Abhijeet Dipke presser chaos: ‘স্টপ ইট, গেট লস্ট’! সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তুমুল হাঙ্গামা ও স্লোগান

Published:

Abhijeet Dipke presser chaos: নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হাঙ্গামায় দিল্লি বৈঠকে চরম বিশৃঙ্খলা, তেরঙ্গা মার্চের আগে উত্তাল রাজনৈতিক ময়দান

রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়

New Delhi: জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর প্রধান নেহা বোরার আয়োজিত যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বৃহস্পতিবার এক অপ্রত্যাশিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে নির্ধারিত ‘লেহরা দো তিরাঙ্গা’ কর্মসূচিকে সামনে রেখে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের (x Handle এর ভিডিও অনুযায়ি রিপাবলিক টিভি) কিছু প্রতিনিধি ও কর্মীরা সভাকক্ষে প্রবেশ করে ইচ্ছাকৃতভাবে এক চাঞ্চল্যকর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেন। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরাসরি আয়োজকদের দিকে আঙুল তুলে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে শুরু করেন যে তাঁরা ‘দেশবিরোধী কাজ করছেন’ এবং ‘সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন’। এই আচমকা আক্রমণ ও তীব্র প্রতিবাদের জেরে সংবাদমাধ্যমের সামনে দুই তরুণ নেতার যৌথ প্রেস কনফারেন্সের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।

Supreme Court EC notice: নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশ কুমারকে এবার নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট

সভাকক্ষের ভেতরে চলা সেই হাঙ্গামার সময় উপস্থিত ওই বিশেষ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বারবার উচ্চস্বরে ‘বন্ধ করো… দাফা হো যাও’ অর্থাৎ ‘স্টপ ইট, গেট লস্ট’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। এই পরিস্থিতিতে তীব্র অস্বস্তিকর ও উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হলে আইসা নেত্রী নেহা বোরা সঙ্গে সঙ্গে আয়োজক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের অত্যন্ত জোরালো নির্দেশ দেন যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ওই সাংবাদিকদের দ্রুত সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভিডিও ফুটেজেও পরিষ্কার ধরা পড়েছে যে কীভাবে ওই সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা সরাসরি আয়োজকদের মুখোমুখি হয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও নানা ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযোগ তুলছেন। কিছুক্ষণের জন্য চরম বিশৃঙ্খলা ও ধাক্কাধাক্কি চললেও পরে আয়োজকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুই নেতা নির্ধারিত বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন।

Advertisement Andaman Vibes
Advertisement of Andaman vibes

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন যে গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে দিল্লির বুকে ছাত্র-যুবরা লাগাতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন, কিন্তু প্রশাসন ও পুলিশ তাঁদের জোর করে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং পিনারাই বিজয়নের মতো দেশের একাধিক বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিশিষ্ট নেতারাও এই প্রতিবাদ আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসে আটক হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে অভিজিৎ দীপকে সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম উল্লেখ করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে দাবি করেছেন যে এই সমস্ত কঠোর দমনপীড়ন এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের ঘটনা কেবল ‘মাত্র একজন ব্যক্তির’ স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই করা হচ্ছে, আর সেই ব্যক্তি হলেন স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

Justice Kurian Joseph Election Commission: ‘নির্বাচন কমিশনারের বিশেষ সুবিধা ভোগ করা উচিত নয়’, জ্ঞানেশকে নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির

দীপক তাঁর বক্তব্যে আরও অভিযোগ করেন যে গত ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদের ডাক দেওয়ার পর থেকেই দিল্লি জুড়ে যেভাবে ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত করা হয়েছে এবং ৪৫ টিরও বেশি মেট্রো স্টেশন ও বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আটকে দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অতিরিক্ত বাহিনী এনে জাতীয় রাজধানীর বুকে একপ্রকার অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করা হলো। প্রশাসনের এই ধরনের দমনপীড়নমূলক নীতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করার সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত চলছে বলে সিজেপি প্রধান অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকারকে যেভাবে দমন করা হচ্ছে, তা একুশ শতকের ভারতে নজিরবিহীন।

Advertisement
Advertisement of Piyachanda Nritya Academy

এই যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আইসা নেত্রী নেহা বোরা গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন কভার করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, দ্য ক্যারাভান এবং দ্য কুইন্ট-এর মতো স্বনামধন্য গণমাধ্যমের রিপোর্টাররা যখন রাজপথে চলা পুলিশের দমনপীড়নের ছবি ক্যামেরাবন্দী করছিলেন, তখন তাঁদের স্পষ্ট প্রেস কার্ড থাকা সত্ত্বেও বেধড়ক মারধর করা হয়েছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটক করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া এবং কড়া ভাষায় হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে তুলেছেন। সমস্ত বাধা ও পুলিশি কড়াকড়ির পরেও আগামী শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির উদ্যোগে প্রস্তাবিত ‘লেহরা দো তিরাঙ্গা’ কর্মসূচি কোনোভাবেই পিছোচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement of S. Bhattacharya & Associate
Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img