যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে এবার কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হল এবিভিপি, এডিআরএসএম এবং বিএমএস-এর মতো সংগঠনগুলি। গত ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনাকে সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করে তারা একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছে। এই সাংবাদিক বৈঠক থেকেই জানানো হয়েছে যে, আগামী ২৮ অগাস্ট খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন এবং সেখানে তিনি ‘বন্দে মাতরম’ গাইবেন। এই ঘোষণায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলা হয়েছে। অধ্যাপক ভাস্কর সরদার স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, নিয়ম না মেনে রাতের অন্ধকারে কারা জিবি মিটিং ডেকেছিল, তা অবিলম্বে চিহ্নিত করা দরকার। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। ওই মিটিংয়ের আড়ালে বহিরাগতদের প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ প্রকাশ করেছে তারা। ঘটনার দিন রাতে অরবিন্দ ভবনের সামনে কারা ভিড় জমিয়েছিল, তাদের মধ্যে পড়ুয়া ও বহিরাগত কতজন ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে পুলিশি নিরাপত্তার দাবিও এদিন জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ বরাবরই পুলিশ ফাঁড়ির বিরোধিতা করে আসছে। কারণ পুলিশি নজরদারি বাড়লে ক্যাম্পাসের ভেতরে মদ, বিড়ি, গাঁজা-সহ অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যাবে। আগামী দিনে যাতে ক্যাম্পাসে কোনো নিরীহ পড়ুয়া আক্রান্ত না হন এবং নতুন করে কোনো মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য আর্জি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক ভাস্কর সরদার। পরিস্থিতি এতটাই অশান্ত থাকলে সহ-উপাচার্য কীভাবে পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ দিলেন, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলের জেরেই এই সিদ্ধান্ত কি না, তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানানো হয়েছে। কতজন পড়ুয়া ওইদিন পরীক্ষা বাতিলের আবেদন করেছিলেন, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাও জনসমক্ষে আনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও, ফলক পুনঃস্থাপনের সময় সিপিএম নেতার উপস্থিতি এবং একটি বিশেষ ভিডিও ফুটেজ কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট অংশকে বদনাম করতেই চক্রান্ত করে এই ফুটেজ বাইরে আনা হয়েছে। পুলিশের সাহায্য ছাড়াই কীভাবে এমন ফুটেজ বাইরে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি এই সমস্ত ঘটনার একটি নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।



