UN on Delhi Protest: দিল্লিতে গণগ্রেফতারি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ, ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে কড়া জবাব ভারতের

Published:

UN on Delhi Protest: অবিলম্বে আটকদের মুক্তির দাবি রাষ্ট্রসংঘের, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ নয়াদিল্লির

New Delhi: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং তাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন ধরপাকড়ের জল এবার আছড়ে পড়ল আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভে সামিল হওয়া প্রায় ৭ হাজার ছাত্র, যুব নেতা এবং সাধারণ মানুষকে আটক করে পুলিশ। রাজধানী জুড়ে চলতে থাকা এই গণগ্রেফতারি এবং ইন্টারনেট ও ট্রেন বাতিলের মতো কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলি দেশে যেমন তুমুল সমালোচনার ঝড় তুলেছে, ঠিক তেমনই তা এবার আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই গণগ্রেফতারির প্রতিবাদ জানিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন (UN Human Rights), যা নিয়ে একটি নতুন কূটনৈতিক তরজার সূত্রপাত হয়েছে। আর রাষ্ট্রসংঘের এই বিবৃতির পর একটুও সময় নষ্ট না করে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজেদের সরকারি অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত সরকার।

 

UN on Delhi Protest: দিল্লিতে সিজেপি-র বিক্ষোভে গণগ্রেফতারি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পোস্ট এবং জেনেভায় ভারতীয় মিশনের দেওয়া কড়া জবাব (1)
UN on Delhi Protest: দিল্লিতে সিজেপি-র বিক্ষোভে গণগ্রেফতারি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পোস্ট এবং জেনেভায় ভারতীয় মিশনের দেওয়া কড়া জবাব (1)

শনিবার রাতে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশন বা ওএইচসিএইচআর (OHCHR) তাদের সরকারি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্ট করে দিল্লির এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দিল্লিতে এই বিশাল বিক্ষোভের আগে এবং বিক্ষোভ চলাকালীন বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী, প্রতিবাদী নেতা, সুশীল সমাজের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের যেভাবে গণহারে আটক করা হয়েছে, সেই রিপোর্ট পেয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিশেষ গ্রাফিক কার্ড শেয়ার করে তারা অত্যন্ত কড়া ভাষায় দাবি জানিয়েছে যে, যাদের বেআইনিভাবে বা জোরপূর্বক আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে আসা মানুষদের ওপর প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপ মানবাধিকারের পরিপন্থী বলেই পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করেছে রাষ্ট্রসংঘের এই শাখা।

Sonam Wangchuk Warning: ‘পদযাত্রা অথবা অনশন’, আটক বিক্ষোভকারীদের মুক্তি না দিলে হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের

রাষ্ট্রসংঘের এই পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেনেভায় অবস্থিত ভারতের স্থায়ী মিশন (India at UN, Geneva) এক্স হ্যান্ডেলে একটি পাল্টা পোস্ট করে এই বিবৃতির অত্যন্ত কড়া জবাব দিয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ এই শাখা স্পষ্ট ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ভারত হলো বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে দেশের সংবিধান দ্বারা শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত করার অধিকারকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং একটি মুক্ত সংবাদমাধ্যমের দ্বারা এই গণতান্ত্রিক অধিকারগুলিকে সর্বদা সুরক্ষিত রাখা হয় বলেও জানিয়েছে ভারতীয় মিশন। তবে ভারত একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের অন্য যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের মতোই ভারতীয় নাগরিকরা তাঁদের এই সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন শুধুমাত্র জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধের (reasonable restrictions in the interest of public order) অধীনে থেকেই।

Advertisement Andaman Vibes

ভারতের তরফ থেকে দেওয়া এই জবাবি পোস্টে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রকাশ করা উদ্বেগকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পুলিশ বা প্রশাসন তাদের অংশে আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকেই যাবতীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং যেকোনো ধরনের অভিযোগ বা অভাব-অভিযোগের প্রতিকারের জন্য দেশের আদালত সবসময় দেশের নাগরিকদের জন্য খোলা রয়েছে। ভারতীয় মিশন আরও জোরালো ভাষায় জানিয়েছে যে, ওএইচসিএইচআর-এর এই উদ্বেগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, স্থানচ্যুত এবং এটি আক্ষরিক অর্থেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি অযাচিত হস্তক্ষেপ (unwarranted interference in the internal affairs of India) ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা সংগঠন দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর এহেন মন্তব্য করলে নয়াদিল্লি যে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না, তা এই কড়া বিবৃতির ছত্রে ছত্রে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Anti CEC Protest Tomorrow: ‘কাল আবার ফিরব’, নেতারা আটক হলেও যন্তর মন্তরে লড়াই জারি রাখার ডাক

এই কূটনৈতিক তরজার একেবারে শেষে ভারত রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরামর্শ বা পাল্টা খোঁচাও দিয়েছে। ভারতীয় মিশন উল্লেখ করেছে যে, ওএইচসিএইচআর-এর উচিত শুধুমাত্র ভারতের দিকে আঙুল না তুলে, বিশ্বের অন্যান্য স্থানে ঘটা বিশাল প্রতিবাদ বা বিক্ষোভগুলির দিকেও সমান মনোযোগ বা দৃষ্টি দেওয়া। অর্থাৎ, ভারতের মতো একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের নিজস্ব প্রশাসনিক পদক্ষেপে অহেতুক নাক না গলিয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ঘটে চলা প্রকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিতে রাষ্ট্রসংঘের বেশি করে ফোকাস করা উচিত বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-যুবদের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রসংঘ এবং ভারতের এই প্রকাশ্য কূটনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলে এবং চলমান এই বিক্ষোভের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই তীক্ষ্ণ নজর রাখছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img