Jantar Mantar Viral Video: ডিউটি নাকি পরিবার? যন্তর মন্তরে পুলিশ দিদি ও প্রতিবাদী ভাইয়ের খুনসুটিতে আপ্লুত সমাজমাধ্যম
New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লির প্রাণকেন্দ্র যন্তর মন্তর এই মুহূর্তে নানা রাজনৈতিক এবং নাগরিক আন্দোলনের ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন, আর সেই ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দিল্লি পুলিশ। এই চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা, স্লোগান এবং কড়া পুলিশি প্রহরার মাঝেই সম্প্রতি এমন একটি অদ্ভুত এবং মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে গোটা দেশের নজর কেড়ে নিয়েছে। সমাজমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে যে, যন্তর মন্তরে কর্তব্যরত এক মহিলা পুলিশকর্মী একজন আন্দোলনকারী তরুণের সঙ্গে প্রকাশ্য রাস্তায় তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তবে সাধারণ পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধের চেনা ছবির বাইরে গিয়ে যখন জানা যায় যে ওই প্রতিবাদী তরুণটি আসলে ওই পুলিশকর্মীর নিজেরই ছোট ভাই, তখন এই ভিডিয়োর আবেদন সম্পূর্ণ এক অন্য মাত্রা পায়। ভাই ও বোনের এই প্রকাশ্য খুনসুটি এবং শাসনের দৃশ্যটি নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া সেই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিয়োতে সম্পূর্ণ ঘটনাটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, দোহারা চেহারার এক তরুণ, যাঁর পরনে একটি হালকা সবুজ রঙের টিশার্ট এবং বুকের সামনের দিকে একটি ব্যাগ ঝোলানো রয়েছে, তিনি পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আর তাঁর ঠিক সামনেই পুলিশের কড়া ইউনিফর্ম পরে ডিউটি করছেন তাঁর নিজের দিদি। ছোট ভাইকে ওই বিশাল রাজনৈতিক বিক্ষোভের মাঝে দেখতে পেয়ে দিদির চোখেমুখে বিরক্তি এবং উদ্বেগের ছাপ ছিল একেবারে স্পষ্ট। একজন পুলিশকর্মী হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক এবং বড় দিদি হিসেবেই তিনি প্রকাশ্য রাস্তায় ভাইকে শাসন করতে শুরু করেন। বেশ রাগত স্বরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তুই তো ছোট আমার থেকে।” এই কথাটির মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি ভাইকে এই ঝামেলার জায়গা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের এই পারিবারিক বিবাদ চলাকালীন আশপাশে উপস্থিত অন্যান্য পুলিশকর্মী এবং সাধারণ মানুষও বেশ কৌতূহল নিয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন।
![]()
ভিডিয়োতে আরও দেখা যায় যে, দিদির বকার সামনে কিন্তু তরুণ ভাইটি একেবারে চুপ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেননি। ভাই-বোনের চিরাচরিত ঝগড়ার মতোই তিনি দিদির কথার পিঠে অবলীলায় উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কর্তব্যরত আরও এক পুলিশকর্মী যখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং দিদির রাগ ভাঙানোর উদ্যোগ নেন, তখনও তরুণটি থামার পাত্র ছিলেন না। তিনি প্রকাশ্যেই দিদিকে দোষারোপ করে বলেন যে, তাঁর হাত ধরে টানা হয়েছে। ভাইয়ের এই অপ্রত্যাশিত অভিযোগ শুনে ওই মহিলা পুলিশকর্মী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমি কখন তোর হাত ধরে টেনেছি?” এই তর্কবিতর্কের মাঝেই হঠাৎ করে এক জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি হয়। পুলিশি উর্দির রুক্ষতার মোড়ক আর বেশি ক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি ওই দিদি। ভাইয়ের শিশুসুলভ অভিযোগ এবং জেদ দেখে তিনি হঠাৎ করেই খিলখিল করে হেসে ফেলেন। আর দিদির এই স্নেহের হাসির সঙ্গেই ভিডিয়োটি শেষ হয়ে যায়, যা দর্শকদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি রেখে যায়।
সমাজমাধ্যমে এই অনন্য ভিডিয়োটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ‘মিথিলেশ১৫এন’ নামের একটি হ্যান্ডল থেকে এই ঘটনাটির ভিডিয়ো প্রথম পোস্ট করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পোস্ট হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাজার হাজার মানুষ ভিডিয়োটি দেখে ফেলেন এবং সেটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে। যদিও আমাদের সংবাদমাধ্যমের পক্ষে স্বাধীনভাবে এই ভিডিয়োটির সত্যতা বা সময়কাল যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে নেটিজেনরা এই ভাই-বোনের কাণ্ড দেখে রীতিমতো আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন। কমেন্ট বক্সে উপচে পড়ছে মানুষের ভালোবাসা এবং আবেগপূর্ণ মন্তব্য। এক নেটিজেন অত্যন্ত সুন্দরভাবে লিখেছেন, “ভাইবোনের মধ্যে বিবাদের অজস্র কারণ থাকতে পারে, কিন্তু দিনের শেষে সব মান-অভিমান ভুলে ভাইবোনের অকৃত্রিম ভালবাসারই জয় হয়।” অনেকেই আবার মন্তব্য করেছেন যে, আজকের এই চরম অস্থির এবং অসহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের ভিডিয়ো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পুলিশকর্মীরাও দিনশেষে রক্তমাংসের মানুষ।

সামগ্রিকভাবে বিচার করলে, যন্তর মন্তরের এই ঘটনাটি কেবল একটি ভাইরাল ভিডিয়ো নয়, বরং এটি আমাদের সমাজব্যবস্থার এক অত্যন্ত গভীর সত্যকে তুলে ধরে। একজন মানুষ যখন পুলিশের উর্দি পরেন, তখন তাঁর ওপর রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব থাকে, কিন্তু সেই উর্দির নিচে থাকা হৃদয়টি সবসময় নিজের পরিবারের জন্যই স্পন্দিত হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের সহোদরকে উল্টো দিকের ব্যারিকেডে দেখলে একজন দিদির মনে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়, তা এই ভিডিয়োতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। রাজনৈতিক আদর্শ, রাষ্ট্রের আইন এবং পারিবারিক বন্ধন—এই ত্রিমুখী স্রোতের মধ্যে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত দিদির ওই অমলিন হাসি প্রমাণ করে দিল যে রক্তের টান সবকিছুর ঊর্ধ্বে। যন্তর মন্তরের উত্তপ্ত রাজপথে ভাই-বোনের এই মিষ্টি বিবাদ তাই অনন্তকাল ধরে মানবিকতার এক সুন্দর নিদর্শন হয়ে থাকবে।




