CJI Surya Kant on INDIA Bloc: সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ নাগরিকদের জন্য, বিরোধীদের সঙ্গে বৈঠক না করার কারণ জানালেন প্রধান বিচারপতি

Published:

CJI Surya Kant on INDIA Bloc: বিরোধীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানকে ‘চূড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা’ বলে তোপ দাগলেন প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভে

New Delhi: দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A) শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করতে কেন অস্বীকার করেছেন, অবশেষে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। সোমবার একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান যে, বিরোধীদের আর্জি খারিজ করার পিছনে একটি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে এবং সেটি তিনি ইতিমধ্যেই বিরোধী শিবিরকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। ‘ভোট চুরি’ বা ইভিএম কারচুপি নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যে দেশব্যাপী রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে, তার মাঝেই প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছেন যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট মূলত দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য এবং এর দরজা সকলের জন্যই সর্বদা উন্মুক্ত। কিন্তু কোনো বিচারাধীন বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক করা আদালতের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

CJI Surya Kant on INDIA Bloc: রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া শিবিরের সঙ্গে দেখা করতে নারাজ প্রধান বিচারপতি, খারিজ সাক্ষাতের আর্জি

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকায় ব্যাপক বেনিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে, ঠিক সেই আবহেই রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, সরাসরি প্রধান বিচারপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করা। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী শিবিরকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিরোধীরা যে সমস্ত বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলছেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন বেঞ্চে বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাই এই ধরনের স্পর্শকাতর ও বিচারাধীন বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ চাওয়ার বদলে, বিরোধী নেতাদের উচিত বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় আদালতের মধ্যে বিষয়গুলি উত্থাপন করা। মূলত সেই কারণেই বিরোধী নেতাদের সরাসরি বৈঠকের আবেদন খারিজ করে তাঁদের আইনি পথে পিটিশন দাখিল করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement Andaman Vibes

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের এই বৈঠকের আর্জি এবং সুপ্রিম কোর্টের দিকে ইন্ডিয়া শিবিরের মিছিল করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল এবং প্রখ্যাত আইনজীবী হরিশ সালভে। সংবাদসংস্থা আইএএনএস (IANS)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বিরোধীদের এই গোটা পদক্ষেপকে ‘চূড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা’ বলে মন্তব্য করে তোপ দেগেছেন। তাঁর প্রশ্ন, প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবীরা কেন সরাসরি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন জানাচ্ছেন? হরিশ সালভে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলেন যে, এই রাজনৈতিক নেতাদের কি কেউ বলে দেননি যে প্রধান বিচারপতি নিজে সমস্ত মামলার শুনানি করেন না? সুপ্রিম কোর্টে যেকোনো মামলার শুনানি হয় নির্দিষ্ট বেঞ্চে এবং বিচারবিভাগীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনেই তার রায় ঘোষণা করা হয়। তাই সালভের মতে, বিচারবিভাগের কাছ থেকে কোনো প্রতিকার চাইলে রাজনৈতিক নেতাদের নির্ধারিত আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, রাস্তায় মিছিল করা তার কোনো বিকল্প হতে পারে না।

SC on Delhi Protest: বেআইনি আটক চলবে না, মেট্রো-ইন্টারনেট চালুর কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বিরোধীদের মূল দাবি হলো, দেশে অবিলম্বে কথিত ‘ভোট চুরি’ বন্ধ করতে হবে, এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করার কথা রয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের। অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছে যুব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই বিক্ষোভের আবহে সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের এই মিছিলের ঘোষণায় রাজধানীতে পুলিশি নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই বহু বিক্ষোভকারীকে আটকও করেছে দিল্লি পুলিশ। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রশাসন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর বলপ্রয়োগ করেছে।

Advertisement

যদিও নির্বাচন কমিশন এবং শাসকদল বিরোধী শিবিরের এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রথম থেকেই উড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে কখনোই বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গেই পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যদি পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা পুনরায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন জানাতে পারেন, এর জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব আইনি সংস্থান এবং পর্যাপ্ত সময়সীমা রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীদের তোলা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে শাসকদল বিজেপির দাবি, বিরোধীরা নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং জনসমর্থন হারানোর হতাশা ঢাকতেই একটি বৈধ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলছে। সব মিলিয়ে, দেশের প্রধান বিচারপতির কড়া অবস্থান, প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেলের তীব্র সমালোচনা এবং শাসক-বিরোধী এই চরম রাজনৈতিক তরজার মাঝে পড়ে সোমবার দিল্লির রাজপথে এক চূড়ান্ত আইনি ও রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা কি আদালতের পরামর্শ মেনে আইনি পথেই হাঁটবে, নাকি রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, যা নিশ্চিতভাবেই অত্যন্ত চমকপ্রদ হতে চলেছে।

Advertisement S Bhattacharya

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img