India Energy Week: রাজ্যের শিল্প এবং অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের মেগা জ্বালানি সম্মেলন ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক’ (India Energy Week 2027)। আগামী ২০২৭ সালের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত খাস কলকাতার বুকে অবস্থিত বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলনটি আয়োজিত হবে। সোমবার এই মেগা ইভেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা উপলক্ষে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। এই মেগা সম্মেলনের আয়োজক রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচিত হওয়ায়, গোটা দেশ এবং আন্তর্জাতিক শিল্প মহলের নজর এখন কলকাতার দিকে নিবদ্ধ হয়েছে। রাজ্যের দীর্ঘদিনের শিল্পখরা কাটিয়ে বাংলার মাটিতে এমন একটি বিশ্বস্তরের সম্মেলন আয়োজিত হওয়া নিঃসন্দেহে এক অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।

পূর্ব ভারতের কোনো রাজ্যে এই প্রথমবার এমন বিশাল মাপের আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন আয়োজিত হতে চলেছে, যা রাজ্যের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করেছে। এর আগে ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মেগা সম্মেলন মূলত গোয়া, বেঙ্গালুরু এবং দেশের রাজধানী দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রসঙ্গে প্রবল আশাপ্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, আগামী বছর কলকাতায় আয়োজিত হতে চলা এই মেগা ইভেন্টটি যদি সর্বাঙ্গীণভাবে সফল হয়, তবে রাজ্যে বর্তমানে যে সমস্ত মেগা শিল্প প্রকল্পগুলি চলমান রয়েছে, সেগুলির পরিধি ও গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পোন্নয়ন ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক নতুন মেগা কারখানার শিলান্যাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বিপুল অঙ্কের নতুন লগ্নিও আসতে শুরু করেছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনীতিকে এক সম্পূর্ণ নতুন এবং মজবুত দিশা দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন: E-Challan: ট্র্যাফিক জরিমানা না মেটালে জুড়বে বিদ্যুৎ বিলে! সুপ্রিম কোর্টের কড়া মেগা প্রস্তাব
দেশের অন্যান্য একাধিক উন্নত রাজ্যকে পিছনে ফেলে কেন এই মেগা ইভেন্টের জন্য পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতাকেই বেছে নেওয়া হলো, তার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং জোরালো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন তৈলক্ষেত্র ডিগবয়ের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের অবতারণা করেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তৈলক্ষেত্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে পূর্ব ভারতের এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাস রয়েছে। একটা সময়ে এই কলকাতাই ছিল দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এবং একাধিক মেগা শিল্পের মূল কেন্দ্র। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং পূর্ব ভারতের অপার সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে মেগা ইভেন্ট হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে এই গুরুদায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে কলকাতাকেই প্রধান ভরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

কলকাতাকে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের জন্য বেছে নেওয়ার নেপথ্যে অন্যতম মেগা অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের তৈলক্ষেত্রটি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এদিন বিশেষভাবে অশোকনগর তেল উত্তোলন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন, যা রাজ্যের জ্বালানি মানচিত্রে এক নতুন বিপ্লব এনেছে। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন বা আইওসি (IOC) এই অশোকনগরের বুকে তেল অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের কাজে বিপুল অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ করেছে। মন্ত্রী অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা এবং সদর্থক ভূমিকার কারণেই অশোকনগরে তেল উত্তোলনের এই মেগা কাজটি অত্যন্ত মসৃণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্প থেকে বাণিজ্যিকভাবে বৃহত্তর উৎপাদন শুরু হলে তার লভ্যাংশ এবং রয়্যালটি থেকে রাজ্যের নিজস্ব কোষাগারেও বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়বে, যা দিয়ে রাজ্যের আরও বৃহত্তর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। অশোকনগরের এই মেগা মডেলকে সামনে রেখেই আগামী দিনে জ্বালানি ক্ষেত্রে আরও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: SRFTI: ক্যাম্পাসে বহিরাগত তাণ্ডব! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ঋত্বিক, টলিউডের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ঊষসীর
আগামী ২০২৭ সালের এই মেগা সম্মেলনটি শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী বা আলোচনা সভাতেই আটকে থাকবে না, বরং এটি রাজ্যের সার্বিক অর্থনীতিতে এক বিরাট মাপের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তাবড় তাবড় শক্তি উৎপাদনকারী সংস্থা, মেগা বিনিয়োগকারী এবং শিল্পপতিরা কলকাতার বুকে পা রাখবেন, যার ফলে রাজ্যের আতিথেয়তা, পরিবহণ এবং পর্যটন শিল্পেও বিপুল আর্থিক জোয়ার আসবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের মেগা সুযোগ তৈরি করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। অশোকনগরের সাফল্যের হাত ধরে এবং গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পবান্ধব রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে, সেই মেগা স্বপ্নই এখন দেখছেন রাজ্যের আপামর সাধারণ মানুষ। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজিত হলে তা প্রমাণ করে দেবে যে বাংলা এখন শুধুমাত্র রাজনীতি নয়, বরং শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গোটা বিশ্বকে স্বাগত জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।




