সাফল্য মানুষকে বিনয়ী করে তোলে, এমনটাই প্রচলিত প্রবাদ। কিন্তু বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াতের ক্ষেত্রে বিষয়টি যে সম্পূর্ণ বিপরীত, তা তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যেই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। নিজের দম্ভ এবং অহংকারের বশবর্তী হয়ে সমালোচকদের যেভাবে তিনি কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেছেন, তা দেখে অনেকেই মনে করছেন সাফল্যের দম্ভে তিনি কার্যত অন্ধ হয়ে গিয়েছেন। সোমবার দিল্লি বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি যে ভাষায় তাঁর সহকর্মী এবং সমালোচকদের অপমান করেছেন, তা একজন জনপ্রতিনিধি এবং শিল্পীর পক্ষে চরম লজ্জাজনক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সমালোচনার সুস্থ এবং যুক্তিপূর্ণ জবাব দেওয়ার বদলে কঙ্গনা অত্যন্ত উদ্ধতভাবে বলেন, “আগে আমার এক শতাংশ সফল হয়ে দেখাও, তারপর কথা বলবে।” তাঁর এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে এক চরম বিষাক্ত মানসিকতার প্রকাশ পেয়েছে। এর অর্থ কি কেবল সফল এবং ধনী ব্যক্তিদেরই মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে? শুধু তাই নয়, নিজের সমালোচকদের তিনি ‘ভুঁইফোঁড়’ এবং ‘ক্ষুধার্ত-নগ্ন’ (ভুখা-নাঙ্গা) বলে চরম কটাক্ষ করেছেন। একজন সংসদ সদস্য হয়ে সাধারণ মানুষ বা সহকর্মীদের প্রতি এমন অবমাননাকর শব্দ প্রয়োগ তাঁর রুচিহীনতারই পরিচয় দেয় বলে মত নেটিজেনদের।
বলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা আশুতোষ রানা, সোনু সুদ এবং তাপসী পান্নুর মতো সহকর্মীদের তিনি যেভাবে প্রকাশ্য জনসমক্ষে অপমান করেছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভিন্নমত বা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করার মতো মানসিকতা যে তাঁর বিন্দুমাত্র নেই, তা তাঁর আচরণেই স্পষ্ট। সোনু সুদ বা আশুতোষ রানার মতো অভিনেতাদের অবদানকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কঙ্গনা প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল নিজের জয়গান গাইতেই ব্যস্ত। তাপসী পান্নুকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে তিনি শালীনতার সমস্ত সীমা পার করেছেন।
অন্যদিকে, যোগগুরু বাবা রামদেবের মন্তব্যের বিরোধিতা করতে গিয়েও কঙ্গনা নিজের অহংকারের প্রদর্শন করেছেন। রামদেবের মন্তব্য হয়তো বিতর্কিত ছিল, কিন্তু তার জবাব দিতে গিয়ে কঙ্গনা যেভাবে সরাসরি রামদেবের পোশাক এবং সনাতন ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন, তা অনেকের কাছেই সস্তা রাজনীতির কৌশল বলে মনে হয়েছে। নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রমাণ করার এই মরিয়া চেষ্টা সাধারণ মানুষের চোখে তাঁকে আরও বেশি খাটো করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে কঙ্গনার এই অশালীন এবং দম্ভভরা আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ক্ষমতার দম্ভ এবং খ্যাতির অহংকার কি একজন মানুষকে এতটাই অন্ধ করে দেয় যে তিনি সাধারণ সৌজন্যবোধটুকুও ভুলে যান? বিতর্ক তৈরি করে খবরের শিরোনামে থাকার এই নোংরা কৌশল আগামী দিনে তাঁর ভাবমূর্তিকে কতটা কালিমালিপ্ত করবে, সেটাই এখন দেখার। কঙ্গনার এই কদর্য মন্তব্য এবং অহংকার নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।



