Narendra Modi: ইডেনে দুর্গাপুজোর মেগা উদ্বোধনে নরেন্দ্র মোদি ও শুভেন্দু অধিকারী, থাকছে চোখধাঁধানো চমক
KOLKATA: Narendra Modi বা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এবার কলকাতার বুকে আয়োজিত হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক এবং মেগা অনুষ্ঠান। আগামী ১০ অক্টোবর, অর্থাৎ মহালয়ার পুণ্য লগ্নে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত হবে দুর্গাপুজোর এক বিরাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেই হাইভোল্টেজ মেগা ইভেন্টকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনার পারদ তুঙ্গে। জানা গিয়েছে যে, ওই দিন ইডেন গার্ডেন্সের সুবিশাল মঞ্চ থেকেই একযোগে শহরের পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী ও নামী দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান শুভেন্দু অধিকারীও। এই যুগান্তকারী অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য শুক্রবার ইডেন গার্ডেন্সে সিএবি কর্তাদের সঙ্গে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক শীর্ষ আধিকারিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশাসনিক স্তরে হওয়া এই মেগা সমন্বয় বৈঠকের পর ইডেনের অনুষ্ঠানের একটি বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ্যে এসেছে, যা শুনে শহরবাসীর উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ওইদিন সন্ধে সাতটা থেকে রাত আটটা বেজে কুড়ি মিনিট পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা প্রায় নব্বই মিনিট ইডেন গার্ডেন্সেই উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী। তবে মাঠে প্রবেশের আগেই সাধারণ মানুষের উন্মাদনা বাড়াতে রেড রোডে একটি বিশাল রোড শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পাশেই থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আরও জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে সনাতনী প্রথা মেনে উলুধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেওয়া হবে। অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাঠে প্রবেশ করবেন ইডেনের হোম টিমের ড্রেসিংরুম থেকে, আর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রবেশ করবেন অ্যাওয়ে টিমের ড্রেসিংরুম থেকে। এরপর একটি সুসজ্জিত গল্ফ কার্টে করে তাঁরা দু’জনে গোটা ইডেন গার্ডেন্স মাঠ প্রদক্ষিণ করে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করবেন।
এই মেগা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে এক চোখধাঁধানো ড্রোন এবং লেজার শো, যা এর আগে এই রাজ্যের মানুষ খুব একটা চাক্ষুষ করেননি। সিএবি বা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল-এর অন্দরমহল সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, গত বছর আমদাবাদে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে যে ধরনের অত্যাধুনিক এবং তাকলাগানো ড্রোন শো আয়োজিত হয়েছিল, ঠিক সেই ধাঁচেই ইডেন গার্ডেন্সে লেজার শোয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মও জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী যতক্ষণ মাঠে উপস্থিত থাকবেন, ততক্ষণ ইডেন চত্বরে কড়া জ্যামার লাগানো থাকবে। আর সেই জ্যামার চালু থাকার কারণে নিরাপত্তার খাতিরে সেই সময় কোনও ড্রোন ওড়ানো সম্ভব হবে না। তাই তাঁরা দু’জন মাঠ ছেড়ে নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক পরেই শুরু হবে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আলোর রোশনাই এবং আকাশজুড়ে বর্ণময় আতসবাজির প্রদর্শনী।
উদ্বোধনী এই মেগা অনুষ্ঠানের আগে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য বিকেল পাঁচটা থেকেই ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হয়ে যাবে এক বিরাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির এক অনবদ্য মেলবন্ধন ঘটাবে। এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নিতে চলেছেন প্রায় ছয় হাজার প্রতিভাবান শিল্পী, যা এক সর্বকালীন রেকর্ড হতে চলেছে। বিশিষ্ট সুরকার শান্তনু মৈত্রের নিপুণ পরিচালনায় এই মেগা সঙ্গীতানুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে। সেখানে গান গাওয়ার জন্য উপস্থিত থাকবেন শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য এবং কৌশিকী চক্রবর্তী দেশিকানের মতো বলিউডের ও বাংলার প্রথম সারির তারকা শিল্পীরা। এর পাশাপাশি, জনপ্রিয় লোকগানের ব্যান্ড দোহার এবং বাংলার নানা প্রান্ত থেকে আসা গ্রামীণ লোকসঙ্গীতের শিল্পীরাও এই মঞ্চে পারফর্ম করবেন। একই মঞ্চে লোকগীতি, সরস্বতী ও লক্ষ্মী স্তোত্র, রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং মহালয়ার সুরের এক অদ্ভুত মায়াজাল তৈরি হবে বলে আয়োজকদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
এই বিপুল আয়োজনের ব্যবস্থাপনা এবং দর্শকাসন নিয়ে সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এটি একটি বিরাট কর্মকাণ্ড হতে চলেছে এবং অতীতে ইডেন গার্ডেন্সে বড় ম্যাচ আয়োজনের যে অভিজ্ঞতা সিএবির রয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। দর্শকদের সুবিধার জন্য গোটা মাঠকে ভিভিআইপি, ভিআইপি এবং সাধারণ জোন—এই তিনটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হচ্ছে। এই মেগা অনুষ্ঠানে মোট পঁয়ত্রিশ হাজার দর্শক উপস্থিত থাকার সুযোগ পাবেন, যার মধ্যে আড়াই হাজার ভিভিআইপি অতিথিও থাকবেন। তবে সাধারণ দর্শকদের জন্য কোনো টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা থাকছে না, পুরো অনুষ্ঠানটিই হবে সম্পূর্ণ আমন্ত্রণমূলক। প্রশাসন এবং সিএবির এই যৌথ উদ্যোগে মহালয়ার দিন কলকাতার বুকে যে এক অভাবনীয় ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে, তা নিয়ে এখন থেকেই প্রহর গুনতে শুরু করেছেন আপামর রাজ্যবাসী।



