মাত্র ১৫ বছর বয়সেই নিজের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেট দুনিয়ার নজর কেড়েছেন তরুণ ক্রিকেটার সূর্যবংশী। সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর মারকাটারি মেজাজ এবং বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার ক্ষমতা সকলেরই পরিচিত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল বলের ক্রিকেটে সফল হতে গেলে তাঁকে মানসিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও অনেক বেশি পরিণত হতে হবে। আন্তর্জাতিক স্তরে অফ-স্টাম্পের বাইরের বল বা শর্ট বল নিয়ে তাঁর কিছু দুর্বলতা থাকলেও, ক্রিকেট মহলের বিশ্বাস যে তিনি খুব দ্রুত নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারেন এবং পিচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যবংশী যদি লাল বলের সুইং এবং অতিরিক্ত বাউন্স সামলাতে শিখে যান, তবে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে বিপক্ষ বোলারদের কাছে রীতিমতো আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর আগ্রাসী খেলার ধরন এবং বল হিট করার ক্ষমতা দেখে অনেকেই তাঁকে প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার বীরেন্দ্র শেহওয়াগের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। শেহওয়াগ যেভাবে লাল বলের ক্রিকেটে বোলারদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতেন, সূর্যবংশীর মধ্যেও সেই একই সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর জন্য সাদা বলের মতো প্রতিটি বলে বড় শট খেলার মানসিকতা বদলাতে হবে তাঁকে।

এই তরুণ তারকাকে টেস্ট ক্রিকেটে সফল হতে গেলে ক্রিজে পড়ে থাকার শিল্প শিখতে হবে বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ প্রজ্ঞান ওঝা। তিনি জানিয়েছেন যে, লাল বলের ক্রিকেটে নতুন বলের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সংযম দেখাতে হয়। সব বলে শট খেলার বদলে সঠিক বলের জন্য অপেক্ষা করা এবং ঝুঁকি কমানোর কৌশল রপ্ত করতে হবে তাঁকে। একটি টেস্ট ইনিংস কীভাবে গড়তে হয়, কখন রক্ষণাত্মক খেলতে হয় এবং কখন আক্রমণ করতে হয়— এই মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। সূর্যবংশীকে বিশ্ব ক্রিকেটের মঞ্চে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি অনায়াসে ৩০০ বল খেলার ক্ষমতা রাখেন।
ভারতীয় টেস্ট দলে জায়গা করে নেওয়া যে একেবারেই সহজ নয়, তা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে ঘরোয়া স্তরে রঞ্জি ট্রফি বা দলীপ ট্রফির মতো প্রতিযোগিতায় বছরে মাত্র ৭ থেকে ১০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যায়। জাতীয় দলে সুযোগ পেতে গেলে ওই অল্প কয়েকটি সুযোগকেই কাজে লাগাতে হবে। সেখানে ধারাবাহিকভাবে বড় রান করা, সেঞ্চুরি এবং ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো অত্যন্ত জরুরি। শুধু এক মরসুম নয়, টানা দুই থেকে তিন বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে তবেই জাতীয় দলের নির্বাচকদের খাতায় তাঁর নাম উঠতে পারে।
বয়স মাত্র ১৫ হওয়ায় তাঁর হাতে এখনও প্রচুর সময় রয়েছে। তাই তাঁকে নিয়ে এখনই অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ তৈরি করা উচিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে তাঁর শুধুমাত্র প্রয়োজন অসীম ধৈর্য এবং সঠিক প্রস্তুতির। নিজের ফিটনেস এবং টেকনিকের ওপর জোর দিলে আগামী দিনে তিনি ভারতীয় দলের এক অমূল্য রত্ন হয়ে উঠতে পারেন। আপনার কী মনে হয়, সূর্যবংশী কি আগামী দিনে ভারতীয় দলের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বীরেন্দ্র শেহওয়াগের মতো দাপট দেখাতে পারবেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



