Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা! ইস্তফার দাবিতে সরব ‘ইন্ডিয়া’ জোট, মমতাকে তোপ শুভেন্দুর
Gyanesh Kumar: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জল এবার গড়াল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানিতে সম্মত হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় স্তরে শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথ রণকৌশল স্থির করতে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বুধবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। এই জোড়া অস্বস্তির মাঝেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া এই জনস্বার্থ মামলায় মূল অভিযোগ হলো, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীকে অন্ধকারে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করেছেন। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী শীর্ষ আদালতে জানান, সংবিধান এবং ২০২৩ সালের নতুন আইন অনুযায়ী তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে যেকোনো সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া উচিত। কিন্তু একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিকে কোনো রকম আমল দেওয়া হয়নি। আবেদনকারীদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের এই ধরনের সমস্ত একক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে খারিজ করে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হোক।

আরও পড়ুন: CISF Camp Firing: কাঠুয়ায় সহকর্মীর এলোপাথাড়ি গুলিতে নিহত ৪ সিআইএসএফ জওয়ান! গ্রেপ্তার অভিযুক্ত
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই বৈঠক ঘিরে বিরোধী ঐক্যের ছবিটা ঠিক কতটা মজবুত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে আম আদমি পার্টি (আপ), ডিএমকে এবং ঝাড়খণ্ডের শাসকদল জেএমএম-এর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছেন না বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশে আসন রফা নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির প্রকাশ্য মন কষাকষির জেরে এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবের উপস্থিতিও চূড়ান্ত অনিশ্চিত। তবে বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও আপ এবং ডিএমকে নেতৃত্ব সংসদের উভয় কক্ষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করবেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।

এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। জ্ঞানেশ কুমার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোড়া থেকেই তিনি তাঁকে ‘ভ্যানিশ জি’ বলে ডাকছেন এবং তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো কমিশনের সেই সফ্টওয়্যার টিম, যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মমতার দিল্লি যাত্রাকে কটাক্ষ করে বলেন, বিরোধী জোটের কোনো অস্তিত্বই আর নেই। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে মূলত ‘দিমাগি নকশালদের’ সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়েছেন এবং দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যাতে কোনো বৈঠক না হয়, সেদিকে পুলিশ ও আইবি-র নজর রাখা উচিত।

রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘কেন্দ্রের হাতের পুতুল’ বলে তীব্র আক্রমণ করে তাঁর এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নির্দিষ্ট পাঁচটি দাবি পেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া নামগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি অন্যতম। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সফ্টওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ইসিআইনেট (ECINet) সফ্টওয়্যারে তথ্যগত অসঙ্গতি দূর করার ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ইআরও) ক্ষমতাবৃদ্ধি করার আর্জি জানিয়ে কমিশনের আইটি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্নাকে চিঠি দিয়েছেন খোদ মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই জটিলতা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।




