Kolkata weather Durga Puja: পুজোয় কি ভাসবে বাংলা? পঞ্চমীতে মেঘের ঘনঘটা, কলকাতা ও দুই বঙ্গের আবহাওয়ার বিরাট আপডেট
রিপোর্ট: তানিয়া রায়
Kolkata: শারদোৎসবের আনন্দ ও পুজোর আমেজে মেতে ওঠার ঠিক প্রাক্কালে বাংলার আকাশ নিয়ে উৎসুক মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে, কারণ আজ পঞ্চমীর সকাল থেকেই কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আবহাওয়ার খামখেয়ালি রূপ বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুজো পরিক্রমা ও প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দ কিছুটা হলেও মাটি করে দিতে পারে বৃষ্টির পূর্বাভাস, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তারা সকলেই কিছুটা চিন্তিত। Kolkata weather Durga Puja পরিস্থিতি অনুযায়ী মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে মহাষ্টমী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, উৎসবের শেষলগ্নে অর্থাৎ নবমী ও দশমীর দিকে আবহাওয়া ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে যাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে।
কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পঞ্চমীর দিন থেকেই আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে চিংড়িহাটা বা গড়িয়াহাটের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলিতে এই বৃষ্টির কারণে সাময়িক ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে, যা উৎসবের দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের চলাচলে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তা সত্ত্বেও বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজোর উদ্দীপনা ও উল্লাসে সামান্য এই বৃষ্টির ফোঁটা কোনোভাবেই ভাঁটা ফেলতে পারবে না বলেই মনে করছেন প্রবীণ থেকে নবীন পুজোপ্রেমীরা। রাজ্যজুড়ে প্যান্ডেলের আলো আর নতুন জামার গন্ধে মুখরিত হয়ে থাকা পরিবেশের সঙ্গে বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা পুজোর আমেজকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় কিছুটা আলাদা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে পর্যটক ও পুজোদর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির পাহাড়ি ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে পঞ্চমীর দিনে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও মনোরম থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর অর্থাৎ ষষ্ঠী ও সপ্তমীর নাগাদ উত্তরবঙ্গের কিছু বিক্ষিপ্ত এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সামান্য প্রভাবিত করতে পারে। তা সত্ত্বেও উত্তরবঙ্গের সমতল ও অন্যান্য অংশে পুজোর দিনগুলিতে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নেই, ফলে সেখানে উৎসবের আনন্দ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবেই উদযাপিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের সামান্য প্রভাবেই উৎসবের মুখে বাংলার আবহাওয়ায় এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পুজোর দিনগুলিতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ায় ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতার অস্বস্তি বজায় রাখতে পারে। দিনের বেলা তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি থাকতে পারে, এবং রোদের তেজ ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে কিছুটা ক্লান্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে পুজো কমিটিগুলি এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করে রেখেছে, যাতে বৃষ্টির হাত থেকে প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জাকে রক্ষা করা যায় এবং দর্শনার্থীদের কোনো রকম বড় সমস্যার মুখে পড়তে না হয়। ওয়াটারপ্রুফ প্যান্ডেল এবং পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে প্রতিটি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ এখন থেকেই নিজেদের নিরাপত্তার বলয় আরও সুদৃঢ় করে তুলেছে।

সব মিলিয়ে, পঞ্চমী থেকে শুরু হওয়া এই পুজোর কদিন বৃষ্টি ও মেঘের লুকোচুরি চললেও বাংলার মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাস ও উদ্দীপনাকে তা কোনোভাবেই দমাতে পারবে না। মা দুর্গার আবাহনে সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে তিলোত্তমা কলকাতা সহ রাজ্যের প্রতিটি জেলা এখন নতুন সাজে সেজে উঠেছে এবং ঢাকের বাদ্যি ও ধুনুচি নাচের ছন্দে মেতে উঠেছে আপামর বাঙালি। আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত আপডেট ও সতর্কতা মেনে যদি সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা নিজেদের প্যান্ডেল হপিংয়ের রুটিন সাজিয়ে নেন, তবে এই সামান্য বৃষ্টিও উৎসবের আনন্দকে ফিকে করতে পারবে না। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঙালি তার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে মেতে উঠতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, এবং আগামী দিনে আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল হয়ে উঠবে এই আশাতেই দিন গুনছে গোটা রাজ্য।




