Sabina Yasmin Resigns: মহিলা তৃণমূলের জেলা সভাপতির পদ ছাড়লেন সাবিনা ইয়াসমিন, মমতার শিবিরে ফেরা নিয়ে জল্পনায় জল ঢাললেন নেত্রী
রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ
Malda: রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। বিধানসভা ভোটের পর থেকেই রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে নানা টানাপোড়েন চলছে, আর এরই মধ্যে মালদহ জেলা রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পদত্যাগ করলেন হেভিওয়েট নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁর এই হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তিনি কি তবে পুরোনো দল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরেই ফের প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন? তবে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে সাবিনা নিজেই তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে মুখ খুলেছেন।

বুধবার সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতির নজর ছিল মালদহের দিকে, কারণ এদিন সকালেই প্রকাশ্যে আসে যে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তিনি ডেমোক্রেটিক তৃণমূল থেকে নয়, বরং সরাসরি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস থেকেই পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে দলীয় সংগঠনের কাজে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরার পর মালদহের এই প্রভাবশালী নেত্রী মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। আর সেই কারণেই বর্তমান পদত্যাগের পর তাঁর ফের মমতার শিবিরে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ডানা মেলতে শুরু করে।
তবে এই সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনাকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে শারীরিক অসুস্থতা ও শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি এখন আর আগের মতো দৌড়ঝাঁপ বা ছুটোছুটি করতে পারছেন না। তাঁর মতে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে যদি সেই পদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা না যায়, তবে সেই পদ আঁকড়ে ধরে বসে থাকার কোনো অর্থ হয় না। মূলত এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি নিজ দায়িত্বে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে বিপ্লব মিত্রের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েও দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগের নেপথ্যে শুধু শারীরিক বা পারিবারিক কারণ ছাড়াও সাম্প্রতিক কিছু আইনি ও প্রশাসনিক চাপও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসেই মোথাবাড়ি কাণ্ড এবং ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা মালদহের কালিয়াচক এলাকায় রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনায় এনআইএ-র মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে। কালিয়াচক থানায় তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এমন একটি স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে তাঁর এই পদত্যাগ দলের অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সাবিনা ইয়াসমিনের এই পদত্যাগ ও মমতার শিবিরে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা মালদহের রাজনৈতিক ময়দানে বেশ বড় প্রভাব ফেলেছে। একদিকে ঋতব্রত শিবির ছেড়ে পদত্যাগ এবং অন্যদিকে এনআইএ তলবের চাপ—এই দুইয়ের বেড়াজালে সাবিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




