Israel Bound Flight Attack: মাঝআকাশে রুদ্ধশ্বাস লড়াই! একশো চুয়াত্তর জনের প্রাণ বাঁচালেন পাইলট ও তিন যাত্রী
Israel Bound Flight Attack: আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রার ইতিহাসে এমন ভয়ংকর এবং শিউরে ওঠার মতো ঘটনা খুব কমই শোনা যায়। মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে উড়ন্ত বিমানের ককপিট আচমকাই পরিণত হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ক্ষেত্রে। ইজরায়েলগামী একটি যাত্রীবাহী বিমানে সহ-পাইলটের আচমকা হামলায় যখন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার গুরুতরভাবে জখম হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছিলেন, তখন বিমানে উপস্থিত একশো চুয়াত্তর জন সাধারণ যাত্রীর জীবন কার্যত চরম অনিশ্চয়তার মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল। এক অভূতপূর্ব সংকটের সামনে দাঁড়িয়েও নিজের অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেই অভিজ্ঞ ভারতীয় পাইলট। নিজের শরীরের মারাত্মক চোট এবং রক্তক্ষরণকে অগ্রাহ্য করে তিনি শেষ শক্তিটুকু প্রয়োগ করে ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। আর তাঁর এই সময়োচিত উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই সেদিন মাঝআকাশে নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে যায় গোটা বিমানটি।
![]()
ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পরপরই বিমানের ভেতরে থাকা যাত্রীরা যে অভূতপূর্ব সাহসিকতা এবং ঐক্যের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। ভারতীয় পাইলটের আর্তনাদ শুনে সাধারণ যাত্রীদের মধ্য থেকে কয়েকজন তাৎক্ষণিকভাবে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন হায়ুন নামের এক সাধারণ প্লাম্বার এবং ডক্টর শোটা মুসায়েভ নামের এক পেশাদার দন্ত চিকিৎসক। তাঁদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন তজভিকা মানেস, তালি মানেস এবং আসাফ রাজুয়ানের মতো আরও কয়েকজন যাত্রী। ককপিটের ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন যে সহ-পাইলট তখনও নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন। কালবিলম্ব না করে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে ওই ব্যক্তিকে জাপটে ধরেন এবং তাঁকে সম্পূর্ণ আয়ত্তে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে চিকিৎসক মুসায়েভ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে রক্তাক্ত পাইলটের রক্তপাত বন্ধ করতে প্রাথমিক চিকিৎসার কাজ শুরু করেন।

মাঝআকাশের ওই সংকটজনক মুহূর্তগুলো সাধারণ যাত্রীদের কাছে ঠিক কতটা ভয়ংকর এবং উদ্বেগজনক ছিল, তা পরবর্তী সময়ে তাঁদের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। বিমানের যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন যে, ককপিটের ভেতর থেকে যখন অস্বাভাবিক চিৎকার এবং ধস্তাধস্তির আওয়াজ ভেসে আসছিল, তখন গোটা কেবিনের ভেতর তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছিলেন না যে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে অথবা বিমানটি শেষ পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় মাটিতে নামতে পারবে কি না। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকে নিজেদের সিটে বসে কেবল বিধাতার কাছে প্রার্থনা করছিলেন। শিশু থেকে বয়স্ক—সকলের মনেই ছিল গভীর উৎকণ্ঠা। তবে সেই চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার মধ্যেও মুষ্টিমেয় কয়েকজন যাত্রী মাথা ঠান্ডা রেখে হামলাকারীকে কাবু করে যেভাবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন, তা এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিমানের ভেতরের প্রাথমিক উত্তেজনা কিছুটা থিতিয়ে আসার পর এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে পুরোপুরি আটকে রাখার পর বোঝা যায় যে নির্ধারিত গন্তব্যে বিমান নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। জরুরি পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিমানটিকে অবিলম্বে তার নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানে রানওয়েতে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা জরুরি উদ্ধারকারী দল এবং চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত বিমানে প্রবেশ করেন। গুরুতর আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীকালে ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ক্যাপ্টেনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন। পাইলটের এমন ক্ষিপ্র সিদ্ধান্ত এবং ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে যাত্রীদের ঢুকতে দেওয়ার এই সাহসী পদক্ষেপকে ইজরায়েল ও ভারতের বিভিন্ন মহল থেকে অকুণ্ঠ প্রশংসা জানানো হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই অভিযুক্ত সহ-পাইলটের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মাঝআকাশে তিনি কেন সহকর্মীর ওপর এমন মারাত্মক আঘাত করতে গেলেন, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে বিমানটি ধ্বংস করার একটি সম্ভাব্য চেষ্টা হিসেবে ধরে নিয়েই সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি হয়তো একাই এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো সুসংগঠিত বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সরাসরি প্রমাণ এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটিকে এখনই কোনো নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার আগে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ হওয়া এবং ব্ল্যাক বক্সের যাবতীয় তথ্য পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি।




