Calcutta High Court on Book Stalls: জরুরি মামলার আর্জি খারিজ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে, নৈহাটি-বনগাঁ বুকস্টল জট বহাল
Kolkata: দুর্গাপুজোর আনন্দে যখন গোটা রাজ্য মেতে উঠেছে, ঠিক সেই সময়েই বুকস্টল খোলার অনুমতি না মেলায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বাম শিবির। কিন্তু দুর্গোৎসবের মরশুমে নৈহাটি ও বনগাঁয় বামেদের পক্ষ থেকে বুকস্টল বা বইয়ের স্টল করার অনুমতির দাবিতে দায়ের হওয়া জরুরি মামলার শুনানি করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে দুর্গাপুজোর আগে এই মামলার শুনানি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় এবং পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে এই ধরনের স্টলগুলি যেন পূজার পর বা কালীপুজোর আগে করা হয়। রাজ্য রাজনীতিতে যখন উৎসবের মরশুমে বুকস্টল এবং বই মেলার অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে, তখন হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে নৈহাটি এবং বনগাঁ এলাকায় প্রথাগতভাবে বুকস্টল দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিল বামপন্থী সংগঠনগুলি ও উদ্যোক্তারা। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে সেই অনুমতি সময়মতো না পাওয়ায় উদ্যোক্তারা আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বামেদের মামলাকারী আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতের সামনে যুক্তি দিয়ে জানান যে উদ্যোক্তাদের তরফে প্রতিবছরই দুর্গাপুজোর আগে এই ধরনের বুকস্টল বা বইয়ের প্রদর্শনী সফলভাবে করা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর প্রশাসনিক অসহযোগিতা এবং অনুমতির জট তৈরি হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আইনজীবী আদালতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি গ্রহণ করে দ্রুত আইনি নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান, যাতে পুজোর কদিন বুকস্টলগুলি নির্দিষ্ট জায়গায় চালু করা সম্ভব হয়।

কিন্তু মামলাকারী আইনজীবীর এই জরুরি শুনানির আবেদন শোনার পরই বেঞ্চের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারপতি পালটা প্রশ্ন তুলে জানতে চান যে প্রতি বছর পুজোর সময় এমন স্টল বসানোর সপক্ষে বামেদের কাছে বা উদ্যোক্তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈধ নথিপত্র বা আইনি অনুমতি রয়েছে কি না? যদি তা না থাকে, তবে কেন এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে এখনই মামলার বিশেষ অনুমতি দিতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এর পরেই বিচারপতি পরামর্শের সুরে মামলাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, পুজোয় নয়, তার বদলে এই বুকস্টলগুলি যেন ‘কালীপুজোর আগে করুন’। বিচারপতির এই মন্তব্যের পরই আইনি মহলে ও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
আদালতের এই কঠোর অবস্থানের পর মামলাকারী আইনজীবী শামিম আহমেদ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চকে জানান যে, যদি আদালতের এই মুহূর্তে এই মামলার শুনানির জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকে, তবে যেন এই মামলাটি এই বেঞ্চ থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে উদ্যোক্তারা অন্য কোনো উপযুক্ত বেঞ্চে গিয়ে চেষ্টা করতে পারেন। বেঞ্চ পরিবর্তন করার এই আর্জির প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে যে, আগামী ১৩ই অক্টোবর অর্থাৎ মঙ্গলবার এই আবেদনটি বিবেচনার সময় এই মামলাটি অন্য বেঞ্চে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর মরশুমে বামেদের বুকস্টল দেওয়া নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দিনকয়েক আগে বিরোধী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বুকস্টল ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নানা কড়া মন্তব্য শোনা গিয়েছিল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট শর্ত বা লেখার প্রসঙ্গ তুলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে কথার লড়াই শুরু হয়েছিল, তার জেরে এই বুকস্টল বিতর্ক আরও বেশি মাত্রা পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর পরিবেশে নৈহাটি ও বনগাঁর বুকস্টল নিয়ে আইনি জট আপাতত কাটল না বললেই চলে। হাই কোর্ট সরাসরি জরুরি মামলার আর্জি খারিজ করে দেওয়ায় এবং মামলা অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরিত করার বিষয়টি মঙ্গলবারের জন্য মুলতুবি রাখায় বাম শিবির ও উদ্যোক্তাদের আশার আলো আপাতত কিছুটা ম্লান হয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে পুজোর কদিন ওই নির্দিষ্ট স্থানগুলিতে বামেদের বইয়ের স্টল বসবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উৎসবের মরশুমে মতাদর্শ প্রচার এবং বই বিক্রির এই ঐতিহ্যবাহী উদ্যোগ প্রশাসনিক ও আইনি মারপ্যাঁচে আটকে যাওয়ায় বাম শিবিরের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এখন মঙ্গলবার হাই কোর্টের প্রধান বা অন্য কোনো ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে কী রায় দেয় এবং বুকস্টল সংক্রান্ত জট আদৌ কাটে কি না, সেটাই এখন দেখার প্রধান বিষয়।




