CJI Surya Kant on INDIA Bloc: স্মারকলিপির বদলে পিটিশন দাখিলের পরামর্শ, প্রধান বিচারপতি না মিললেও সোমবার পদযাত্রায় অনড় বিরোধীরা
New Delhi: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে সারা দেশ যখন তোলপাড়, ঠিক তখনই বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এক বড়সড় ধাক্কা লাগল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বিরোধী রাজনৈতিক জোট ‘ইন্ডিয়া’র (I.N.D.I.A Bloc) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সশরীরে দেখা করতে অস্বীকার করেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতৃত্ব সোমবার রাজধানী দিল্লিতে এক বিশাল পদযাত্রা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গিয়ে প্রধান বিচারপতির হাতে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির দফতর থেকে বিরোধীদের সেই সাক্ষাতের অনুরোধ সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা রাহুলের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক ইমেলে প্রধান বিচারপতির দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এভাবে কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রশাসনিক স্তরে সরাসরি দেখা করার এক্তিয়ার আদালতের নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের শীর্ষ আদালতমুখী লড়াই আপাতত এক নতুন আইনি প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে।
Chennai Metro Project: মেট্রোর নতুন রুটের উদ্বোধন, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে সফর মোদীর
প্রধান বিচারপতির দফতরের তরফ থেকে বিরোধী নেতৃত্বকে স্পষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, স্মারকলিপি দেওয়ার বদলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট যেন দেশের আইনি রীতি মেনে আদালতে যথাযথ পিটিশন দায়ের করে। বিরোধী নেতারা নির্বাচনে ভোটচুরি, ইভিএম কারচুপি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যে সমস্ত অভিযোগ তুলতে চাইছিলেন, সেই সংক্রান্ত একাধিক মামলা ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতের বিভিন্ন বেঞ্চে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আদালতের বাইরে ব্যক্তিগত স্তরে কথা বলা বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলেই মনে করছে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, বিচার বিভাগের কাজ হলো আইনজীবীদের মাধ্যমে পেশ করা আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা এবং তার ওপর ভিত্তি করে সংবিধান অনুযায়ী রায় দেওয়া। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের দরজা দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই সর্বদা খোলা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।
![]()
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সাক্ষাতে অসম্মতি প্রকাশ করলেও নিজেদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থেকে এক পা-ও পিছিয়ে আসতে রাজি নয় বিরোধী ইন্ডিয়া শিবির। দিল্লি সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সোমবার রাজধানী দিল্লির বুকে বিরোধীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ পদযাত্রা বহাল রাখছে। ভোটচুরির অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যে দেশব্যাপী গণআন্দোলন শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই সোমবার রাস্তায় নামবেন রাহুল গান্ধী এবং বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতানেত্রীরা। রাহুল গান্ধী আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের এই সুবিশাল পদযাত্রাটি নিছক কোনো রাজনৈতিক বিরোধী শিবিরের পদযাত্রা নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার রক্ষার লড়াই। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে আরও তীব্র করে তোলার পাশাপাশি এই ইস্যুতে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করাই বিরোধীদের মূল লক্ষ্য। কারণ বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই কথিত অস্বচ্ছতার সুফল সরাসরি শাসকদলই ভোগ করছে।
Jantar Mantar Viral Video: যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ভাইকে বকুনি মহিলা পুলিশের! হাসিতে মজল নেটপাড়া
এর আগে গত শুক্রবার বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া শিবিরের শীর্ষ প্রতিনিধিরা দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে দেখা করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধী প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির হাতে একটি চার দফা দাবিসম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দিয়েছিলেন। সেই স্মারকলিপিতে বিরোধীদের প্রধান চারটি দাবির মধ্যে ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া ২০২৩ সালের বিতর্কিত আইনটি প্রত্যাহার করা। এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে কথিত ১৩.৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এসআইআর প্রক্রিয়া প্রত্যাহার করে তাঁদের নাম পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়। দেশের সব নির্বাচনে পুনরায় ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনা এবং গত দুই বছরের বেশি সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া সমস্ত বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করার মতো চরম দাবিও বিরোধীরা রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার দিল্লির রাজপথের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবদের টানা বিক্ষোভ এবং অন্যদিকে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির রাজপথে শক্তি প্রদর্শন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে রাজধানী এখন এক চরম অস্থিরতার সাক্ষী হতে চলেছে। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সাক্ষাতের আবেদন ফিরিয়ে দিয়ে বিরোধীদের আইনি পিটিশন দাখিল করার যে পথ দেখিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে বিরোধী শিবির শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইকে বেছে নেয় নাকি রাজপথের উত্তাপকেই হাতিয়ার করে চাপ বজায় রাখে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে প্রধান বিচারপতির এই কড়া এবং নীতিগত অবস্থানে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রচারের মঞ্চ হিসেবে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে ব্যবহার করার সুযোগ আদালত কাউকেই দিতে নারাজ।



