সম্প্রতি তারাপীঠ ও কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার নড়েচড়ে বসল হুগলি জেলা প্রশাসন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে এবার হুগলির শ্রীরামপুর থানার অন্তর্গত পিয়ারাপুর এলাকায় দিল্লি রোড সংলগ্ন একাধিক হোটেলে আচমকা যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন। রবিবার ছুটির দিনে প্রশাসনের এই আকস্মিক হানায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, রবিবারের এই বিশেষ যৌথ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপদানি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং, দমকল বিভাগের আধিকারিক শান্তনু মালিক এবং শ্রীরামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল হোটেলগুলিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী রয়েছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা। মূলত ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের নবীকরণ ঠিকমতো হয়েছে কি না এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি বা আগুন লাগলে তা মোকাবিলার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কোনো প্রস্তুতি আছে কি না, সেটাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।
অভিযান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁপদানির বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, হোটেল কর্তৃপক্ষকে আগাম নোটিশ দেওয়ার পর কিছু সাধারণ ত্রুটি সংশোধন করা হলেও, সবচেয়ে বড় অভাব রয়ে গেছে দক্ষ কর্মীর। অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ যাঁদের দেওয়া হয়েছিল, আশ্চর্যের বিষয় হলো অভিযানের সময় তাঁদের কাউকেই হোটেলে পাওয়া যায়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হঠাৎ করে আগুন লাগলে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে কোথায় যাবে? তিনি কড়া ভাষায় হোটেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন যে, অবিলম্বে প্রত্যেক কর্মীকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ব্যবহারে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ভবিষ্যতে মানুষের প্রাণহানি রোধ করতে কোনো ধরনের গাফিলতি আর বরদাস্ত করা হবে অ্যাকশন নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দমকল আধিকারিক শান্তনু মালিকও হোটেলগুলির একাধিক গুরুতর ত্রুটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে অগ্নিনির্বাপণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার মতো কোনো প্রশিক্ষিত কর্মী এই হোটেলগুলিতে মজুত নেই। পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথির নবীকরণ দীর্ঘদিন ধরে করা হয়নি। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অনুমোদন ছাড়াই সেখানে বার-কাম-রেস্টুরেন্ট চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। দমকল আধিকারিক জানান, ফায়ার লাইনের জলের চাপ ঠিক থাকলেও মূল পাইপলাইন ও জল সরবরাহে একাধিক প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে। দ্রুত পুরনো হোস পাইপগুলি বদলানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দমকলের তরফ থেকে।
সবমিলিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দ্রুত সমস্ত গাফিলতি ও ঘাটতি পূরণ করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আগামী দিনে এই হোটেলগুলির বিরুদ্ধে বড়সড় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপনার এলাকার রেস্তোরাঁ বা হোটেলগুলিতে ফায়ার সেফটির নিয়ম মানা হচ্ছে তো? কমেন্ট করে আমাদের জানান। (তথ্য নেই)



