Chennai Metro Project: রেল, সড়ক থেকে বন্দর, তামিলনাড়ুর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
Chennai: চেন্নাই শহরের মুকুটে আজ যুক্ত হলো আধুনিকতার আরও এক নতুন পালক। রবিবার সকালে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহুপ্রতীক্ষিত ‘Chennai Metro Project’-এর অন্তর্গত পুন্নামালে থেকে ভাদাপালানি অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় চার হাজার নয়শো কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অত্যাধুনিক মেট্রো প্রকল্পের শুভ সূচনা করার পর তিনি নিজে এই মেট্রোয় সফর করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ মেট্রো সফরে তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে শুরু করে পুন্নামালে বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে এই সফর উপভোগ করেন। প্রশাসনের দাবি, এই আধুনিক মেট্রো পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে চেন্নাই শহরের যানজট যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক যাতায়াত আরও অনেক বেশি সুগম ও আরামদায়ক হবে।
SC on Delhi Protest: বেআইনি আটক চলবে না, মেট্রো-ইন্টারনেট চালুর কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
শুধুমাত্র মেট্রো প্রকল্পই নয়, এদিন তামিলনাড়ুর সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রায় তিন হাজার সাতশো কোটি টাকার একাধিক জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ছত্রিশ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের ভাদুগাপট্টি-থেরকুভেঙ্গানাল্লুর জাতীয় সড়ক অংশ, যা ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে। এছাড়া মাদুরাই রিং রোডের ত্রিশ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন অংশেরও উদ্বোধন করা হয়, যা মাদুরাই শহরের ভেতরের যানজট কমাতে বড় ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, নাগাপট্টিনাম-তাঞ্জাভুর অংশের ওপর থিরুভারুর বাইপাসের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সমস্ত সড়ক প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা আরও দ্রুত হবে, যাতায়াতের সময় কমবে এবং সামগ্রিকভাবে রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
![]()
সড়ক ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের রেল ও বন্দর পরিকাঠামো উন্নয়নেও এদিন একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সাতশো পঞ্চাশ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন রেলওয়ে পরিকাঠামো দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এর মধ্যে কারাইকাল-পেরালম নতুন রেললাইন এবং কোয়েম্বাটুর এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেল ফ্লাইওভার অন্যতম, যা ওই এলাকার যানজট কমিয়ে যাতায়াতকে আরও নিরাপদ করবে। এছাড়া ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় উন্নত করা পালানি, ভেলোর ক্যান্টনমেন্ট, আম্বাসামুদ্রম, পরমাকুডি এবং নামক্কল—এই পাঁচটি স্টেশনেরও উদ্বোধন করেন তিনি। বন্দর পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে চেন্নাই বন্দরে চারটির বেশি উন্নত পরিকাঠামো প্রকল্পের সূচনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে নতুন স্টোরেজ ইয়ার্ড এবং আধুনিক ক্রুজ টার্মিনাল। পাশাপাশি, ভিও চিদম্বরনার বন্দর এবং কামারাজার বন্দরে কার্গো ও কন্টেইনার পরিচালনার ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
শিল্প ও স্বাস্থ্য গবেষণার ক্ষেত্রেও এদিনের অনুষ্ঠানটি তামিলনাড়ুর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন চেন্নাই পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (CPCL)-এর মানালি রিফাইনারিতে প্রায় এক হাজার ছয়শো কুড়ি কোটি টাকা ব্যয়ে লুব অয়েল বেস স্টকস (LOBS) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ভারতে বিশ্বমানের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি লুব্রিকেন্ট প্রস্তুত করা। অন্যদিকে, শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে আইআইটি (IIT) মাদ্রাসে ‘সুধা গোপালকৃষ্ণান ব্রেন সেন্টার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। মানব মস্তিষ্কের জটিল গঠন এবং স্নায়বিক বিভিন্ন রোগ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রটি বিশ্বব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মানব মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক ম্যাপিং এবং স্ট্রোক আক্রান্ত মস্তিষ্কের গবেষণার জন্য ‘সি-স্ট্রোক’ (C-STROKE) নামক একটি বিশেষ অ্যাটলাসও এদিন প্রকাশ করেন তিনি, যা আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের আশা।

এদিনের এই ব্যস্ত কর্মসূচির একেবারে শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চেন্নাইয়ের ঐতিহ্যবাহী জয়গোপাল গারোদিয়া হিন্দু বিদ্যালয় ম্যাট্রিকুলেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের সুবর্ণ জয়ন্তী বা পঞ্চাশ বছর পূর্তি উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন। গত পাঁচ দশক ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষাদানের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং একটি সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। “সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে” অর্থাৎ ‘জ্ঞানই মানুষকে মুক্ত করে’—এই মহান আদর্শকে সামনে রেখে স্কুলটি আগামী দিনেও সমাজের উন্নয়নে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে রবিবার চেন্নাইয়ের বুকে পরিকাঠামো, শিল্প, স্বাস্থ্য গবেষণা এবং শিক্ষার একাধিক প্রকল্পের যে উদ্বোধন ও শিলান্যাস হলো, তা আগামী দিনে তামিলনাড়ুর সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের দৃঢ় বিশ্বাস।




