কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে বেশ কয়েকদিন ধরেই জোর জল্পনা চলছে জাতীয় রাজনীতিতে। আর এই আবহেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। “আগের মতো আর কাজ করতে পারি না, নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে”— নাগপুরের একটি জনসভায় তাঁর এই মন্তব্যের পরই তাঁর রাজনৈতিক অবসর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন নিতিন গডকড়ী। তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেমন অনেক ওঠাপড়া দেখেছেন, তেমনই বহু সম্মানও পেয়েছেন। নাগপুরের ওই সভায় তিনি স্পষ্ট জানান যে, তাঁর জনসেবামূলক কাজকর্ম এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি বলেন, “এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। যখন পারতাম করতাম। আমার কাজ কমে এসেছে। নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। নতুন প্রজন্ম এসে গিয়েছে, আগের প্রজন্ম এখন তাদের পথনির্দেশ করছে।”
নিতিন গডকড়ীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন বিজেপির সংগঠনে বড়সড় রদবদল ঘটেছে। সম্প্রতি দলের সর্বভারতীয় স্তরে ৬৫ জন সদস্যের নতুন টিম ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫১ জনই একেবারে নতুন মুখ। বসুন্ধরা রাজে, রাম মাধব, স্মৃতি ইরানির মতো নেতারা বড় দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০১৫ সালে অমিত শাহ সভাপতি থাকাকালীন পরিবর্তনের পর সংগঠনে এত বড় রদবদল এই প্রথম। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সংগঠনের পর এবার নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভাতেও বড়সড় রদবদল হতে চলেছে, আর সেই কারণেই হয়তো গডকড়ী আগেভাগেই সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন।
তবে এই অবসরের ইঙ্গিতের নেপথ্যে দলের অন্দরের ক্ষোভ ও অন্তর্দ্বন্দ্বও দেখছেন অনেকে। ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদে থাকলেও সাম্প্রতিককালে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E-20) চালু করা নিয়ে তাঁকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকী, এই বিতর্কে দলের আইটি সেলের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। সূত্রের খবর, দলের সঙ্গে যুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠিও লিখেছেন তিনি। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন বেছে বেছে তাঁকেই নিশানা করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ গডকড়ী। সব মিলিয়ে তাঁর এই মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।



