এবং চেঁচামেচিতে বিগ বসের বাড়ির স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা ভরত কলও এই আচমকা তৈরি হওয়া উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খান। প্রতিযোগীরা যেন ভুলে যান যে তাঁরা একটি খেলায় রয়েছেন, প্রত্যেকের চোখমুখেই ছিল শুধুই রাজনৈতিক প্রতিশোধ এবং যেকোনো উপায়ে জয়ী হওয়ার এক অন্ধ স্পৃহা।

আরও পড়ুনঃ CISF Camp Firing: কাঠুয়ায় সহকর্মীর এলোপাথাড়ি গুলিতে নিহত ৪ সিআইএসএফ জওয়ান! গ্রেপ্তার অভিযুক্ত।
এই চরম বিশৃঙ্খলা এবং ভাঙচুরের মধ্যেই Bigg Boss Bangla-এর এই টাস্ক তার অন্তিম এবং সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায়ে প্রবেশ করে। দেখা যায় যে, রাজবীর চরম আক্রোশবশত আগুনপাখি দলের প্রতীকের পাজল পিসেস বা টুকরোগুলিও একে একে সরিয়ে ফেলছেন এবং নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। রাজবীরের এই চূড়ান্ত অসহিষ্ণু আচরণ দেখে সৃজলাও রাগে ফেটে পড়েন এবং পালটা বদলা নিতে তিনি নিজেই নীল হরিণ দলের সযত্নে সাজানো প্রতীকটি ভেঙে চুরমার করে দেন। জনতার রোষানলে পড়ে জীতুর নীল হরিণ দলের অবস্থা তখন কার্যত শোচনীয়। একদিকে দলের সদস্যদের মধ্যে চরম অসন্তোষ, অন্যদিকে জনতার সঙ্গে সরাসরি শত্রুতা—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে জীতু ও তাঁর দল। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সাধারণ জনতার এই রোষ থেকে কি নিজেদের কোনোমতে বাঁচাতে পারবে নীল হরিণ দল? নাকি ‘থাকতে সুখী আগুনপাখি’ এই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ক্যাচি স্লোগানে ভর করে এবারের লাক্সারি বাজেট টাস্কের ভোটে বাজিমাত করবে ঝিলম, দুর্নিবার, তনুশ্রী এবং অনুষ্কার দল? ভোটের এই জটিল অঙ্কে শেষ পর্যন্ত বিগ বসের বাড়িতে খেলা কোন দিকে ঘোরে, তা দেখার জন্যই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আপামর দর্শক।



