SC on Delhi Protest: বেআইনি আটক চলবে না, মেট্রো-ইন্টারনেট চালুর কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Published:

SC on Delhi Protest: গণগ্রেফতারি নিয়ে কেন্দ্রকে নোটিশ, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা

New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং গণগ্রেফতারির ঘটনায় এবার কড়া হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। রবিবার ছুটির দিনে একটি বিশেষ শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত করা মানুষদের কোনোভাবেই বেআইনিভাবে আটক করা চলবে না। পাশাপাশি রাজধানীর মেট্রো এবং রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছন্দে চালু রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার সিজেপি-র বিক্ষোভ রুখতে প্রশাসনের তরফ থেকে যে ব্যাপক ধরপাকড় এবং ইন্টারনেট ও যান চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া নির্দেশ আন্দোলনকারীদের বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Dhruv Rathee Released: দিনভর আটকে রাখার পর গভীর রাতে গুরুগ্রাম পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন ধ্রুব রাঠী

রবিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি হয়। শুনানির সময় বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “৯ই অক্টোবর আমাদের দেওয়া আগের নির্দেশের মারাত্মক লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ১০ই অক্টোবর দিল্লিতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা এই জরুরি শুনানির জন্য একত্রিত হয়েছি।” শীর্ষ আদালতের এই বেঞ্চে আবেদনকারীদের পক্ষের বর্ষীয়ান আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, শনিবার প্রশাসনের তরফ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের চরম অবমাননা করা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত ছিল, নয়াদিল্লি এবং নিজামুদ্দিন রেলওয়ে স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য কোনো ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি পর্যন্ত জারি করা হয়নি। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৬৩ নম্বর ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকার বাইরে গিয়েও বিপুল সংখ্যক মানুষকে অকারণে হয়রানি ও বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ জানানো হয়।

Advertisement

এই গুরুতর অভিযোগ শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্বকারী সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে নির্দেশ দেয় যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেও দিল্লি মেট্রো যাতে তার স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চলে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা প্রশাসনকে সুনিশ্চিত করতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বাধা দেওয়া যাবে বহুমুখী কাজে না। অন্যদিকে, শনিবারের বিপুল ধরপাকড় এবং রাজনৈতিক নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ষীয়ান আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী সুপ্রিম কোর্টে একটি হেবিয়াস কর্পাস (habeas corpus) বা বন্দি প্রত্যর্পণ পিটিশন দায়ের করেছেন। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আইনজীবীর বক্তব্য তারা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনবে। শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রশাসনের পদক্ষেপের হয়ে সওয়াল করে জানান যে, শনিবার দিল্লি মেট্রোর ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৪৫টিতে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।

UN on Delhi Protest: দিল্লিতে গণগ্রেফতারি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ, ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে কড়া জবাব ভারতের

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো কেন্দ্র ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিশ জারি করা। আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা এই আদালত অবমাননার পিটিশনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-এর চেয়ারপার্সন ডি থারা-কে বিবাদী পক্ষ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের কারণে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং একাধিক ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি আলাদা মামলার শুনানিতে গত ৯ই অক্টোবর শীর্ষ আদালত যে নির্দেশিকা দিয়েছিল, প্রশাসন তা সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছে। ১০ই অক্টোবর শনিবার রাজধানীতে যে গণগ্রেফতারি এবং বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা বলে অভিযোগ তুলে এবার কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Advertisement

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালীতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে সঙ্গে নিয়ে যন্তর মন্তরে এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কিন্তু সরকার ও পুলিশ প্রশাসন রাজধানীজুড়ে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে সেই পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে সিজেপি-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে, একাধিক বিরোধী নেতা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী-সহ সাত হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। যদিও গভীর রাতে ধ্রুব রাঠীকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং সিজেপি নেতারাও আদালতের রায়ে মুক্তি পান। এবার খোদ সুপ্রিম কোর্ট পুলিশি ধরপাকড়, ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এবং মেট্রো বন্ধের মতো ইস্যুতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায়, আগামী দিনে এই আন্দোলন এবং আইনি লড়াই যে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

IMG 20261003 WA0013

Taniya Roy
Taniya Roy
Taniya Roy (Asst. Editor) Website Management, Page:3 & Cultural News, Semi Political News Maker and mainly Social Media Publisher.

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img