Samik Bhattacharya: জ্ঞানেশ কুমারকে পদ্মভূষণ দেওয়া উচিত! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশে দাঁড়িয়ে বিরাট দাবি শমীকের
KOLKATA: Samik Bhattacharya বা বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং জোরালো মন্তব্য করলেন। বর্তমানে যখন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গরমিলের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধীদের তুমুল বিক্ষোভ চলছে, ঠিক সেই উত্তাল আবহেই তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়াল ভারতীয় জনতা পার্টি। শমীক ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনের প্রধানের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে সাফ জানিয়েছেন যে, তাঁর অসামান্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে অবিলম্বে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টে চলমান আইনি বিতর্ক এবং রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতার এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বেশ কয়েকটি জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, চলতি বছরে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর (SIR) বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের যে বিশাল প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশন হাতে নিয়েছিল, তা এককথায় ঐতিহাসিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলেই রাজ্যে অনুপ্রবেশ এবং সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর বিষয়গুলি অনেকাংশে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিজেপির দাবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরা দীর্ঘদিন পর নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: Dipendu: সোনামণিকে ব্যাড টাচ রাজবীরের! বিগ বসের ঘরে মেজাজ হারিয়ে উগ্র রূপ দেখালেন শান্ত দীপেন্দু
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর মন্তব্যে আরও সংযোজন করে জানান যে, এবারের মেগা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে এমন অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন রাজ্যবাসী এর আগে খুব কমই দেখেছেন। অতীতে বাংলার নির্বাচনে যে মাত্রায় অশান্তি এবং বিরোধীদের ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠত, এবার কমিশনের কড়া নজরদারির কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে। মূলত নির্বাচন কমিশনের এই কঠিন প্রশাসনিক লড়াই এবং বাংলায় সুষ্ঠুভাবে ভোট করানোর কৃতিত্বকে সম্মান জানাতেই তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ দেওয়ার এই মেগা প্রস্তাব রেখেছেন।

প্রসঙ্গের বিশ্লেষণে উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে একটি সর্বভারতীয় প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদন ঘিরেই বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে বিগত বছরগুলিতে তদানীন্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় বিভিন্ন গোঁজামিল দেওয়ার অভিযোগ উঠত, সেখানে কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। মূলত মৃত মানুষ, স্থানান্তরিত ব্যক্তি, ডাবল-ট্রিপল এন্ট্রি এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়া এবং নতুন নাম তোলা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়।
আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ‘রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছয়নি বিল’! গুন্ডাদমন জল্পনা উড়িয়ে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
এই মেগা ভোটার তালিকা বিতর্ক এমন এক জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে খোদ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টকে এই বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত বৈধ এবং অবৈধ ভোটার নির্ণয়ের চূড়ান্ত দায়িত্ব অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বিহার সহ দেশের প্রায় ষোলোটি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নানা রাজনৈতিক তত্ত্ব, তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই জারি থেকেছে। এই গোটা আবহের মধ্যে সর্বভারতীয় দৈনিকটির বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পর শীর্ষ আদালতে কিছু জনস্বার্থ মামলাও নতুন করে রুজু হয়েছে। এই প্রবল ডামাডোলের মধ্যে শমীক ভট্টাচার্যের এই পদ্মভূষণ প্রদানের দাবি বিরোধীদের সমালোচনার আগুনে কার্যত ঘি ঢালার কাজ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




