অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে এবার নতুন করে চর্চা তুঙ্গে। যোগ্য উপভোক্তারা টাকা পাচ্ছেন না, অথচ অযোগ্যদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাচ্ছে— এমন অভিযোগ জানানোর জন্য সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে একটি নতুন পোর্টাল চালু করা হয়েছিল। আর সেই পোর্টাল চালু হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বিরাট অঙ্কে পৌঁছে গিয়েছে। মূলত দুটি ক্ষেত্রে পোর্টালে অভিযোগ জানানো যাচ্ছে— প্রথমত, কোনো আবেদনকারী নিজেকে যোগ্য মনে করেও যদি টাকা না পান, এবং দ্বিতীয়ত, অযোগ্য কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের ওপর। সংশ্লিষ্ট জেলার বিডিও-রা (BDO) অভিযোগের শুনানি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা দ্রুত নিষ্পত্তি করবেন।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মেনে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পের টাকা পাওয়া এবং যোগ্য-অযোগ্য তালিকা যাচাই নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কথা। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার বা অনুমোদিত হওয়ার পরেও অনেকের টাকা ঢোকেনি। এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিকভাবে যাচাই করে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করার ওপর এখন জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য সরকার এখন অন্নপূর্ণা যোজনায় একদিকে বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং অন্যদিকে অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি সত্যি হলে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগ জমা পড়ার এই ঘটনা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে একটি বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। এখন দেখার, এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগ প্রশাসন কত দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারে এবং কতজন নতুন করে এই প্রকল্পের সুবিধা পান।



