Gyanesh Kumar Resignation Protest: উত্তাল দিল্লি ও মুম্বই! পদত্যাগের দাবিতে চরম বিক্ষোভ
Gyanesh Kumar Resignation Protest: আজ ২রা অক্টোবর দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে গান্ধী জয়ন্তী, আর এই ঐতিহাসিক দিনেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সাক্ষী হলো দেশের ২ প্রধান শহর—রাজধানী দিল্লি এবং বাণিজ্যনগরী মুম্বই। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ভূমিকা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিল বিরোধীরা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজ মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে বিরাট জমায়েতের ডাক দেয় তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। উল্লেখ্য, এই সেই সংগঠন যাদের আন্দোলনের জেরে গত জুলাই মাসে নিট কাণ্ডে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। অন্যদিকে একই দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় আম আদমি পার্টি, আইসা, এনএসইউআই এবং ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেস। তবে আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে ২ শহরের পুলিশ প্রশাসনই এই বিক্ষোভের কোনো সরকারি অনুমতি দেয়নি, যার ফলে সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজপথ। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার্থে পথে নেমেছেন হাজার হাজার প্রতিবাদী মুখ।

বিক্ষোভের অনুমতি খারিজ হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা একচুলও পিছিয়ে যেতে নারাজ হন। আজ সকালে কোনো গাড়ি ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটেই দিল্লির যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ স্থলে পৌঁছে যান আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। সেখান থেকে তিনি অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিয়ে জানান যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো সাধারণ নাগরিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। তিনি প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন যে, ৬ দিন আগেই তাঁরা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি চেয়েছিলেন, কিন্তু তা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, পুলিশের এই বাধার পরেও আজ দুপুর নাগাদ হাজার হাজার যুবক, মহিলা এবং জেন-জি প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে যন্তর মন্তরে এসে পৌঁছবেন। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করতেই নিউ দিল্লি জেলা জুড়ে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারা অর্থাৎ ১৪৪ ধারার সমতুল্য অত্যন্ত কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল্লি পুলিশ। চারিদিকে থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়।

দিল্লি পুলিশের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূর্ব অনুমতি ছাড়া ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল, মিটিং, স্লোগান দেওয়া বা প্ল্যাকার্ড-ব্যানার প্রদর্শন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যন্তর মন্তরগামী সমস্ত প্রধান রাস্তা, যেমন টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড এবং সংসদ মার্গে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড গড়ে তুলে গোটা এলাকা কার্যত নিশ্ছিদ্র দুর্গে পরিণত করেছে পুলিশ ও বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের বড় জমায়েত রুখতে একযোগে দিল্লির ১১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, প্যাটেল চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এবং নিউ দিল্লি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। উৎসবের দিনে শহরের প্রাণকেন্দ্রে মেট্রো চলাচল এভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ায় সকাল থেকেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

এদিকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কেও কড়া পুলিশি নিরাপত্তার বলয় ভেঙে বিক্ষোভ প্রদর্শনে অনড় মনোভাব বজায় রেখেছে সিজেপি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আজ মুম্বইয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ফৌজদারি অপরাধের মামলা রুজু করতে হবে। পুলিশের বাধা এবং গ্রেপ্তারি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তিনি জেলে যেতে একেবারেই ভয় পান না এবং প্রয়োজনে প্রতিবাদের জন্য বারবার রাজপথে নেমে আসবেন। বিরোধী দলগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সিজেপি কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ নয়, এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন যুব আন্দোলন। তবে আগামী ৬ই অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা যে প্রতিবাদের পরিকল্পনা করেছেন, তার প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করে জানান যে নির্বাচনী দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জোরদার আওয়াজ তোলা উচিত।

কিন্তু কেন ঠিক এই মুহূর্তে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে এতটা ক্ষোভ তৈরি হলো? আন্দোলনকারী এবং বিরোধী দলগুলির মূল অভিযোগ হলো দেশব্যাপী বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে। সম্প্রতি এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের ক্ষেত্রে নিজেদের কড়া লিখিত আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই সমস্ত সিদ্ধান্তের বেশ কিছু তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বা না জানিয়েই একতরফাভাবে কার্যকর করা হয়েছিল। যদিও নির্বাচন কমিশন পরবর্তীতে এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে যে এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কমিশনের অন্দরের এই নজিরবিহীন সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসায় গোটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আজ সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই বিক্ষোভের আঁচ যে আরও তীব্রতর হবে, তা আজকের পরিস্থিতি থেকেই একেবারে স্পষ্ট।




