ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার হওয়া তৌকির আলম নামে এক তৃণমূল কর্মীর উপর পুলিশি হেফাজতে নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক মনগড়া বয়ান আদায়ের জন্য থানার ভিতরেই ওই যুবককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। মারের চোটে মাথায় গভীর ক্ষত নিয়ে বর্তমানে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে সংজ্ঞাহীন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তা এবং নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুন: অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ‘জোর করে দখল’ করেছে তৃণমূল! চাঞ্চল্যকর দাবি মালিকপক্ষের
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে নামাজ পড়ে বেরোনোর সময় তৌকিরকে গ্রেফতার করে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। এর পর তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বয়ান দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হয়। মারধরের জেরে যুবকের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা অবরোধ! মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন যুবকের শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন কুণাল ঘোষ, সাংসদ দোলা সেন এবং আইনজীবী অর্ক নাগ। কুণাল ঘোষ দাবি করেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এক জন সম্পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তি পুলিশি হেফাজতে গিয়ে কীভাবে এমন আশঙ্কাজনক ভাবে জখম হলেন, তার সম্পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট থানা ও ওসির উপর বর্তায় বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। হেফাজতে নির্যাতনের এই গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে রাজ্য প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।



