Kamareddy ATM Robbery: অভিনব কায়দায় এটিএম লুট, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্তে ফরেনসিক টিম ও পুলিশ
Telengana: সিনেমার চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানাবে বাস্তবের এই চুরির ঘটনা। রাতের অন্ধকারে চুরি বা ডাকাতির খবর প্রায়শই খবরের শিরোনামে উঠে আসে, কিন্তু তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলায় সদ্য ঘটে যাওয়া একটি এটিএম লুটের ঘটনা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকেও রীতিমতো হতবাক করে দিয়েছে। এবার কোনো সাধারণ গাড়ি বা বাইকে নয়, একেবারে রোগীর প্রাণ বাঁচানোর যান অর্থাৎ অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে ডাকাতি করতে এল দুষ্কৃতীরা। শুধু তাই নয়, নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রাখতে পুরুষ দুষ্কৃতীদের পরনে ছিল মহিলাদের পোশাক অর্থাৎ নাইটি! এমনই এক অভাবনীয় এবং আজব কায়দায় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি এটিএম ভেঙে লক্ষাধিক টাকা লুট করে চম্পট দিল দুষ্কৃতী দল। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া এই অভিনব লুটের দৃশ্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে এবং চারদিকে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ই অক্টোবর গভীর রাতে। তেলেঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার কামারেড্ডি-বানসওয়াড়া প্রধান সড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত গান্ধারি মণ্ডল সদর দপ্তরে থাকা একটি এটিএম-এ এই লুটের ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, রাত ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই এই সুপরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। ওই শুনশান এলাকায় গভীর রাতে একটি অ্যাম্বুল্যান্স এসে দাঁড়ায়। স্বাভাবিকভাবেই রাতে অ্যাম্বুল্যান্স দেখে স্থানীয় কেউ কোনো সন্দেহ করেননি, কারণ সকলেই ভেবেছিলেন কোনো মুমূর্ষু রোগীকে হয়তো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেই অ্যাম্বুল্যান্স থেকে রোগী বা ডাক্তারের বদলে বেরিয়ে আসে মহিলাদের ব্যবহৃত নাইটি পরিহিত একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী, যাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল এটিএম ভেঙে নগদ টাকা লুট করা।

সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার যে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য ধরা পড়েছে, তা দেখে পুলিশেরও চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় মুখ ঢেকে এবং মহিলাদের নাইটি পরে এটিএম কিয়স্কের ভেতর প্রবেশ করে ওই দুষ্কৃতীরা। তাদের হাতে ছিল ভারী লোহার রড এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি। এটিএম-এর ভেতরে ঢুকেই তারা প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি নষ্ট করার চেষ্টা করে। এরপর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তারা নগদ টাকা ভর্তি এটিএম মেশিনটি সম্পূর্ণভাবে ভাঙচুর করে। অভিযুক্তরা শুধুমাত্র এটিএম-এর ভেতর থাকা নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তারা আক্রোশের বশে গোটা মেশিনটিকেই প্রায় বিকল করে দেয়। লুটপাট শেষে তারা সেই একই অ্যাম্বুল্যান্সে চেপে ঘটনাস্থল থেকে অত্যন্ত দ্রুত বেগে চম্পট দেয়।
এই দুঃসাহসিক চুরির খবর সকালে প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফ থেকে খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছন কামারেড্ডি জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। অপরাধীদের ধরতে এবং ঘটনার সঠিক ক্রমপর্যায় বোঝার জন্য পুলিশ অবিলম্বে ওই এটিএম কিয়স্ক এবং আশেপাশের সমস্ত রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে শুরু করে। সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে নামানো হয় বিশেষ ফরেনসিক দল বা ‘ক্লু’ (Clue) টিমকেও। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এটিএম-এর ভেতর থেকে দুষ্কৃতীদের আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন। যে অ্যাম্বুল্যান্সটি এই অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটির নম্বর প্লেট আসল নাকি জাল, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলিতেও জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি যে ওই ভাঙা এটিএম থেকে ঠিক কত পরিমাণ নগদ টাকা চুরি গিয়েছে। তবে পুলিশ কর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, পুজোর মরশুম হওয়ার কারণে ওই এটিএম-এ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ মজুত থাকতে পারে। এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার পর এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক সমস্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং এই আন্তঃরাজ্য বা স্থানীয় কোনো বড় গ্যাং এর সঙ্গে জড়িত কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের আশা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে খুব শীঘ্রই এই নাইটি পরা দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং তাদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে তুলে দেওয়া যাবে। আপাতত দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।




