Prashant Bhushan on Judiciary: আদালতের নীরব ভূমিকা বিপজ্জনক, মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রবীণ আইনজীবীর
নয়াদিল্লি: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর ক্ষয়িষ্ণু অবস্থা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় দেশের বিচারব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ ও বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। গত ১০ই অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তার মাধ্যমে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত জনবিরোধী নীতি ও পদক্ষেপগুলি দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে এবং এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে যা শেষ পর্যন্ত বিপ্লবের রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিচারালয় বা সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনাও করেছেন তিনি। রাজধানীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা তীব্র আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের নির্বিচারে আটক করার ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশান্ত ভূষণের এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রশান্ত ভূষণ তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, একটি সুস্থ ও সাবলীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থার মূল কাজ হলো সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সর্বতোভাবে রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় দেশের আদালতগুলি সেই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যখন একের পর এক সাংবিধানিক সংস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে, তখন বিচারব্যবস্থার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা দেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে তিনি মনে করেন। ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল হস্তান্তর নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বিচার বিভাগের একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুপস্থিত বলে তিনি দাবি করেছেন। সরকারের বিভিন্ন নীতি এবং বিচারালয়ের এই আপসকামিতা সাধারণ মানুষের মনে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা দিন দিন কমিয়ে দিচ্ছে বলে প্রবীণ এই আইনজীবীর অভিমত।

আরও পড়ুনঃ Orange Line Metro Timing: মঙ্গলবার থেকেই কমলা লাইনে মেট্রোর সময় বদল, কখন মিলবে প্রথম ও শেষ ট্রেন?
দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি জুড়ে যে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিচার ব্যবস্থার ওপরও। গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-যুবরা যখন রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, তখন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ধরপাকড় ও আটকের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের দমনপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যখন নাগরিক সমাজ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তখন কাঙ্ক্ষিত আইনি সুরক্ষা বা ন্যায়বিচার মিলছে না বলেই অভিযোগ তুলছেন অধিকার রক্ষা কর্মীরা। প্রশান্ত ভূষণ মনে করেন যে, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করার শেষ ভরসাস্থল হিসেবে আদালত যদি তার স্বাধিকার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারে, তবে গণতন্ত্রের ভিত সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়তে বাধ্য, যা দেশের অখণ্ডতার পক্ষে এক বিরাট হুমকি।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে, প্রশান্ত ভূষণের এই ধরনের সরাসরি আক্রমণ দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে এক গভীর আত্মবিশ্লেষণের সময় এনে দিয়েছে। অতীতেও সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করা এই প্রবীণ আইনজীবী যেভাবে সরাসরি বিচার বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তা আইনি মহলেও তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান সরকার যেভাবে বিরোধীদের কন্ঠস্বর রোধ করতে এবং বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাতে বিচার বিভাগের আরও অনেক বেশি দৃঢ় ও স্বাধীন ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল। কিন্তু আদালতের একাংশের অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান বা সরকারের প্রতি নমনীয় মনোভাব দেশের সাংবিধানিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, দিল্লির রাজপথে চলা তীব্র রাজনৈতিক আন্দোলন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীর এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনকে এক নতুন মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। সরকারের একরোখা নীতি এবং জনগণের মৌলিক প্রতিবাদের অধিকারের লড়াইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দায়িত্ব এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। প্রশান্ত ভূষণের এই ব্যক্তিগত মূল্যায়ন বা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কেবল বর্তমান সরকারের কার্যকারিতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং আগামী দিনে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে এক বিরাট সতর্কবার্তাও দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের এই সংকটময় মুহূর্তে দেশের আদালতগুলি আগামী দিনে কীভাবে নিজেদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে এবং সাধারণ মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে, এখন সেটাই দেখার সবচেয়ে বড় বিষয়।




