Supreme Court: ১০ বিদ্রোহী বিধায়কের পদ খারিজ নিয়ে কড়া নির্দেশ! স্পিকারকে সময়সীমা সুপ্রিম কোর্টের
NEW DELHI: Supreme Court বা দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্যের ১০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া নির্দেশ জারি করল। দলত্যাগ বিরোধী আইনে ওই বিধায়কদের পদ খারিজ করার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার খোদ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের ওপরেই ন্যস্ত করল আদালত। তবে এই গোটা আইনি প্রক্রিয়াটি যাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে স্পিকারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডেডলাইন বা সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই মেগা নির্দেশের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে, বিশেষত দলত্যাগী শিবিরের অন্দরে নতুন করে প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতিতে এই নজিরবিহীন দলবদলের সূত্রপাত হয়েছিল বেশ কয়েক মাস আগে, যখন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চরম মতবিরোধের জেরে আড়াআড়ি ভাঙন দেখা দেয়। মূল দল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে মোট ১০ জন হেভিওয়েট বিধায়ক প্রকাশ্যে বিরোধী শিবির ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এ নিজেদের নাম লিখিয়েছিলেন। এই বিদ্রোহী নেতাদের তালিকায় অন্যতম চর্চিত নাম ছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও এভাবে প্রকাশ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার পরেই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণের মেগা সিদ্ধান্ত নেয় শাসকদল।

আরও পড়ুনঃ Vidya Balan: বিমানবন্দরে বিদ্যা-সিদ্ধার্থের উষ্ণ চুম্বন! মাখোমাখো প্রেমের ভিডিও ভাইরাল নেটপাড়ায়
এই দলত্যাগী বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মূল নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বর্ষীয়ান মন্ত্রী এবং পরিষদীয় নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। গত ৮ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভার স্পিকারের দ্বারস্থ হন এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন কড়াভাবে প্রয়োগ করে ওই ১০ জন দলবদলু নেতার বিধায়ক পদ অবিলম্বে খারিজ করার জন্য একটি ‘ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন’ দায়ের করেন। কিন্তু বেশ অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও স্পিকারের তরফ থেকে এই স্পর্শকাতর বিষয়টিতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, যার ফলেই বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তির আশায় জল গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত।

সোমবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, বিধায়কদের পদ খারিজ করার চূড়ান্ত সাংবিধানিক অধিকার একমাত্র বিধানসভার স্পিকারেরই রয়েছে। তাই আদালত নিজে থেকে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত স্পিকারের ওপর চাপিয়ে দেবে না। তবে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই স্পিকারকে এই পদ খারিজের আবেদনের ওপর নিজের চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন, তার মধ্যেই দলত্যাগীদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে হবে স্পিকারকে।

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া ডেডলাইন বা সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ফলে এখন রাজ্য রাজনীতির সমস্ত নজর বিধানসভার স্পিকারের দিকেই নিবদ্ধ হয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে তিনি আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে ঠিক কী মেগা সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপর নির্ভর করছে ওই ১০ জন বিদ্রোহী নেতার রাজনৈতিক কেরিয়ার। যদি স্পিকার তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করার নির্দেশ দেন, তবে ওই কেন্দ্রগুলিতে আগামী দিনে নতুন করে উপনির্বাচনের দামামা বেজে উঠবে। আপাতত স্পিকারের পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ দেখার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলার গোটা রাজনৈতিক মহল।




