Rahul Gandhi Abhishek Banerjee Jantar Mantar Slam: জাতীয় পতাকা ওড়ানোর দায়ে সিজেপি নেতাদের তিহাড় জেল, মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ রাহুল ও অভিষেকের
রিপোর্ট: নিজস্ব প্রতিনিধি
New Delhi: জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও উত্তেজনার জেরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই শীর্ষ নেতাকে তিহাড় জেলে পাঠানোর ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পুলিশের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশিকা ও নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে ব্যারিকেড টপকে ওই সংবেদনশীল চত্বরে প্রবেশ এবং সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপকে সরাসরি ‘ভীরুতা’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পাশাপাশি, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় সুর চড়িয়েছেন, যা জাতীয় রাজনীতির অন্দরে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী তাঁর অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি জোরালো পোস্ট করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনওদিনই অপরাধ হতে পারে না। দেশের যুবসমাজকে কেবল এই কারণে জেলে পোরা সম্পূর্ণভাবে একটি কাপুরুষোচিত মানসিকতার পরিচায়ক ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের ছাত্র সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাংবাদিক এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সমস্ত শরিক দল বিভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে আন্দোলন চালালেও সকলের মূল উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন—তা হলো সাধারণ নাগরিকদের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষা করা। তিনি দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেছেন যে যন্তর মন্তর ভারতের প্রতিটি সাধারণ মানুষের এবং এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থলকে তারা যেকোনো মূল্যে পুনরুদ্ধার করবেন।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করে দেশকে ‘পাকিস্তানফিড ভারত’ (Pakistanified Bharat) বলে মারাত্মক কটাক্ষ করেছেন। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন যে, নিজেদের স্বাধীন দেশের মাটিতে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অপরাধে আজ তথাকথিত ‘সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদীরা’ সাধারণ নাগরিকদের ধরে জেলে পুরছেন। এই ঘটনায় বিরোধী শিবিরের অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারাও পিছিয়ে থাকেননি। ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্টালিন ধৃত নেতাদের আইনি লড়াইয়ে সমস্ত রকম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এবং আম আদমি পার্টির নেতা তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন যে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা কবে থেকে দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধ হয়ে দাঁড়াল?
উল্লেখ্য, গত সোমবার দিল্লি পুলিশ আকস্মিক এক নির্দেশিকা জারি করে যন্তর মন্তর চত্বরকে দীর্ঘদিনের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল হিসেবে বাতিল করে দেয় এবং তার পরিবর্তে রাজধানীর দূরে তিনটি বিকল্প স্থান ঘোষণা করে। এর পরেই সিজেপি নেতারা কড়া পুলিশি পাহারা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। মূলত নির্বাচন কমিশনের বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির লাগাতার প্রতিবাদের ফলেই দিল্লি পুলিশ এই অতি কড়া অবস্থান নেয়। প্রশাসনের এমন দমনপীড়নমূলক নীতির ফলেই দেশের শীর্ষ বিরোধী নেতারা একজোট হয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয়েছেন।

শুধু রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চরম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। নাগপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন যে, ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলের জরুরি অবস্থার কুৎসিত দিনের ইতিহাসেও এমন ঘটনার সাক্ষী থাকতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, লুকোচুরি না করে যদি সত্যিই বুকে বল থাকে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা জারি করুন। সব মিলিয়ে, যন্তর মন্তরে আন্দোলন দমন ও সিজেপি নেতাদের তিহাড় জেলে পাঠানোর এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পারদ এখন চরম উত্তেজনায় ফুটছে এবং আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় আকার নিতে চলেছে।




