Puja Hotel Booking: পুজোয় পার্টনারের সঙ্গে হোটেল বা রুম ভাড়া নিচ্ছেন? এই বিষয়গুলো মাথায় না রাখলে পড়বেন চরম বিপদে
KOLKATA: Puja Hotel Booking বা পুজোর সময় পার্টনারের সঙ্গে হোটেল ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে অতিরিক্ত সতর্ক হতে হবে, নাহলে বড়সড় বিপদে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। আর এই উৎসবের মরশুমে শহরের কোলাহল থেকে দূরে বা ঠাকুর দেখার পর নিজেদের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য অনেক কাপল বা যুগলই হোটেল, রিসর্ট কিংবা হোমস্টে ভাড়া নিয়ে থাকেন। কিন্তু এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়েই একশ্রেণির প্রতারক চক্র এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা ফাঁদ পেতে বসে থাকে। বিশেষ করে অবিবাহিত যুগলদের ক্ষেত্রে হোটেল বা রুম ভাড়া নেওয়ার সময় পদে পদে বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে। সামান্য একটু অসতর্কতা বা সস্তায় রুম পাওয়ার প্রলোভন আপনার এবং আপনার পার্টনারের ব্যক্তিগত জীবনকে এক চরম অস্বস্তিকর এবং আইনি ঝামেলার মুখে ফেলে দিতে পারে। তাই পুজোর আনন্দে মেতে ওঠার আগে রুম বুকিং সংক্রান্ত কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা ভীষণ জরুরি।

প্রথমত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ‘কাপল ফ্রেন্ডলি’ (Couple Friendly) হোটেলের নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া। আমাদের দেশে প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে হোটেলে থাকা নিয়ে কোনো আইনি বাধা নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো সম্মতিপ্রাপ্ত যুগল একসঙ্গে রুম ভাড়া নিতে পারেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক হোটেলের নিজস্ব কিছু নিয়মকানুন থাকে এবং তারা অবিবাহিত যুগলদের রুম দিতে অস্বীকার করে। অনেক সময় বুকিং অ্যাপে ‘কাপল ফ্রেন্ডলি’ লেখা থাকলেও সরাসরি হোটেলে যাওয়ার পর ম্যানেজার বা কর্মীরা স্থানীয় অবিবাহিত যুগলদের হেনস্তা করেন বা অতিরিক্ত টাকার দাবি করেন। তাই রুম বুকিং করার পর সরাসরি হোটেলে ফোন করে তাদের পলিসি সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কথা বলে নেওয়া উচিত। কোনোভাবেই ভুয়া পরিচয়পত্র বা ফেক আইডি ব্যবহার করে রুম নেওয়ার চেষ্টা করবেন না, এতে পরবর্তীকালে পুলিশের তল্লাশিতে আপনি বড়সড় আইনি বিপাকে পড়তে পারেন। সর্বদা নিজেদের অরিজিনাল আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড সঙ্গে রাখুন।
আরও পড়ুন: Pulkit Mani: প্রধানমন্ত্রীকে মিমিক্রি করার জের! লাগাতার হুমকির মুখে উত্তরপ্রদেশে ৩টি শো বাতিল কমেডিয়ান পুলকিত মানির
দ্বিতীয়ত, বর্তমান সময়ে হোটেল বা রিসর্টে গোপন ক্যামেরার (Hidden Camera) আতঙ্ক এক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেক অসাধু হোটেল মালিক বা কর্মীরা বাথরুম, আয়না, এসি বা সিলিং ফ্যানের ফাঁকে অতি ক্ষুদ্র স্পাই ক্যামেরা লুকিয়ে রাখে। পরবর্তীকালে যুগলদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল করা হয় বা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। তাই পার্টনারের সঙ্গে হোটেলে ঢোকার পর সবচেয়ে আগে পুরো রুমটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চেক করা উচিত। ঘরের সমস্ত আলো নিভিয়ে স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে আয়না এবং সন্দেহজনক জায়গাগুলো পরীক্ষা করে দেখুন। এছাড়া বাজারে বা গুগল প্লে-স্টোরে হিডেন ক্যামেরা ডিটেক্টর অ্যাপ পাওয়া যায়, সেগুলোর সাহায্যেও ঘরটি স্ক্যান করে নিতে পারেন। যদি রুমের ভেতরে কোনো কিছুর ওপর আপনার সামান্যতম সন্দেহ হয়, তবে অবিলম্বে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান এবং প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য নিতে বা রুম পরিবর্তন করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না।

তৃতীয়ত, পুজোর সময় অতিরিক্ত ভিড় এবং চাহিদার সুযোগ নিয়ে অনলাইনে প্রচুর ফেক বা ভুয়া বুকিং চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, যেখানে নামমাত্র ভাড়ায় ফাইভ-স্টার মানের হোটেল বা রিসর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এই সমস্ত চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই কোনো যাচাই না করে অনলাইনেই ইউপিআই (UPI) বা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা বা অ্যাডভান্স পেমেন্ট করে দেন। কিন্তু পুজোর দিন সেখানে পৌঁছানোর পর দেখা যায় সেই ঠিকানায় আদতে কোনো হোটেলই নেই বা সেটি একটি সম্পূর্ণ ভুয়া ওয়েবসাইট ছিল। এই ধরনের অনলাইন প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে সর্বদা মেক মাই ট্রিপ (MakeMyTrip), গোআইবিবো (Goibibo), বা ওয়ো (OYO)-এর মতো পরিচিত এবং বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বুকিং করুন। সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো লিঙ্কে ক্লিক করে টাকা পেমেন্ট করার আগে সেই হোটেলের আসল ওয়েবসাইট এবং গুগল রিভিউ (Google Reviews) অবশ্যই খুব ভালোভাবে পড়ে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
সর্বোপরি, পার্টনারের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়ে সস্তার খোঁজে কোনো অপরিণত বা ঘিঞ্জি এলাকার অখ্যাত হোটেলে না যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কিছুটা বেশি টাকা খরচ হলেও নামীদামি এবং ভালো রেটিং যুক্ত হোটেলে বুকিং করুন, যেখানে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি এবং উপযুক্ত নিরাপত্তা রক্ষী থাকে। হোটেলের স্টাফদের আচরণ যদি সন্দেহজনক মনে হয়, তবে তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে বেরিয়ে আসুন। পুজোর সময় পুলিশ এবং প্রশাসন শহরের সমস্ত হোটেল ও লজগুলোতে কড়া নজরদারি চালায়। তাই নিজেদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র রাখা এবং কোনো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। পার্টনারের সঙ্গে সুন্দর এবং রোমান্টিক সময় কাটানোর জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ সবচেয়ে বেশি দরকার। তাই আবেগতাড়িত হয়ে তাড়াহুড়োয় কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে, ঠান্ডা মাথায় উপরের এই বিষয়গুলো যাচাই করে তবেই পুজোর রুম বুকিং চূড়ান্ত করুন। তাহলেই আপনার পুজোর দিনগুলো হয়ে উঠবে আনন্দদায়ক এবং নিশ্চিন্ত।




