Lightning Hits IndiGO Flight: পটনা থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ভয়ঙ্কর বজ্রাঘাত, জরুরি অবতরণে রক্ষা পেলেন ১১০ জন
Lucknow: মাঝ আকাশে মাটি থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার সময় ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১টি যাত্রীবাহী বিমানে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ল মারাত্মক বাজ। বজ্রপাতের তীব্র অভিঘাতে বিমানের সামনের নাকের অংশ অর্থাৎ রোডোম বা রাডার কভারটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে ভেতরের দিকে তুবড়ে ঢুকে যায়। বুধবার আকাশপথে ঘটা এই ভয়ঙ্কর এবং রুদ্ধশ্বাস ঘটনার দৃশ্য ও ছবি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিমানটিতে সেই সময় ১০৪ জন সাধারণ যাত্রী এবং ৬ জন বিমানকর্মী মিলিয়ে মোট ১১০ জন সওয়ার ছিলেন। মাঝ আকাশে আচমকা এই চরম বিপত্তির মুখে পড়ার পরেও পাইলটের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি এবং পেশাদারি দক্ষতার জোরে ১টি নিশ্চিত ও ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। লখনউ বিমানবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে বিমানটিকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন চালক, যার ফলে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন বিমানের প্রতিটি যাত্রী ও কর্মী।
বিমানবন্দর ও ডিজিসিএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ৩টে বেজে ১০ মিনিটে বিহারের জয়প্রকাশ নারায়ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বিমানটি। বিমানটির সূচি অনুযায়ী বিকেল ৪টে বেজে ২০ মিনিটে লখনউয়ের চৌধুরী চরণ সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু বিমানটি যখন মাটি থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে মেঘের মধ্য দিয়ে উড়ছিল, ঠিক সেই সময়ই প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়ে এবং বিকট শব্দে বিমানের সামনের অংশে সরাসরি বাজ পড়ে। বজ্রপাতের তীব্র আঘাতে বিমানের কাঠামোগত ক্ষতি হয় এবং পাইলটরা তৎক্ষণাৎ বিপদের গভীরতা আঁচ করতে পেরে লখনউয়ের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি-র সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৮ মিনিট আগেই অর্থাৎ বিকেল ৪টে বেজে ৫ মিনিটে লখনউ বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানটিকে রানওয়েতে নিরাপদে নামিয়ে আনেন দক্ষ চালক।

বিমানের জরুরি অবতরণের খবর পাওয়া মাত্রই লখনউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়ে সংলগ্ন এলাকায় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছিল। তবে বিমানটি নিরাপদে মাটি ছোঁয়ার পর পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, সৌভাগ্যবশত কোনো যাত্রী বা বিমানকর্মী শারীরিক আঘাত পাননি, কিন্তু বিমানের সামনের অংশে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এই বিমানের ওপর ভর করে লখনউ হয়ে গুজরাতের আমদাবাদ পর্যন্ত যাওয়ার কথা ছিল বহু যাত্রীর। কিন্তু বিমানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যাত্রীদের তড়িঘড়ি লাউঞ্জে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে ১টি সম্পূর্ণ বিকল্প বিমানের বন্দোবস্ত করা হয়। এরপর সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে সন্ধ্যা ৬টা বেজে ২২ মিনিট নাগাদ সেই বিকল্প বিমানে করে যাত্রীদের তাঁদের গন্তব্যস্থল আমদাবাদের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আকস্মিক এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বিমান সংস্থার পাইলটকে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আতঙ্কিত যাত্রীরা।
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিতে রানওয়ে থেকে নিরাপদ হ্যাঙ্গারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা বা ডিজিসিএ-র বিশেষজ্ঞরা বিমানের সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে ১টি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছেন। বজ্রপাতের কারণে বিমানের সংবেদনশীল অভ্যন্তরীণ রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ ব্যবস্থা কিংবা কোনো প্রযুক্তিগত তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় মেরামতি এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি সম্পূর্ণ দূর করার পর নিয়ামক সংস্থার তরফ থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ছাড়পত্র বা ফিটনেস সার্টিফিকেট না মেলা পর্যন্ত ওই বিমানটিকে পুনরায় বাণিজ্যিক পরিষেবায় নামানো হবে না। মাঝ আকাশে এমন নজিরবিহীন বজ্রপাতের ঘটনা কীভাবে বিমানের সেন্সর এবং রাডারে আগে থেকে ধরা পড়ল না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আকাশে ওড়ার সময় আধুনিক বিমানগুলিতে সাধারণত ‘ফ্যারাডে কেজ’ প্রযুক্তির কারণে বজ্রপাত আঘাত হানলেও বিদ্যুৎ বাইরে দিয়েই চলে যায়, কিন্তু সরাসরি সামনের নাকের মতো নরম ফাইবার বা যৌগিক অংশে আঘাত লাগলে এমন মারাত্মক ডেন্ট বা দুমড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর আগেও চলতি বছরের গত ১৯শে জুন একই সংস্থার ১টি বিমানে বাজ পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ত্রিপুরার আগরতলার উদ্দেশে ওড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা ওই বিমানের পাওয়ার সিস্টেমে বজ্রপাত হয়। সেবারও বিমানে থাকা ১৪১ জন যাত্রী এবং ৬ জন কর্মী কোনোমতে রক্ষা পেয়েছিলেন এবং ২ জন গ্রাউন্ড স্টাফকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ১৭ হাজার ফুট উঁচুতে ওড়ার সময় এভাবে সশরীরে বজ্রাঘাতের শিকার হওয়া এবং অক্ষতভাবে মাটিতে ফিরে আসা নিঃসন্দেহে এক বিরাট মিরাকল বা অলৌকিক রক্ষা বলেই মনে করছেন বিমান বিশেষজ্ঞরা।



