Calcutta High Court: তৃণমূলের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে পূর্ববর্তী নির্দেশ বহাল হাইকোর্টের! তবে ইডির নোটিসে নয়া আইনি জট
KOLKATA: Calcutta High Court বা কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাদের পূর্ববর্তী নির্দেশ বহাল রাখল। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আংশিক বা সীমিত পরিসরে আর্থিক লেনদেন করার যে অনুমতি দিয়েছিল, সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যেগুলিতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার বিপুল তহবিল গচ্ছিত রয়েছে, তা বিধাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা আচমকা ফ্রিজ করে দিয়েছিল। দলেরই এক বিক্ষুব্ধ শিবিরের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছিল পুলিশ। এর ফলে শাসকদলের দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং আইনি খরচ চালানো নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ ঘাসফুল শিবিরের কাছে সাময়িক হলেও এক বিশাল স্বস্তির খবর হিসেবেই উঠে এসেছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে দলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ, কর্মীদের বেতন এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিপুল খরচ মেটাতে আর কোনো বড় বাধা রইল না। 
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের এই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য একটি অত্যন্ত কড়া এবং স্বচ্ছ অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বা মেকানিজম তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর নির্দেশে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলার প্রক্রিয়াটি কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কড়া নজরদারিতে সম্পন্ন হবে। তাঁকে এই কাজের জন্য বিশেষ আধিকারিক বা স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান শিবিরের দুজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা অথরাইজড সিগনেটরি চেকে সই করবেন। এরপর সেই চেকগুলি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের কাছে জমা দিতে হবে। তিনি সমস্ত খরচের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার পর সেই চেকগুলিতে কাউন্টার-সাইন বা পাল্টা স্বাক্ষর করবেন এবং তবেই ব্যাঙ্ক সেই টাকা তোলার অনুমতি দেবে। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ আধিকারিককে ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রতি মাসে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা সাম্মানিক হিসেবে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে বিধাননগর পুলিশের দায়ের করা মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস আইনি ছাড় পেলেও, তাদের স্বস্তি পুরোপুরি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ, এই ঘটনার ঠিক সমান্তরালেই ময়দানে নেমে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)। আদালত যখন তৃণমূলকে এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলার ছাড়পত্র দিচ্ছে, ঠিক তখনই ইডি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ (PMLA)-এর আওতায় ওই একই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার নোটিস জারি করে। ইডির দাবি, তাদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, দলের তহবিল থেকে একটি বেসরকারি এভিয়েশন বা বিমান সংস্থায় বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা দিয়ে একটি চার্টার্ড বিজনেস জেট এবং একটি হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই ইডি তাদের তদন্তের স্বার্থে অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে কলকাতা হাইকোর্ট আংশিক লেনদেনের অনুমতি দিলেও, ইডির নির্দেশের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের একবার আইনি গেরোয় পড়তে হচ্ছে এবং ইডির এই নির্দেশের বিরুদ্ধে তাদের নতুন করে আদালতে যেতে হবে।
এই আইনি জটিলতা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর প্রবল রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে। দলের তরফে আদালতে একটি অতিরিক্ত হলফনামা পেশ করে জানানো হয়েছিল যে, অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকায় তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। দলের ২১৫ জন ডেস্কে বসা কর্মীর প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা বেতন বকেয়া পড়ে রয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তাকর্মীদের বকেয়া ৫ লক্ষ টাকা, অফিসের দৈনন্দিন খরচ, চেয়ার-টেবিল কেনা এবং যাতায়াত বাবদ ভেন্ডারদের পাওনা টাকা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় কথা, দলের বিরুদ্ধে চলা একগুচ্ছ মামলার আইনি খরচ মেটাতেও বিপুল টাকার প্রয়োজন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে হাইকোর্ট এই অত্যাবশ্যকীয় খরচগুলো মেটানোর রাস্তা খুলে দিলেও, ইডির জোড়া ধাক্কায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই ৪৪০ কোটি টাকার বিপুল তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে এবং ইডির তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, এখন বাংলার রাজনৈতিক মহল সেদিকেই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে।




