Naseeruddin Shah CJP Protest: নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মুম্বই! বিক্ষোভে নাসিরুদ্দিন শাহ
Naseeruddin Shah CJP Protest: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধী এবং নাগরিক সংগঠনগুলির আন্দোলন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। আর এই উত্তপ্ত আবহেই এক বিরাট চমক দেখা গেল বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে। ২রা অক্টোবর, পবিত্র গান্ধী জয়ন্তীর দিন তরুণ প্রজন্মের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র ডাকা এক গণবিক্ষোভে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন জানালেন বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। মুম্বইয়ের বিখ্যাত আজাদ পার্কে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করেন। দেশের ১ জন কিংবদন্তি অভিনেতাকে নিজেদের আন্দোলনের মাঝে আচমকা উপস্থিত হতে দেখে রীতিমতো অভিভূত হয়ে পড়েন খোদ আন্দোলনকারীরাও। অভিজিৎ দিপকে পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তাঁদের সাক্ষাতের ১টি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করে নিজের বিস্ময় এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান অভিনেতার উপস্থিতি আন্দোলনকারী যুবক-যুবতীদের মনোবল যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন: Gyanesh Kumar Resignation Protest: উত্তাল দিল্লি ও মুম্বই! পদত্যাগের দাবিতে চরম বিক্ষোভ
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের অভিযোগ তুলে বেশ কিছুদিন ধরেই দেশজুড়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া এবং কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলেছে সিজেপি। সেই দাবির ভিত্তিতেই শুক্রবার মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে ১টি বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে এই সংগঠনটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগেভাগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, জ্ঞানেশ কুমার যদি অবিলম্বে নিজের পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তবে এই আন্দোলন শুধুমাত্র বাণিজ্যনগরীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে ভগ্ন নয়। আগামী দিনে কলকাতা, গোয়া, বেঙ্গালুরু এবং রাঁচির মতো দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলিতেও এই বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতার দাবিতে এই আঞ্চলিক প্রতিবাদকে খুব দ্রুত ১টি সর্বভারতীয় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এই তরুণ প্রজন্মের সংগঠন।

গান্ধী জয়ন্তীর এই বিশেষ দিনটিকে সিজেপি-র তরফ থেকে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ দিবস হিসেবে পালন করার ডাক দেওয়া হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং যুবসমাজকে এই প্রতিবাদে শামিল হওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। এই ধরনের ১টি হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সেখানে নামিদামি ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে মুম্বই পুলিশ এবং প্রশাসন আগেভাগেই চূড়ান্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি এড়াতে শিবাজি পার্ক সংলগ্ন এলাকা এবং বিশেষ করে দাদর রেলওয়ে স্টেশনে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছিল প্রশাসন। তবে পুলিশের এই কড়াকড়ি সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের উদ্দীপনা এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি গোটা কর্মসূচিকে এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল।

সিজেপি-র এই যুব আন্দোলনের প্রতি নাসিরুদ্দিন শাহের এই সমর্থন কিন্তু একেবারেই নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে যখন এই সংগঠনটি রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিয়েছিল, তখনও তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ এবং ধরপাকড়ের তীব্র নিন্দা করে তিনি পুলিশের একাংশকে আমেরিকান আইসিই এজেন্টদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ১টি বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশের নেতৃত্ব নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের মতামত ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, দেশের নেতৃত্ব যদি কোনো অজ্ঞ ব্যক্তির হাতে থাকে, তবে সেই নেতা চাইবেন গোটা দেশই যেন তাঁর মতো অজ্ঞ, বোধহীন এবং হৃদয়হীন হয়ে ওঠে। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা এবং পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রাক্তনী এই অভিনেতা জানান, জীবনে অভিনয় শেখার চেয়েও তিনি তাঁর ছাত্রদের কাছ থেকে অনেক বেশি কিছু শিখেছেন। সেই ছাত্রদের ওপর এমন দমনপীড়ন দেখে তাঁর মনে গভীর সহানুভূতি এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে এই যুব সমাজের আন্দোলন আসলে দেশের ১টি বৃহত্তর নাগরিক অসন্তোষের অংশ হিসেবেই উঠে আসছে। নাসিরুদ্দিন শাহের এই মন্তব্য এবং মুম্বইয়ের এই প্রতিবাদ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন দেশের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরেও প্রতিবাদের পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। গত জুলাই মাসেই যন্তর মন্তরে ২১ দিন ধরে লাগাতার অনশনে বসেছিলেন প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী এবং সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সেই টানা ২১ দিনের অনশনের পর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে, ১৮ই জুলাই গভীর রাতে দিল্লি পুলিশ তাঁকে অনশন মঞ্চ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ সেই সময় জানিয়েছিল যে, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁর শারীরিক সুরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। আর এখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সিজেপি-র এই নতুন আন্দোলন এবং তাতে নাসিরুদ্দিন শাহের মতো মহীরুহের যোগদান, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে ঠিক কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




