Dhruv Rathee Released: পুলিশের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ, নাগরিকত্বের প্রমাণ দিয়ে মোক্ষম জবাব জনপ্রিয় ইউটিউবারের
New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ঘনীভূত হওয়া প্রবল রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এবার আরও এক বিস্ফোরক পরিস্থিতি তৈরি হলো। দিনভর চরম উৎকণ্ঠা এবং টানাপোড়েনের পর শনিবার গভীর রাতে পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েছেন দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং চর্চিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী। গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করার প্রায় ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর কোনো রকম বন্ড ছাড়াই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মুক্তি পাওয়ার পর রবিবার সকালেই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে গোটা দেশের রাজনীতিতে কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন এই মোদী বিরোধী ইনফ্লুয়েন্সার। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের এই পদক্ষেপকে তিনি সাধারণ আটক বা গ্রেফতারি বলতে একেবারেই নারাজ। বরং তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ প্রশাসন তাঁকে বেআইনিভাবে ‘কিডন্যাপ’ বা অপহরণ করেছিল। তাঁর এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল এবং ইউটিউব চ্যানেলে একটি দীর্ঘ ভিডিও প্রকাশ করে ধ্রুব রাঠী তাঁর এই অপহরণ তত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, পুলিশ যদি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে আটক বা গ্রেফতার করতে আসত, তবে তাদের পরনে পুলিশের উর্দি থাকত এবং হাতে উপযুক্ত এফআইআর (FIR) কপি থাকত। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনোটিই ঘটেনি। তাঁর অভিযোগ, শনিবার সকালে হঠাৎ করেই তাঁর গুরুগ্রামের বাসভবনে ২০ থেকে ২২ জনের একটি বিশাল দল সম্পূর্ণ সাধারণ পোশাকে এসে হাজির হয় এবং কোনো রকম আইনি কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে কার্যত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয় এবং টানা ২০-২২ ঘণ্টা তাঁকে সেই ফোন ছুঁতে পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে এই ধরনের গুণ্ডামির আচরণকে তিনি সরাসরি অপহরণ বা কিডন্যাপ বলেই আখ্যা দিয়েছেন।
![]()
এই বিস্ফোরক অভিযোগের পাশাপাশি ধ্রুব রাঠী তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের একটি মিথ্যা প্রচারেরও কড়া জবাব দিয়েছেন। শনিবার তাঁকে যখন আটক করা হয়েছিল, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসকদলের একাংশ এবং আইটি সেলের তরফ থেকে একটি ভুয়ো খবর ছড়ানো শুরু হয়েছিল যে, তিনি আদতে ভারতের নাগরিক নন, বরং তিনি একজন জার্মান নাগরিক। সেই মিথ্যা প্রচারে দাবি করা হয়েছিল যে, একজন বিদেশি নাগরিক হয়ে তিনি ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে এসে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যা সরাসরি ভিসার শর্তের লঙ্ঘন। কিন্তু রবিবার মুক্তি পেয়েই নিজের ভিডিওতে সেই ভুয়ো প্রচারের বেলুন একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছেন এই জনপ্রিয় ইউটিউবার। ভিডিও চলাকালীন তিনি ক্যামেরার সামনে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিজের আসল ভারতীয় পাসপোর্টটি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে দেন যে তিনি কোনো বিদেশি নন, বরং তিনি এই দেশেরই একজন গর্বিত ভূমিপুত্র এবং ভারতের সংবিধান অনুযায়ী দেশের যেকোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মন্তব্য করা বা প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার তাঁর রয়েছে।
ধ্রুব রাঠীর এই আটকের ধরন নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্দরেও তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। জানা গিয়েছে, সিজেপি-র অন্যান্য শীর্ষ নেতা যেমন অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার ক্ষেত্রে পুলিশ যেমন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা সতর্কতামূলক গ্রেফতারির পথে হেঁটেছিল এবং তাঁদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করেছিল, ধ্রুবর ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যেহেতু তাঁর নামে কোনো এফআইআর দায়ের করা ছিল না বা তাঁকে সরকারি খাতায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি, তাই তাঁকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করারও আইনি প্রয়োজন পড়েনি। শনিবার রাতে তাঁকে নিঃশর্তভাবেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে গুরুগ্রাম পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে তাঁকে ছেড়ে দিলেও দিল্লি পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আগামী দিনে ধ্রুব রাঠী যদি পুনরায় যন্তর মন্তর বা অন্য কোনো সংবেদনশীল জায়গায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই মুহূর্তে ধ্রুব রাঠীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ এবং ভারতীয় পাসপোর্ট দেখানোর ঘটনাটি সিজেপি-র চলমান আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই ভিডিও ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখে ফেলেছেন এবং সাধারণ ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে এই পুলিশি দমনপীড়নের বিরুদ্ধে এক বিপুল জনমত তৈরি হচ্ছে। যেভাবে সাধারণ পোশাকে এসে একজন প্রভাবশালী ডিজিটাল ক্রিয়েটরকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো, তা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার ওপর এক চরম আঘাত বলেই মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। একদিকে যখন সিজেপি নেতারা আদালতের রায়ে মুক্তি পেয়ে ফের আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন ধ্রুব রাঠীর এই অপহরণের তত্ত্ব পুলিশ প্রশাসনের মুখ অনেকটাই পুড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই এবং রাজপথের আন্দোলন ঠিক কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসন আন্দোলনকারীদের আটকাতে আর কী কী নতুন কৌশল অবলম্বন করে, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক মহল।




