Jantar Mantar Protest Site Closure: ‘নরেন্দ্র মোদী কেন যন্তর মন্তরকে ভয় পান?’, প্রটেস্ট সাইট বদলের সরকারি সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ল সিজেপি

Published:

Jantar Mantar Protest Site Closure: রামলীলা ময়দান ও বুড়ারি গ্রাউন্ডকে বিকল্প ঘোষণা পুলিশের, আদালতের দ্বারস্থ বিরোধীরা

New Delhi: রাজধানী দিল্লিতে প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে প্রটেস্ট সাইট বা বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বা ডি-নটিফাই করল দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যার জেরে এখন থেকে যন্তর মন্তরে আর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা যাবে না। এর পরিবর্তে দিল্লির তিনটি নতুন স্থান—রামলীলা ময়দান, বুড়ারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি (CBD) গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নতুন জায়গা হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার সোমবার এই নতুন স্ট্যান্ডিং অর্ডার জারি করেছেন। কিন্তু সরকারের এই হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)-র শীর্ষ নেতারা। তাঁরা একে সরাসরি গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক প্রতিবাদের অধিকারের ওপর এক বড় আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।Advertisementদিল্লি পুলিশের এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসার পরই সিজেপি নেতা অভিজিৎ ডিপকে এবং সৌরভ দাস তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিজিৎ ডিপকে লিখেছেন যে, সরকার যদি যন্তর মন্তরকে তুলে দেয়, তবে গোটা দেশই একদিন যন্তর মন্তরে পরিণত হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে শাসকরা আসলে প্রতিবাদ করার সাধারণ ধারণাকেই ভয় পাচ্ছে এবং দেশজুড়ে এক ধরনের একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে চাইছে। অন্যদিকে, সৌরভ দাস সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে এই ধরনের বড় সিদ্ধান্তের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশের সাধারণ মানুষ বা কোনো স্টেকহোল্ডার বা সংগঠনের সঙ্গে আদৌ কোনো আলোচনা করেছিল কি না। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় দাবি করেছেন যে যন্তর মন্তরের মতো ঐতিহাসিক স্থান কেবল সরকারের নয়, তা ভারতের আপামর জনসাধারণের। এই জবরদস্তিমূলক ও একতরফা সিদ্ধান্ত দেশের সংবিধানপ্রদত্ত শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার এবং প্রতিবাদের মৌলিক অধিকারকে সরাসরি নস্যাৎ করে দিচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

Noida Dog Attack: নয়ডার আবাসনে গ্রেট ডেন কুকুরের আক্রমণে পাগ মৃত্যুর ঘটনার সিসিটিভি দৃশ্য
Noida Dog Attack: নয়ডার আবাসনে গ্রেট ডেন কুকুরের আক্রমণে পাগ মৃত্যুর ঘটনার সিসিটিভি দৃশ্য

আরও পড়ুনঃ Noida Dog Attack: মালকিনের সামনেই পোষ্য পাগ গোগোকে ছিঁড়ে খেল সুবিশাল গ্রেট ডেন, নয়ডার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য 

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও সুর চড়িয়েছেন। তিনি কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুটির মধ্যে এক চরম আতঙ্ক কাজ করছে, যার ফলেই যন্তর মন্তরের মতো ঐতিহাসিক প্রটেস্ট সাইটকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে, তাকে দমন করতেই এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৯ই অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত একটি শুনানির সময় আদালত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের জন্য মৌলিক সুবিধা সহ বিকল্প জায়গার সন্ধান করার কথা বললেও যন্তর মন্তরকে সরাসরি বন্ধ করে দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেয়নি। তা সত্ত্বেও দিল্লি পুলিশের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজধানীতে প্রতিবাদের পরিসর অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।IMG 20261003 WA0013

যন্তর মন্তর বন্ধ করার এই সরকারি নির্দেশের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই শুরু হয়ে গেছে। দিল্লি হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আইনজীবীরা আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানিয়েছেন যে বিকল্প কোনো সঠিক পরিকাঠামো তৈরি না করে হঠাৎ করে যন্তর মন্তরের মতো মূল কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ায় নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি গত সপ্তাহের শেষের দিকে বিক্ষোভের সময় বহিরাগতদের প্রবেশ এবং সাধারণ প্রতিবাদীদের হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ তুলে পৃথক আরেকটি পিটিশনও আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে এই ধরনের প্রশাসনিক কড়াকড়ি গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ।

Gyanesh Kumar Controversy: জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে দিল্লির রাজনীতিতে সিপিএম ও তৃণমূলের কাছাকাছি আসার ছবি
Gyanesh Kumar Controversy: জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে দিল্লির রাজনীতিতে সিপিএম ও তৃণমূলের কাছাকাছি আসার ছবি

আরও পড়ুনঃ Gyanesh Kumar Controversy: জ্ঞানেশ কাণ্ডে দিল্লিতে কাছাকাছি সিপিএম ও মমতা, কোন পথে হাঁটবে রাজ্য নেতৃত্ব? 

সব মিলিয়ে, যন্তর মন্তরকে প্রটেস্ট সাইট হিসেবে বাদ দেওয়া এবং নতুন বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান বা বহু দূরে অবস্থিত বুড়ারি গ্রাউন্ডকে নির্ধারণ করার পর জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়ে গেছে। একদিকে রাজপথে সিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির লাগাতার প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে আদালতের অন্দরে চলা আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে এই বিরোধ এক নতুন রূপ নিয়েছে। সরকার পক্ষের দাবি, শহরের জনবহুল এলাকায় বড় মাপের বিক্ষোভের জেরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও যানজট এড়াতেই এই প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে যত বাধাই আসুক না কেন, জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তারা পিছু হটবে না। আগামী দিনে আদালতের রায় এবং প্রতিবাদী সংগঠনগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর সমগ্র দেশের নজর নিবদ্ধ রয়েছে।Advertisement Burger4u

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img