Abhijeet Dipke Grandmother Death: দিল্লিতে সিজেপি-র বিক্ষোভে আটকের মাঝেই চরম শোক, শেষকৃত্যে যোগ দেবেন নেতা?
New Delhi: একদিকে দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক আন্দোলন, আর অন্যদিকে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন এক চরম ব্যক্তিগত শোকের আঘাত। শনিবার সকালে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে দিল্লি বিমানবন্দরে পা রাখা মাত্রই আটক করে পুলিশ। কিন্তু সেই পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীনই তাঁর কাছে এসে পৌঁছয় এক অত্যন্ত মর্মান্তিক খবর। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাঁর অত্যন্ত স্নেহের ঠাকুমা সাবিত্রীবাঈ দিপকে। রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং আন্দোলনের আবহে এই ব্যক্তিগত শোকের খবর সিজেপি নেতার জীবনে এক চরম মানসিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে। দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ঠাকুমার এই মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়েছে। এখন আটক অবস্থায় তিনি এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন, নাকি পরিবারের এই দুঃসময়ে শেষকৃত্যে যোগ দিতে ফিরে যাবেন—সেই কঠিন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র এবং সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমা সাবিত্রীবাঈ দিপকের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি গত প্রায় এক মাস ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এবং এর আগে মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার একটি হাসপাতালেও বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ গ্রামের বাড়িতে তিনি তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু এই দুঃসংবাদটি সাথে সাথে অভিজিৎ দিপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ, শনিবার সকালে দিল্লিতে সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে করে আসার পর, বিমানবন্দরের ভেতর থেকেই অভিজিৎকে আটক করেছিল পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা দলের আরও দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়। ফলে দেশের রাজধানীতে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পুলিশি হেফাজতে থাকার কারণে পরিবার শত চেষ্টা করেও শুরুতে তাঁর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি।

সরাসরি অভিজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে তাঁর পরিবারের অন্যান্য আত্মীয়রা শেষ পর্যন্ত তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ঠাকুমা সাবিত্রীবাঈয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁরা ইতিমধ্যেই শোকস্তব্ধ হয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে, অভিজিৎ দেশের রাজধানীতে পুলিশি হেফাজতে আটকে থাকায় ঠাকুমার মৃত্যুর এই চরম শোকের মুহূর্তে তাঁকে পাশে পাওয়া যায়নি। আগামী রবিবার সকাল ১০টায় সাবিত্রীবাঈয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই এখন সকলের নজর সেদিকেই যে, অভিজিৎ কি তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য দিল্লিতেই থেকে যাবেন, নাকি প্রিয় ঠাকুমার শেষ দর্শনের জন্য পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
ঠাকুমার সঙ্গে অভিজিৎ দিপকের একটি অত্যন্ত নিবিড় এবং স্নেহের সম্পর্ক ছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা যায়, গত ১৫ই অগাস্ট হিঙ্গোলি জেলায় যখন ‘স্কুল ঠিক করো’ (School Thik Karo) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সূচনা করা হয়, তখন অভিজিৎ তাঁর ঠাকুমার সঙ্গে শেষবারের মতো একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর কাজের ফাঁকে আরও একবার তিনি ঠাকুমার সঙ্গে দেখা করতে পেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর জীবনের শেষ ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যস্ততা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে ঘুরে বেড়ানোর কারণে তিনি আর ঠাকুমার সঙ্গে দেখা করে উঠতে পারেননি। শেষ মুহূর্তে তাঁর পাশে থাকতে না পারার এই আক্ষেপ এখন পুলিশি হেফাজতে বসে তাঁকে যে কতটা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের এই ব্যক্তিগত ত্যাগের দিকটি সত্যিই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

আরও পড়ুনঃ Nana Patekar Shah Rukh Khan: রাত-বিরেতে জেল থেকে শাহরুখকে বের করেছিলেন নানা পাটেকর! অগ্রজ অভিনেতার প্রয়াণে আবেগঘন বাদশা
এই মুহূর্তে দিল্লির সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং কড়া পুলিশি পাহারায় মোড়া। সিজেপি-র ডাকা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য প্রশাসন ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ট্রেন বাতিল পর্যন্ত একাধিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর এরই অঙ্গ হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের দিল্লিতে পা রাখা মাত্রই আটক করা হয়েছে। এই সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে অভিজিৎ দিপকের এই ব্যক্তিগত শোকের খবর আন্দোলনকারীদের মধ্যেও এক অদ্ভুত নীরবতা এবং সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে। পুলিশ তাঁকে খবর দেওয়ার পর তিনি ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রশাসন তাঁকে শেষকৃত্যে যাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অনুমতি বা ব্যবস্থা করে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক আদর্শ এবং রক্তের সম্পর্কের এই দ্বন্দ্বে তিনি কোন পথটি বেছে নেন, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।



