হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা অবরোধ করার অভিযোগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) মেগা সমাবেশে উপচে পড়া ভিড় এবং হাইকোর্টের গাইডলাইন ভাঙার অভিযোগ তুলেই পুলিশকে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: সাইনবোর্ডও রইল না তৃণমূলের! ‘অবৈধ’ দাবি করে অভিষেকের দফতরে পুরসভার অভিযান, পুলিশের সঙ্গে ধুন্ধুমার
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের সভামঞ্চের কাছেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্ট এই সভার জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছিল। নির্দেশ ছিল, যান চলাচলের জন্য রাস্তার একটি প্রান্ত সবসময় খোলা রাখতে হবে এবং জনসমাগমের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা মেনে চলতে হবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সভামঞ্চে পৌঁছন, তখন জনস্রোত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাস্তার অপর লেনটিও কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে যায়। আবেগতাড়িত কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট গাইডলাইন ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুরে আয়োজিত ‘১০,০০০ কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আজকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের নির্দেশ ভাঙলেন, তা সবাই দেখেছে। রাস্তার একটা অংশ ছেড়ে সভা করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু গাছের নিচ থেকে কয়েকটা লোককে ডেকে এনে রাস্তা আটকে ওঁরা কী করলেন! আমি পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি এফআইআর করতে এবং বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মুভ করতে।”
তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, মমতা বা অভিষেক উপস্থিত থাকলে সেখানে মানুষের ঢল নামবেই, নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে জমায়েত বেঁধে রাখা কার্যত অসম্ভব। শুক্রবার সভাস্থলে ভিড় এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, পরিস্থিতি সামলাতে একসময় খোদ মমতাই মাইক হাতে নিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। তাঁর নির্দেশে কুণাল ঘোষ-সহ অন্যান্য নেতারা রাস্তায় নেমে ভিড় সামলান এবং আটকে পড়া অ্যাম্বুল্যান্সকে দ্রুত পথ করে দেন। তৃণমূলের একাংশের প্রশ্ন, যেখানে খোদ নেত্রী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, সেখানে এই বিপুল জনসমর্থন দেখেই কি ভয় পেয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী? আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার উত্তেজনা চরমে।



