রবিবার সাত সকালে খড়্গপুরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে চেনা মেজাজে রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরের একাধিক ইস্যুতে তোপ দাগলেন বিজেপি নেতা তথা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে কলেজের পরিচালন সমিতি এবং বিভিন্ন হোটেল ও নার্সিংহোমের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট— একাধিক বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে মালদার গাজোলের একটি মর্মান্তিক ঘটনা। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে এক গৃহবধূর চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে।
মালদার গাজোলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গৃহবধূর চরম পরিণতির ঘটনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন যে, বর্তমানে ছোটখাটো প্রতিটি বিষয়েই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কেন মানুষ এমন দুর্ভাগ্যজনক পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আগে আড়াই কোটির বেশি মানুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়া হতো, যাঁদের মধ্যে অনেকেই আদৌ যোগ্য ছিলেন না। বর্তমানে সঠিক নথিপত্র এবং ভোটার তালিকার নিবিড় যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, যাতে কোনো ভুয়ো নাম না থাকে এবং কেবলমাত্র প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরাই এই আর্থিক সহায়তা পান।
এর পাশাপাশি রাজ্যের মোট ২৪৬টি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে বিধায়ক ও সাংসদদের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন এবং তাঁরা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় অযথা রাজনীতি টেনে আনা একেবারেই কাম্য নয়। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজনীতি করার প্রবণতা দেখা যায়। শিক্ষাঙ্গনে যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ না ঘটে, সে বিষয়ে তাঁদের দলের পক্ষ থেকেই কড়া নজরদারি রাখা হবে বলে তিনি দৃঢ় বার্তা দেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের একাধিক হোটেল এবং নার্সিংহোমে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার শংসাপত্র (Fire Safety Certificate) না থাকা এবং প্রশাসনিক স্তরে তালা ঝোলানোর পদক্ষেপ নিয়েও পূর্বতন সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন যে, এতদিন ধরে টাকার বিনিময়ে কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ কাজ পরিচালনা করা হতো। সরকারি দফতরের আধিকারিকরা ঘুষ নেওয়ার পরেও মাসের পর মাস এই সার্টিফিকেট ঝুলিয়ে রাখতেন বলে তাঁর মারাত্মক অভিযোগ। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে, অন্যথায় কোনো বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কে যোগ্য আর কে অযোগ্য— তা নির্ধারণ করার সম্পূর্ণ এক্তিয়ার সরকারের রয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে যা অনিয়ম হয়েছে, বর্তমান সরকার সেগুলিকে শুধরে নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে কাজ পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর।
মালদার এই মর্মান্তিক ঘটনা এবং দিলীপ ঘোষের বক্তব্য নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



