Sabina Yasmin: কালিয়াচক থানায় সাবিনা ইয়াসমিনকে তলব এনআইএ-র! প্রাক্তন মন্ত্রীকে ঘিরে মালদহে মেগা চাঞ্চল্য
MALDA: Sabina Yasmin বা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মালদহের দাপুটে নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে কেন্দ্র করে এবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন এবং মেগা চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হলো। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA) হঠাৎ করেই তাঁকে তলব করেছে। জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে মালদহের কালিয়াচক থানায় হাজিরা দেওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খোদ একজন প্রাক্তন মন্ত্রী এবং শাসকদলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেত্রীকে সরাসরি এনআইএ-র তলব করার এই খবরে মালদহ জেলা থেকে শুরু করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উৎসবের ঠিক মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক শিবির। ঠিক কী কারণে এই মেগা তলব, তা নিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, এনআইএ-র আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা সমন পাঠিয়েছেন। এই নোটিশে তাঁকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট সময়ে কালিয়াচক থানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালদহের কালিয়াচক এলাকাটি এর আগেও একাধিকবার জাল নোট, বেআইনি অস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো গুরুতর জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য খবরের শিরোনামে এসেছে। আর এই ধরনের মেগা স্পর্শকাতর মামলাগুলির তদন্তভার সাধারণত এনআইএ-র হাতেই থাকে। তবে ঠিক কোন পুরনো বা নতুন মামলার প্রেক্ষিতে প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে এই তলব করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। এজেন্সির এই গোপনীয়তার কারণেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: Humayun Kabir: পুলিশের সামনেই মুকুন্দপুরে আক্রান্ত হুমায়ুন কবীর! পার্টি অফিস দখল ঘিরে ধুন্ধুমার
এই তলবের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে সুকৌশলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাবিনা ইয়াসমিন মালদহের মোথাবাড়ি এলাকার একচ্ছত্র নেত্রী এবং গোটা জেলার ভোটব্যাঙ্কের ওপর তাঁর এক বিরাট প্রভাব রয়েছে। সামনেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় উপনির্বাচন এবং পরবর্তীতে বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের আগে মালদহ জেলায় শাসকদলের সংগঠনকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি স্বাভাবিকভাবেই এই তলবকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ময়দানে নেমে পড়েছে এবং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে রাজনৈতিক মাইলেজ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সাবিনা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনআইএ কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্স বা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় দপ্তরে না ডেকে সরাসরি মালদহের কালিয়াচক থানাকেই বেছে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় কোনো ঘটনা বা মামলার সঙ্গে যুক্ত সাক্ষীদের বয়ান মেলাতে অথবা এলাকার ভৌগোলিক সমীকরণ বুঝতেই তদন্তকারীরা কালিয়াচক থানায় এই মেগা জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কালিয়াচক থানায় যাতে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার অবনতি না ঘটে, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। একজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থানায় হাজিরা দিতে এলে তাঁর অনুগামীদের ভিড় জমার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, তাই পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। সাবিনা ইয়াসমিন ওইদিন কালিয়াচক থানায় হাজিরা দিয়ে এনআইএ আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়। যদি তিনি হাজিরা দেন, তবে তদন্তকারীরা তাঁকে ঠিক কী ধরনের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেন এবং এই জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এই ঘটনা যে একটি মেগা টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এনআইএ-র এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে মালদহের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাবিনা ইয়াসমিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, তার চূড়ান্ত উত্তর পেতে ২৪ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।




