কলকাতার ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গত শনিবার পার্ক স্ট্রিট চত্বরে ফুটপাতের পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ফুটপাতে উনুন জ্বালিয়ে শিশুর দুধ গরম করাকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধার সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হয়, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল পড়ে যায়। এবার সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট করলেন মন্ত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান যে, কোনো বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি, বরং সুরক্ষার খাতিরে তাঁদের ফুটপাত থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যস্ত রাস্তায় একটি ছোট বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে, এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তখন তার দায় কে নেবে? তাঁর দাবি, গত পনেরো বছর ধরে সাধারণ মানুষদের ফুটপাতে বসিয়ে রেখে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলা হয়েছে, তোলাবাজি করা হয়েছে, কিন্তু মানুষের জন্য কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি।

ফুটপাত সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে হাঁটাচলার জন্য, কোনোভাবেই বসবাসের জন্য নয় বলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমান সরকার একটি বিশাল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং তারা শহরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। হকার সরানো বা অবৈধ পার্কিং মুক্ত করার মতো কড়া পদক্ষেপে বিরোধীদের সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে তিনি কটাক্ষ করেন। তবে সরকার যে কারোর ব্যক্তিগত সুবিধা বা অসুবিধার কথা ভেবে কাজ করবে না, তা তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন।
শহরের বর্তমান পরিকাঠামো নিয়ে তিনি জানান যে, রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আনার চেষ্টা চলছে এবং শিল্পপতিদের সাথে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু শিল্পপতিরা এসে যদি শহরের যানজট এবং রাস্তার বেহাল দশা দেখেন, তবে তাঁরা বিনিয়োগে উৎসাহ হারাবেন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই আগামী অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। গত পনেরো বছরে বাংলার যে বেহাল দশা হয়েছে তা রাতারাতি কোনো মন্ত্রবলে ঠিক করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি জানান, সরকার নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর এবং সাধারণ মানুষ এই উন্নয়নমূলক কাজে তাদের পাশে থাকবেন বলেই তিনি আশাবাদী। এই বিষয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



