‘রাজনীতি চলবে নিজস্ব গতিতে, কেউ ছোট নয়’, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে কড়া বার্তা ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের

Published:

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও নিবিড় ও শক্তিশালী করতে আগ্রহী ভারত। রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে চললেও দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাণিজ্য প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই ইতিবাচক বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, রাজনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, জনগণের প্রাপ্য সুবিধা ও অধিকার নিশ্চিত করাই উভয় দেশের প্রাথমিক দায়িত্ব হওয়া উচিত।

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি যে সমতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, এদিন তা বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশই স্বাধীন, সার্বভৌম এবং অত্যন্ত গতিশীল। এই সম্পর্কে কেউ কারও থেকে বড় বা ছোট নয়, বরং দুই দেশই সমান মর্যাদার অধিকারী। এই সমতার ভিত্তিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তরুণ প্রজন্মের জন্য দেশে শান্তি নিশ্চিত করা গেলে সমৃদ্ধি আপনা থেকেই আসবে। মহাত্মা গান্ধীর দর্শন স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দরিদ্র মানুষের ওপর তার কী প্রভাব পড়বে তা সবসময়ে বিবেচনা করা উচিত।

দুই দেশের মধ্যে থাকা যেকোনো মতপার্থক্য বা দূরত্ব কমিয়ে আনতে বেসরকারি খাতের ভূমিকার কথাও এদিন উল্লেখ করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, বিশ্বের কোনো সরকারের পক্ষেই একার উদ্যোগে সমস্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়, তাই বেসরকারি খাতের সহযোগিতা একান্ত অপরিহার্য। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারত ও বাংলাদেশ— উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন প্রকল্প থেকে শুরু করে যৌথ বিনিয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগের ব্যবসা বিস্তারের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার ওপরও তিনি এই বৈঠকে জোর দিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান যে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতার কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এদিনের বৈঠকে সেই সমস্ত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছে। মূলত স্থলবন্দরগুলোকে পুরোপুরি কার্যকর করা, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রত্যাহারের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, ভারত বর্তমানে চীনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও বাড়াতে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাণিজ্যে গতি আনার চেষ্টাও চলছে। ভারতীয় হাইকমিশনারের এই ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনীতি নতুন মাত্রা পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশের এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img