Chorbagan Stampede Death Toll: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৯, নিহতদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ, পরিস্থিতি সামাল দিতে ৭ জনকে গ্রেপ্তার পুলিশের
রিপোর্ট: নিউজ ডেস্ক
Kolkata: কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির জেরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক আপডেট অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৯ জন ব্যক্তি, যা দুর্গাপুজোর আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে বিষাদে পরিণত করেছে। কলকাতা ও শহরতলি ছাড়াও বিভিন্ন জেলা এমনকি ভিনরাজ্যের মানুষও এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রিয়তিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
Chorbagan Mishap: কলকাতায় দুর্গাপুজোর মধ্যেই বেনজির বিপর্যয়! কীভাবে ও কেন ঘটল চোরবাগানের ভয়াবহ ঘটনা?
পুজো আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে চোরবাগানের এই দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কলকাতার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা, আবার কেউ চাকদহ, বৈদ্যবাটী, নিউ ব্যারাকপুর, আরামবাগ, পূর্ব বর্ধমান, বরানগর, আগরপাড়া, নিউটাউন, পানিহাটি, হাওড়া কিংবা বিষ্ণুপুরের মতো বিভিন্ন জেলা ও শহরতলির মানুষ। এছাড়া ভিনরাজ্য বিহার থেকে আসা পুজোদর্শনার্থীরাও এই মর্মান্তিক মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ জনের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে রয়েছে আরতি সরকার বিশ্বাস (চাকদহ), শুভম সোনকার (জোড়াবাগান), শ্রীপর্ণা পোদ্দার (বৈদ্যবাটী), প্রিয়া সমাদ্দার (নিউ ব্যারাকপুর), মিঠু মণ্ডল (কুমোরটুলি), পিয়ালি প্রামাণিক (আরামবাগ), সন্দীপ বেজ (পূর্ব বর্ধমান), টগর বেজ (পূর্ব বর্ধমান), অভিষেক কুমার শ্রীবাস্তব (বিহার), আয়াংশ শ্রীবাস্তব (বিহার), দীপালি ঘোষ (বরানগর), প্রাঞ্জল সরকার (আগরপাড়া), আকৃতি কুমারি (বালি), বর্ণালী হালদার (নিউটাউন), তানিয়া বিশ্বাস (নিউটাউন), কল্পনা জানা (পানিহাটি), বিকাশ ভট্টাচার্য (হাওড়া) এবং স্নেহা ভাণ্ডারি (বিষ্ণুপুর)-এর নাম। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আর জি কর এবং এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে অনেককে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানে ১৪ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এবং নিহত ১৯ জনের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর থেকেই দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, ঘটনার সময় পর্যাপ্ত পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা ছিল না এবং আহতদের অনেককেই সাধারণ বেসরকারি গাড়ি বা ওলা-উবার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। এদিকে, অ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এবং গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পুজো কমিটির অপরিকল্পিত ভিড় সামলানোর ব্যর্থতা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবই যে এই মৃত্যুর মিছিল ডেকে এনেছে, তা নিয়ে এখন চারদিকে তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়ে চলেছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উৎসবের আবহে এই ধরনের বিপর্যয় প্রশাসনিক নিরাপত্তা এবং পুজো উদ্যোক্তাদের পরিকাঠামো নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, চোরবাগানের এই ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে একটি অত্যন্ত কলঙ্কিত ও কালো অধ্যায় হয়ে রইল। যাঁদের পরিবার এই ঘটনায় তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। আগামী দিনে এই ধরনের জনবহুল উৎসবে যাতে আর কখনো এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তার জন্য প্রশাসনকে আরও অনেক বেশি সতর্ক ও কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।




