Dhruv Rathee Released: সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট, মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে নতুন প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক
New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ঘনীভূত হওয়া প্রবল রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এবার একটি বড় খবর সামনে এল। দিনভর চরম উৎকণ্ঠা এবং টানাপোড়েনের পর অবশেষে গভীর রাতে পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। শনিবার সকালে সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ঠিক আগেই গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আকস্মিকভাবে আটক করেছিল পুলিশ। এরপর থেকে সারা দিন তিনি গুরুগ্রাম পুলিশের কড়া হেফাজতেই ছিলেন। তাঁর কোনো খোঁজখবর না পাওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নাগরিক মহলে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। অবশেষে রবিবার ভোরে তাঁর মুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসায় তাঁর অগুনতি অনুগামী এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট থমথমে এবং উত্তেজনায় পরিপূর্ণ।
জাতীয় স্তরের এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার ভোর ৩টের মধ্যে কোনো এক গোপন সময়ে ধ্রুব রাঠীকে পুলিশের তরফ থেকে নিঃশর্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সশরীরে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ধ্রুব রাঠী নিজের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই গুরুগ্রাম পুলিশের একটি বিশাল দল তাঁর বাসভবনে পৌঁছে যায়। পুলিশ আধিকারিকরা প্রথমে তাঁকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে না-যাওয়ার জন্য মৌখিকভাবে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু নিজের গণতান্ত্রিক অধিকারে অনড় ধ্রুব পুলিশের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁর এই অসম্মতির পরেই পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে যায়। এরপর দিন গড়িয়ে রাত হলেও তাঁর কোনো খোঁজ ছিল না, এমনকি তাঁকে ঠিক কোথায় বা কোন অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে, তা নিয়েও পুলিশ সম্পূর্ণ মুখে কুলুপ এঁটেছিল।

একদিকে যখন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী গভীর রাতে পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে গিয়েছেন, অন্যদিকে তখন সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছিল চরম আইনি পদক্ষেপ। শনিবার সকালেই সিজেপির তিন প্রধান মুখ—প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দরে পা রাখা মাত্রই আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। মুম্বই থেকে তাঁদের বিমান দিল্লিতে অবতরণ করার পর রানওয়েতে বিমানের ভেতরে ঢুকেই পুলিশকর্মীরা তাঁদের আটক করে নিয়ে যান। রাত পর্যন্ত তাঁদের কোনো খবর না থাকলেও, রবিবার সকালে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিজেপি নেতৃত্বকে জানানো হয় যে, সতর্কতামূলক আইনি পদক্ষেপ হিসেবে এই তিন নেতাকে ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এক এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করানো হয়। তবে ধ্রুব রাঠীর ক্ষেত্রে পুলিশ এই চরম আইনি পদক্ষেপ বা প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্টের পথে হাঁটেনি।
Anti CEC Protest Tomorrow: ‘কাল আবার ফিরব’, নেতারা আটক হলেও যন্তর মন্তরে লড়াই জারি রাখার ডাক
শীর্ষ নেতাদের এই গ্রেফতারির পর আন্দোলন যাতে কোনোভাবেই স্তিমিত না হয়ে পড়ে, তার জন্য আগে থেকেই বিকল্প রণকৌশল তৈরি রেখেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। গ্রেফতারির প্রবল আশঙ্কা করে আগেই একটি ভিডিও বার্তা রেকর্ডিং করে দলের জাতীয় সংগঠন ইন-চার্জ অজিঙ্ক শিন্দেকে অস্থায়ী নেতা হিসেবে ঘোষণা করে গিয়েছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সেই অজিঙ্ক শিন্দে বর্তমানে বাণিজ্যনগরী মুম্বইতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই তিনি আন্দোলনের নতুন রূপরেখা তৈরি করছেন। রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে তিনি এক নতুন এবং বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশি হেফাজতে থাকা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে সিজেপির আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। পাশাপাশি, রবিবার নতুন উদ্যমে ফের যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছেন সিজেপির অগণিত কর্মী-সমর্থকেরা।

রবিবার সিজেপির এই নতুন করে যন্তর মন্তর অভিযানের ডাককে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজপথে দ্বিতীয় দিনেও প্রচুর পরিমাণে সশস্ত্র পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। যন্তর মন্তর এবং মধ্য দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকাগুলিকে কার্যত এক নিশ্ছিদ্র পুলিশি দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। তবে শনিবারের তুলনায় রবিবারের সার্বিক প্রশাসনিক চিত্রে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছে। শনিবার বিক্ষোভ রুখতে যেভাবে গোটা শহরের ইন্টারনেট, মেট্রো এবং যান চলাচল স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, রবিবার কিন্তু সেই পরিস্থিতি নেই। রবিবার সকাল থেকেই দিল্লির যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে মেট্রো এবং ট্রেন পরিষেবাও একেবারে নিজস্ব ছন্দে চলছে। পুলিশ ও প্রশাসন একদিকে যেমন আন্দোলনকারীদের রুখতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো রকম ভোগান্তি না হয়, সেদিকেও সমানভাবে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখেছে।




