Anti CEC Protest Tomorrow: অজিঙ্ক শিন্ডের নেতৃত্বে ফের আন্দোলনের রূপরেখা, রবিবারেও দিল্লির রাজপথে নামছে ছাত্র ফ্রন্ট
New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শনিবার দিনভর চলা চরম উত্তেজনা, পুলিশি ধরপাকড় এবং গণগ্রেফতারির পরেও বিন্দুমাত্র পিছু হটতে রাজি নয় দেশের ক্ষুব্ধ ছাত্র ও যুব সমাজ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অটল সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে আন্দোলনকারীরা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত কর্মসূচির আগে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক করা সত্ত্বেও শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের মূল দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ এক মুহূর্তের জন্যও থামবে না। পুলিশ প্রশাসনের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে কাল রবিবার ফের যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে নতুন করে পদযাত্রা শুরু করা হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সকালে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস দিল্লি বিমানবন্দরে পা রাখা মাত্রই পুলিশ তাঁদের আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর বেলার দিকে এসএফআই (SFI) নেত্রী ঐশী ঘোষ এবং আইসা (AISA)-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা সহ বামপন্থী ছাত্র ফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতাকে পুলিশ বাসে তুলে নিয়ে যায়। তবে এই গণআটকের মুখে আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার বদলে আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। আটক হওয়ার আগেই এক পূর্বধারণা করে ভিডিও বার্তা রেকর্ড করে গিয়েছিলেন অভিজিৎ দিপকে, যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। সেই বার্তায় তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, যতদিন শীর্ষ নেতৃত্ব পুলিশি হেফাজতে থাকবেন, ততদিন যন্তর মন্তরে এই আন্দোলনের সম্পূর্ণ নেতৃত্ব দেবেন সিজেপির জাতীয় সংগঠন ইন-চার্জ অজিঙ্ক শিন্ডে। শনিবার সন্ধ্যায় এসএফআই এবং এআইএসএফ (AISF)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বসেন শিন্ডে।
![]()
সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে অজিঙ্ক শিন্ডে জানান যে, এই ধরনের নির্বিচার আটক আসলে সরকারের ফ্যাসিবাদী মনোভাব এবং যুব সমাজের আন্দোলনের প্রতি গভীর ভয়েরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি অভিযোগ করেন যে, সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জমায়েত রুখতে প্রশাসন শহরের সমস্ত বাস এবং ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, বাতাস এবং জল ছাড়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সবকিছুকেই সরকার থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যার ফলে আন্দোলনকারী ছাত্র ও সাধারণ নাগরিকদের পথিমধ্যেই চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছে। শিন্ডে আরও একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিযোগ তুলে বলেন যে, আটক অবস্থাতেই অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমার প্রয়াণের খবর এলেও দিল্লি পুলিশ তাঁকে নিজের পরিবার বা আইনজীবীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পর্যন্ত দেয়নি। তবে এই সমস্ত দমনপীড়ন সত্ত্বেও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়া হবে না এবং জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই লড়াইয়ের আগুন জ্বলতেই থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এই যৌথ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসএফআই-এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য আন্দোলনের এক অভিনব রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, “পুলিশ যেখানেই আমাদের আন্দোলনকারীদের আটকে দিয়েছে, সেই জায়গাটিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এক একটি যন্তর মন্তরে রূপান্তরিত হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভকে কোনো শক্তি দিয়ে আটকে রাখা সম্ভব নয়।” সৃজন ভট্টাচার্য মনে করিয়ে দেন যে, ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থার বিরুদ্ধে অতীতে কখনোই এত বড় এবং গুরুতর অভিযোগ ওঠেনি। তাঁদের এই লড়াই সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই, তাই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই প্রতিরোধ চলবে। দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে আটক হওয়া সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাদের দিল্লি-এনসিআরের একাধিক গোপন পুলিশি অবস্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, রাজধানীর গণপরিবহণ ও মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই একটি আদালত অবমাননার জরুরি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই আবেদনের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশের শীর্ষ আদালত রবিবার একটি বিশেষ শুনানির দিন ধার্য করেছে। একদিকে রাজপথে রবিবার ফের ছাত্র-যুবদের যন্তর মন্তরমুখী নতুন অভিযান, আর অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের এই বিশেষ আইনি শুনানি—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে রবিবার দিল্লির রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। পুলিশি পাহারা এড়িয়ে রবিবার ছাত্র সমাজ কীভাবে রাজধানীর রাজপথে নিজেদের দাবি তুলে ধরে এবং নির্বাচন কমিশন এই ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশের মানুষ।





