Kalyan Banerjee: তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের বিজেপি নেতার
Rakesh Chakraborty, HOOGHLY: দীর্ঘ কয়েক বছর পর ফের রাজ্য রাজনীতিতে চর্চায় শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রাক্তন জামাই তথা বিজেপি নেতা কবীর শংকর বোস। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শ্রীরামপুরে ঘটে যাওয়া এক চরম উত্তেজনার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এবার খোদ সাংসদ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কবীর। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই আকাশ পাত্র নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাঁকে শ্রীরামপুর আদালতেও পেশ করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল অভিযোগ দায়ের ঘিরে স্বভাবতই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হুগলির রাজনৈতিক মহলে।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শ্রীরামপুরে তাঁর উপর যে ভয়াবহ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই সংগঠিত হয়। প্রায় দু’শো জন তৃণমূল কর্মী সেসময় তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। শুধু তাই নয়, বাড়ির সামনে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সন্ধ্যা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত তাঁকে কার্যত ঘেরাও করে রাখা হয়। সেই রাতে পুলিশকে সমস্ত বিষয়টি জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি বিজেপি নেতার। উল্টে সেই সময় কবীর শংকর বোসের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ প্রশাসন।
এরপর জল গড়ায় অনেক দূর। সেই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার পর অবশেষে সিবিআই জানিয়ে দেয় যে, বিজেপি নেতা কবীর শংকর বোস সম্পূর্ণ নির্দোষ। আইনি লড়াইয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার পর, এবার নিজের উপর হওয়া সেই চরম অন্যায়ের বিচার চেয়ে পাল্টা আইনি পথে হাঁটলেন তিনি। আজ শ্রীরামপুর থানায় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৃণমূল কাউন্সিলর পাপ্পু সিং (যিনি বর্তমানে হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি), রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র এবং ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান খান-সহ একাধিক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, কবীর শংকর বোসের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি একটি পারিবারিক সমীকরণও রয়েছে। কবীর হলেন তৃণমূল সাংসদের প্রাক্তন জামাই। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে দু’বার লড়াই করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ চার বছর আগের সেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ঘেরাওয়ের ঘটনায় নতুন করে সাংসদ এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় শ্রীরামপুরের রাজনীতিতে ফের একবার নতুন করে পারদ চড়তে শুরু করেছে।



