Annapurna Yojana: বিধবা ভাতা নাকি অন্নপূর্ণা যোজনা? উপভোক্তাদের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কড়া নির্দেশ নবান্নের
KOLKATA: Annapurna Yojana বা অন্নপূর্ণা যোজনা এবং বিধবা ভাতা—রাজ্য সরকারের এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য এবার এক কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এবার থেকে উপভোক্তাদের বিধবা ভাতা অথবা অন্নপূর্ণা যোজনা—এই দুটির মধ্যে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পকে বেছে নিতে হবে। একই সঙ্গে দুটি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা আর কোনোভাবেই ভোগ করা যাবে না। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক (DM) এবং কলকাতা পুরসভার (KMC) কমিশনারকে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। রাজ্য সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই উপভোক্তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনিক স্তরেও ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তথ্যভাণ্ডারে এমন অনেক বিধবা মহিলার নাম রয়েছে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একই সঙ্গে বিধবা ভাতা এবং অন্নপূর্ণা যোজনা—উভয় প্রকল্পেরই সুবিধা পেয়ে আসছেন। বর্তমানে রাজ্য সরকারের বিধবা পেনশন বা বিধবা ভাতা প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তাদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মাসে ৩,০০০ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। দুই প্রকল্প মিলিয়ে একই উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের সরকারি টাকা জমা হচ্ছিল, যা সরকারি অনুদান বন্টনের নিয়মের পরিপন্থী। সেই কারণেই এবার নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তর এই দ্বৈত সুবিধা বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যে সমস্ত উপভোক্তা বর্তমানে দুটি সুবিধাই পাচ্ছেন, তাঁদের অবিলম্বে যেকোনো একটি প্রকল্প বেছে নিতে হবে এবং অন্যটি স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে হবে।
আরও পড়ুন: Rajya Sabha Election: বাংলা-সহ তিন রাজ্যে রাজ্যসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা! ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন
এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে লিখিত সম্মতি বা ডিক্লারেশন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাকে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, তিনি আগামী দিনে বিধবা পেনশন প্রকল্পই চালিয়ে যেতে চান, নাকি বিধবা পেনশনের সুবিধা সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দিয়ে কেবল অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার সুবিধা নিতে আগ্রহী। মৌখিক কোনো সম্মতি এক্ষেত্রে গ্রাহ্য হবে না, সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই লিখিত সম্মতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া বিধবা পেনশনভোগীদের একটি সম্পূর্ণ তালিকা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের নিজস্ব ‘সমর্থ’ (Samarth) পোর্টালে আপলোড করা রয়েছে। সেই তালিকা ধরেই এবার ব্লক ও পুরসভা স্তরের আধিকারিকদের কাজ শুরু করতে হবে।

‘সমর্থ’ পোর্টালে থাকা তালিকা অনুযায়ী, প্রতিটি উপভোক্তার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা তাঁদের পঞ্চায়েত ও পুরসভা অফিসে ডেকে তাঁদের পছন্দের অপশন সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। উপভোক্তারা যে প্রকল্পটিকে বেছে নেওয়ার পক্ষে নিজেদের লিখিত সম্মতি প্রদান করবেন, আধিকারিকদের সেই তথ্য আবার পোর্টালে নিখুঁতভাবে আপলোড করতে হবে। নবান্নের পক্ষ থেকে এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শেষ করার জন্য একটি অত্যন্ত কড়া ডেডলাইন বা সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর মধ্যে এই সম্মতিপত্র সংগ্রহের কাজ যেকোনো মূল্যে সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ না হলে প্রশাসনিক স্তরে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক এবং ন্যায্য বন্টন নিশ্চিত করতেই নবান্নের এই পদক্ষেপ। একই ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সুবিধা নিলে রাজ্যের প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছাতে বাধা তৈরি হয়। এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে সরকারি তহবিলের ওপর থেকে কিছুটা হলেও চাপ কমবে এবং সেই অর্থ দিয়ে নতুন উপভোক্তাদের এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির আওতায় আনা সম্ভব হবে। যেহেতু বিধবা ভাতার ১,৫০০ টাকার তুলনায় অন্নপূর্ণা যোজনায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩,০০০ টাকা পাওয়া যায়, তাই বেশিরভাগ উপভোক্তাই অন্নপূর্ণা যোজনা বেছে নেবেন বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের পর রাজ্য সরকার এই বিষয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে এবং তারপর থেকেই নতুন নিয়মে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট প্রকল্পের টাকা পাঠানো শুরু হবে।




